বিনা ভোগান্তিতে পাসপোর্ট সংশোধন করার নিয়ম সহজ পদ্ধতি 2026

আপনার পাসপোর্টে যদি কোনো ভুল তথ্য থাকে বা কোনো তথ্য পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়, তাহলে পাসপোর্ট সংশোধন করার নিয়ম জানা অত্যন্ত জরুরি। পাসপোর্ট হলো আপনার আন্তর্জাতিক পরিচয়পত্র, এবং এতে সঠিক তথ্য না থাকলে বিদেশ ভ্রমণে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট সিস্টেম চালু হওয়ার পর সংশোধন প্রক্রিয়া অনেক সহজ এবং স্বচ্ছ হয়েছে। এই আর্টিকেলে আমরা আপনাকে পাসপোর্ট সংশোধনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করব।
ই-পাসপোর্ট সংশোধন কী এবং কেন প্রয়োজন হয়?
ই-পাসপোর্ট সংশোধন বলতে আপনার পাসপোর্টে লেখা যেকোনো ব্যক্তিগত তথ্য সঠিক করা বা পরিবর্তন করাকে বোঝায়। এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া যা বাংলাদেশ পাসপোর্ট অফিসের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
ভুল তথ্য সহ পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করলে কী সমস্যা হতে পারে? ইমিগ্রেশন অফিসারগণ আপনার পাসপোর্টের তথ্য অন্যান্য ডকুমেন্টের সাথে মিলিয়ে দেখেন। যদি মিল না খায়, তাহলে আপনাকে ফিরিয়ে দেওয়া হতে পারে বা দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হতে হতে পারে।
- ভিসা আবেদনে সমস্যা: ভিসা প্রসেসিং এ বিলম্ব হতে পারে বা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।
- বিমান ভ্রমণে বাধা: এয়ারপোর্টে চেক-ইন এ সমস্যা হতে পারে।
- আইনি জটিলতা: নকল ডকুমেন্ট সন্দেহে গুরুতর পরিণতি হতে পারে।
- ব্যাংকিং ও অন্যান্য সেবা: পাসপোর্টের তথ্য অন্যান্য আইডির সাথে না মিললে অনেক সেবা পাওয়া কঠিন হয়।
তাই সময়মতো পাসপোর্ট সংশোধন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন:
ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করার নিয়ম 2026
পাসপোর্টে কী কী তথ্য সংশোধন বা পরিবর্তন করা যায়?
বাংলাদেশের পাসপোর্ট অফিস নির্দিষ্ট কিছু তথ্যই সংশোধন করে থাকে। আপনার পাসপোর্টে যেসব তথ্য পরিবর্তন করানো যায় তা জানা প্রয়োজন।
নিজের নাম, পিতা-মাতার নাম ও স্বামী/স্ত্রীর নাম সংশোধন
আপনার নামে কোনো বানান ভুল থাকলে বা পিতা-মাতার নামে ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করানো যায়। বিবাহিত মহিলারা স্বামীর নাম যোগ করতে পারেন বা পরিবর্তন করতে পারেন। এই ক্ষেত্রে আপনাকে এনআইডি, জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট বা শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র জমা দিতে হবে।
জন্ম তারিখ বা বয়স সংশোধন (নতুন পরিপত্র অনুযায়ী)
জন্ম তারিখে কোনো ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা যায়। তবে এর জন্য প্রমাণপত্র হিসেবে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট বা এনআইডি থাকতে হবে। বড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের এফিডেভিটও লাগতে পারে।
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন
আপনি যদি নতুন ঠিকানায় চলে যান, তাহলে পাসপোর্টে আপনার বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন করাতে পারেন। এর জন্য সাধারণত ইউটিলিটি বিল বা ভাড়া চুক্তি দেখাতে হয়। স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করতে এনআইডি আপডেট করতে হয় প্রথমে।
আরও পড়ুন:
প্রবাসী আয় ১৯ দিনে ছাড়াল দুই বিলিয়ন ডলার
পেশা (Profession) ও বৈবাহিক অবস্থা (Marital Status) পরিবর্তন
আপনার পেশা বদলে গেলে বা বৈবাহিক অবস্থার পরিবর্তন হলে পাসপোর্টে সেটি আপডেট করানো যায়। বৈবাহিক অবস্থা পরিবর্তনের জন্য কাবিননামা বা তালাকনামা দেখাতে হয়।
পাসপোর্ট সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (Required Documents)
পাসপোর্ট সংশোধন করতে হলে নির্দিষ্ট কাগজপত্র জমা দিতে হয়। কোন ধরনের সংশোধনের জন্য কী কী ডকুমেন্ট লাগে তা জেনে রাখুন।
নাম ও বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে
নাম বা বয়স সংশোধনের জন্য নিম্নলিখিত ডকুমেন্ট প্রয়োজন:
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট। এতে আপনার সঠিক নাম ও জন্ম তারিখ থাকা চাই।
- জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট: জন্মের সময় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রদত্ত সার্টিফিকেট।
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ: স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট যাতে আপনার নাম ও জন্ম তারিখ আছে।
- বর্তমান পাসপোর্ট: আপনার বর্তমান পাসপোর্টের অরিজিনাল কপি।
বৈবাহিক অবস্থা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে
বিবাহ বা তালাক হলে পাসপোর্টে সেটি আপডেট করাতে হয়। এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হলো:
আরও পড়ুন:
অনলাইনে লেখালেখি করে আয় করার উপায় 2026
- কাবিননামা: বিবাহের ক্ষেত্রে কাজী বা নিবন্ধক থেকে প্রদত্ত কাবিননামা।
- তালাকনামা: তালাক হলে শরিয়ত বিচার কেন্দ্র বা আদালত থেকে প্রদত্ত তালাকনামা।
- স্বামীর NID: স্বামীর পরিচয় যাচাইয়ের জন্য।
- বর্তমান পাসপোর্ট।
পেশা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে
আপনার পেশা পরিবর্তন হলে সেটি পাসপোর্টে আপডেট করতে হয়। এর জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট:
- চাকরির আইডি কার্ড: কর্মচারীদের জন্য কোম্পানির আইডি কার্ড।
- ট্রেড লাইসেন্স: ব্যবসায়ীদের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রদত্ত লাইসেন্স।
- পেশাজীবী সনদ: ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী প্রভৃতির জন্য পেশাজীবী সংস্থার সনদ।
- বর্তমান পাসপোর্ট।
হলফনামা বা এফিডেভিট (নামের ব্যাপক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে)
যদি আপনার নাম বা বয়সে খুব বড় ধরনের পরিবর্তন থাকে এবং অন্য কোনো ডকুমেন্ট না থাকে, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের হলফনামা বা এফিডেভিট লাগে। এটি একটি আইনি ডকুমেন্ট যা আপনার দাবি সত্যিকারের তা প্রমাণ করে।
এফিডেভিট পেতে আপনাকে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে যেতে হবে এবং একজন আইনজীবীর সহায়তা নিতে হবে। সাধারণত এর খরচ ৫০০-১০০০ টাকার মতো।
অনলাইনে ই-পাসপোর্ট সংশোধন করার নিয়ম (ধাপে ধাপে নির্দেশনা)
বাংলাদেশে এখন পাসপোর্ট সংশোধনের জন্য সম্পূর্ণ অনলাইন সিস্টেম রয়েছে। এটি খুবই সহজ এবং স্বচ্ছ। আসুন জেনে নিই কীভাবে অনলাইনে আবেদন করতে হয়।
আরও পড়ুন:
১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে 5 টি সেরা মোবাইল ২০২৬
ধাপ ১: বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট পোর্টালে লগইন ও আবেদন ফরম পূরণ
প্রথমে আপনাকে বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট পোর্টাল (www.epassport.gov.bd) এ যেতে হবে। যদি আগে রেজিস্ট্রেশন না করে থাকেন, তাহলে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। আপনার ইমেইল এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।
লগইন করার পর আপনার ড্যাশবোর্ডে যাবেন। এখানে আপনি বিভিন্ন অপশন দেখবেন। আবেদন ফরম পূরণ করার সময় আপনার সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে দিন।
ধাপ ২: Re-issue বা Information Alteration অপশন নির্বাচন
আবেদন ফরমে দুটি প্রধান অপশন থাকে:
- Information Alteration: যদি শুধু তথ্য পরিবর্তন করতে চান (যেমন নাম, ঠিকানা, পেশা)।
- Re-issue: যদি সম্পূর্ণ নতুন পাসপোর্ট চান বা বড় ধরনের পরিবর্তন করতে চান।
Information Alteration অপশন বেছে নিন যদি শুধুমাত্র ছোট পরিবর্তন থাকে। এতে খরচ কম এবং সময়ও কম লাগে।
ধাপ ৩: সঠিক তথ্য প্রদান এবং অনলাইন সাবমিশন
এবার আপনাকে যেসব তথ্য পরিবর্তন করতে চান তা সঠিকভাবে পূরণ করুন। ফরমে আপনার পুরনো তথ্য এবং নতুন তথ্য উভয়ই দিতে হবে। সাবধানে প্রতিটি ফিল্ড চেক করুন।
সবকিছু ঠিক থাকলে সাবমিট বাটন ক্লিক করুন। আপনি একটি অ্যাপ্লিকেশন নম্বর পাবেন। এটি সংরক্ষণ করে রাখুন, কারণ এটি দিয়ে আপনি পরবর্তীতে আপনার আবেদনের অবস্থা জানতে পারবেন।
ধাপ ৪: আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংযুক্তকরণ
অনলাইন আবেদনের পর আপনাকে আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি বের করতে হবে। এই প্রিন্ট কপিতে একটি বারকোড থাকবে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এখন আপনার প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করুন এবং সেগুলো আবেদনপত্রের সাথে সংযুক্ত করুন। ডকুমেন্টগুলো ফটোকপি করে নিন এবং সেগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করুন।
পাসপোর্ট সংশোধন ফি কত এবং জমা দেওয়ার উপায়
পাসপোর্ট সংশোধন ফি নির্ভর করে আপনি কী ধরনের সেবা চান তার উপর। বাংলাদেশে তিন ধরনের ডেলিভারি সেবা রয়েছে – রেগুলার, এক্সপ্রেস এবং সুপার এক্সপ্রেস।
রেগুলার, এক্সপ্রেস এবং সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি ফি এর তালিকা
| সেবার ধরন | সময়সীমা | ফি (টাকা) |
|---|---|---|
| রেগুলার ডেলিভারি | ২১ দিন | ১০০০-১৫০০ |
| এক্সপ্রেস ডেলিভারি | ৭-১০ দিন | ২০০০-২৫০০ |
| সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি | ৩-৫ দিন | ৩৫০০-৪০০০ |
এই ফি শুধুমাত্র তথ্য পরিবর্তনের জন্য। যদি সম্পূর্ণ নতুন পাসপোর্ট পেতে চান (Re-issue), তাহলে ফি একটু বেশি হবে।
এ-চালান (A-Challan) বা ব্যাংকের মাধ্যমে ফি প্রদান পদ্ধতি
ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে আপনি এ-চালান পূরণ করে ব্যাংকে ফি জমা দিতে পারেন। প্রথমে অনলাইনে আবেদন করার পর আপনি একটি এ-চালান নম্বর পাবেন। এই নম্বর দিয়ে যেকোনো ব্যাংকে গিয়ে ফি জমা দিন।
ব্যাংক আপনাকে একটি পেমেন্ট রশিদ দেবে। এই রশিদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দিয়ে আপনি পাসপোর্ট অফিসে যাবেন।
বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে অনলাইনে পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার নিয়ম
এখন আপনি সরাসরি বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে অনলাইনে ফি জমা দিতে পারেন। এটি খুবই সুবিধাজনক এবং দ্রুত।
- বিকাশ: ই-পাসপোর্ট পোর্টালে লগইন করে ‘পেমেন্ট’ অপশনে যান। আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্ট দিয়ে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।
- নগদ: একই ভাবে নগদের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারেন।
- ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড: আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে পেমেন্ট করার সুবিধাও আছে।
পেমেন্ট সম্পন্ন হলে আপনি একটি পেমেন্ট কনফার্মেশন পাবেন। এটি প্রিন্ট করে রাখুন।
পাসপোর্ট অফিসে করণীয় (বায়োমেট্রিক ও ছবি প্রদান)
অনলাইন আবেদন এবং ফি জমা দেওয়ার পর আপনাকে পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে। এখানে আপনার বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
আপনার নিকটস্থ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যান। আপনার আবেদনপত্র, পেমেন্ট রশিদ এবং সমস্ত ডকুমেন্ট সাথে নিয়ে যান। অফিসে একজন কর্মচারী আপনার তথ্য যাচাই করবেন এবং আপনাকে বায়োমেট্রিক সংগ্রহ কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন।

বায়োমেট্রিক কেন্দ্রে আপনার:
- ফিঙ্গারপ্রিন্ট: দুই হাতের দশটি আঙুলের প্রিন্ট নেওয়া হয়।
- আইরিস স্ক্যান: চোখের আইরিস স্ক্যান করা হয়।
- ছবি: পাসপোর্ট সাইজের ছবি তোলা হয়। আপনি নিজের ছবি আনলে সেটি ব্যবহার করতে পারেন, অথবা অফিসে তোলাতে পারেন।
এই প্রক্রিয়া সাধারণত ১০-১৫ মিনিট সময় নেয়। সবকিছু ঠিক হলে আপনাকে একটি রসিদ দেওয়া হবে।
পাসপোর্ট সংশোধন হতে কত দিন সময় লাগে?
পাসপোর্ট সংশোধন কত দিন লাগে তা নির্ভর করে আপনি কোন ধরনের সেবা বেছে নিয়েছেন তার উপর। তিনটি ভিন্ন ডেলিভারি অপশন আছে:
- রেগুলার ডেলিভারি: সাধারণত ২১ দিন সময় লাগে। এটি সবচেয়ে সাশ্রয়ী অপশন।
- এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ৭-১০ দিনের মধ্যে আপনার পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন। এটি যারা তাড়াতাড়ি চান তাদের জন্য ভালো।
- সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি: মাত্র ৩-৫ দিনে পাসপোর্ট পাওয়া যায়। এটি জরুরি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
তবে এই সময়সীমা আনুমানিক। কখনো কখনো বিভিন্ন কারণে একটু বেশি সময় লাগতে পারে। যেমন – ডকুমেন্ট যাচাইয়ে সময় লাগা বা পুলিশ ভেরিফিকেশন।
অনলাইনে ই পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করবেন কীভাবে?
আপনার পাসপোর্ট রেডি হয়েছে কিনা তা জানতে অনলাইনে স্ট্যাটাস চেক করতে পারেন। এটি খুবই সহজ।
বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট পোর্টালে (www.epassport.gov.bd) যান। আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। ‘ট্র্যাক অ্যাপ্লিকেশন’ বা ‘স্ট্যাটাস চেক’ অপশনে ক্লিক করুন।
এখানে আপনার অ্যাপ্লিকেশন নম্বর বা ডেলিভারি স্লিপ নম্বর প্রবেশ করান। কিছু সেকেন্ডের মধ্যে আপনার আবেদনের সম্পূর্ণ অবস্থা দেখতে পাবেন।
- Submitted: আপনার আবেদন জমা হয়েছে।
- Under Process: আপনার আবেদন প্রক্রিয়াধীন।
- Ready for Delivery: পাসপোর্ট তৈরি হয়েছে এবং ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত।
- Delivered: পাসপোর্ট আপনার কাছে পৌঁছে গেছে।
আপনি চাইলে এসএমএস এর মাধ্যমেও স্ট্যাটাস আপডেট পেতে পারেন। পোর্টালে নোটিফিকেশন সেটিংস অন করে রাখুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
এনআইডি ছাড়া কি পাসপোর্ট সংশোধন করা যায়?
এনআইডি ছাড়া পাসপোর্ট সংশোধন করা খুবই কঠিন। কারণ এনআইডি হলো সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরিচয়পত্র। তবে যদি এনআইডি না থাকে, আপনি জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট বা শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ দিয়ে চেষ্টা করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে পাসপোর্ট অফিস অতিরিক্ত ডকুমেন্ট চাইতে পারে।
পাসপোর্টে বয়স কত বছর পর্যন্ত কমানো বা বাড়ানো যায়?
সাধারণত ১-২ বছরের মধ্যে বয়স পরিবর্তন করা যায়। তবে যদি বয়সে বড় ধরনের পার্থক্য থাকে (যেমন ৫ বছর বা তার বেশি), তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের এফিডেভিট লাগবে। এছাড়াও পুলিশ ভেরিফিকেশন হতে পারে।
পাসপোর্ট সংশোধনের জন্য কি পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে?
সাধারণ সংশোধনের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না। তবে বড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে (যেমন নাম সম্পূর্ণ বদলানো বা বয়সে বড় পার্থক্য) পাসপোর্ট অফিস পুলিশ ভেরিফিকেশনের আবেদন করতে পারে। এটি সাধারণত ৭-১০ দিন সময় নেয়।
পাসপোর্ট সংশোধনের সময় আমার পুরনো পাসপোর্ট কি বাতিল হয়ে যাবে?
যদি আপনি Information Alteration অপশন বেছে নেন, তাহলে আপনার পুরনো পাসপোর্ট সংশোধিত হবে এবং নতুন পাসপোর্ট দেওয়া হবে। পুরনো পাসপোর্ট আর ব্যবহার করা যাবে না। তবে যদি পাসপোর্টে ভিসা আছে, তাহলে সেগুলো নতুন পাসপোর্টে স্থানান্তর করা হয়।
বিদেশে থাকলে পাসপোর্ট সংশোধন করা যায় কি?
হ্যাঁ, বিদেশে থাকলেও আপনি অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। তবে বায়োমেট্রিক সংগ্রহের জন্য আপনাকে বাংলাদেশের নিকটস্থ দূতাবাস বা কনসুলেটে যেতে হবে। কিছু দূতাবাসে বায়োমেট্রিক সুবিধা নেই, তাই আগে যোগাযোগ করে নিন।
লেখকের শেষ কথা
পাসপোর্ট সংশোধন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া যা আপনার ভবিষ্যতের বিদেশ ভ্রমণকে সহজ করে তোলে। আমরা আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাকে পাসপোর্ট সংশোধন করার নিয়ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা দিয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান ই-পাসপোর্ট সিস্টেম অত্যন্ত আধুনিক এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব। অনলাইনে আবেদন থেকে শুরু করে পাসপোর্ট গ্রহণ পর্যন্ত সবকিছু স্বচ্ছ এবং সহজ। যদি আপনার পাসপোর্টে কোনো ত্রুটি থাকে, তাহলে দেরি না করে আজই সংশোধনের আবেদন করুন। মনে রাখবেন, সঠিক তথ্য সহ পাসপোর্ট আপনার আন্তর্জাতিক পরিচয়ের প্রতীক এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




