ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করার নিয়ম 2026

আপনি যখন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন, তখন আপনার মনে একটি প্রশ্ন থাকে—আমার পাসপোর্ট কোথায় আছে? এটি কি পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর্যায়ে আছে, নাকি প্রিন্টিংয়ের জন্য প্রস্তুত? ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করার নিয়ম জানা থাকলে আপনি যেকোনো সময় অনলাইনে বা এসএমএসের মাধ্যমে এই তথ্য পেতে পারেন। এই আর্টিকেলে আমরা ২০২৬ সালের সবচেয়ে আপডেটেড এবং সহজ পদ্ধতিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক (Passport Status Check) কেন করবেন?
পাসপোর্ট আবেদন করার পর আপনার দরখাস্ত বিভিন্ন পর্যায়ে যায়। প্রথমে এটি অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে, তারপর পুলিশ ভেরিফিকেশন, তারপর প্রিন্টিং এবং অবশেষে ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত হয়। এই প্রতিটি পর্যায়ে আপনি যদি জানতে পারেন আপনার পাসপোর্ট কোথায় আছে, তাহলে আপনি অপ্রয়োজনীয় চিন্তা থেকে মুক্ত থাকবেন।
পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করা গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলো হলো:
- আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানতে পারবেন
- কোনো সমস্যা থাকলে আগে থেকেই জানতে পারবেন
- ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত থাকতে পারবেন
- পাসপোর্ট অফিসে অপ্রয়োজনীয় যোগাযোগ এড়াতে পারবেন
- আপনার সময় এবং অর্থ সাশ্রয় করতে পারবেন
অনলাইনে ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করার সহজ নিয়ম ২০২৬
অনলাইনে ই পাসপোর্ট চেক ২০২৬ করার জন্য আপনাকে কয়েকটি সহজ ধাপ অনুসরণ করতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুত এবং ঘরে বসে করা যায়। আপনার কাছে যদি অ্যাপ্লিকেশন আইডি বা অনলাইন রেজিস্ট্রেশন আইডি থাকে, তাহলে আপনি সরাসরি স্ট্যাটাস দেখতে পারবেন।
আরও পড়ুন:
মালয়েশিয়া কলিং ভিসা 2026। সর্বশেষ আপডেট ও নিয়ম
১. অফিশিয়াল ই-পাসপোর্ট পোর্টালে প্রবেশ
সবচেয়ে প্রথম কাজ হলো বাংলাদেশের অফিশিয়াল ই-পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে যাওয়া। আপনার ব্রাউজার খুলুন এবং সার্চ করুন “Bangladesh e-Passport Online Status” অথবা সরাসরি পাসপোর্ট অফিসের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। ওয়েবসাইটের হোমপেজে আপনি “Check Passport Status” বা “পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করুন” লেবেলযুক্ত একটি বাটন বা লিঙ্ক পাবেন।

২. অ্যাপ্লিকেশন আইডি বা অনলাইন রেজিস্ট্রেশন আইডি (Application ID) প্রদান
পাসপোর্ট অফিসের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর আপনাকে একটি ফর্ম দেখতে পাবেন। এই ফর্মে আপনাকে আপনার অনলাইন রেজিস্ট্রেশন আইডি বা অ্যাপ্লিকেশন আইডি প্রবেশ করাতে হবে। এই আইডিটি আপনি আপনার আবেদনের সময় পেয়েছিলেন এবং এটি আপনার ডেলিভারি স্লিপে বা কনফার্মেশন ইমেইলে লেখা থাকবে।
যদি আপনার কাছে এই আইডি না থাকে, তাহলে আপনার এনআইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার করে খুঁজে বের করতে পারবেন। কিছু পোর্টালে এই সুবিধা রয়েছে।
৩. জন্ম তারিখ (Date of Birth) সিলেক্ট করা
অ্যাপ্লিকেশন আইডি প্রবেশ করার পর আপনাকে আপনার জন্ম তারিখ নির্বাচন করতে বলা হবে। এটি একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাতে কেউ অন্যের পাসপোর্ট তথ্য জেনে নিতে না পারে। আপনার জন্ম তারিখটি সঠিকভাবে পূরণ করুন, কারণ ভুল তথ্য দিলে সিস্টেম আপনার স্ট্যাটাস দেখাবে না।
আরও পড়ুন:
প্রবাসী আয় ১৯ দিনে ছাড়াল দুই বিলিয়ন ডলার
৪. ক্যাপচা (Captcha) পূরণ এবং স্ট্যাটাস দেখা
তারপর আপনাকে একটি ক্যাপচা কোড পূরণ করতে হবে। এটি একটি নিরাপত্তা পরীক্ষা যা নিশ্চিত করে যে আপনি একটি মানুষ এবং কোনো বট নন। ক্যাপচা পূরণ করার পর “Check Status” বা “স্ট্যাটাস দেখুন” বাটনে ক্লিক করুন।

এখন আপনার সামনে আপনার পাসপোর্টের বর্তমান স্ট্যাটাস প্রদর্শিত হবে। এটি বিভিন্ন পর্যায়ে থাকতে পারে, যেমন “Pending Police Verification” বা “Sent to Print”। স্ট্যাটাস পেজটি প্রিন্ট করে রেখে দিন, এটি আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে।
মোবাইল থেকে SMS এর মাধ্যমে পাসপোর্ট চেক করার উপায়
যদি আপনার কাছে ইন্টারনেট সুবিধা না থাকে বা আপনি একটি সাধারণ বাটন ফোন ব্যবহার করেন, তাহলেও আপনি এসএমএসের মাধ্যমে আপনার পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। এটি একটি অত্যন্ত সহজ এবং সাশ্রয়ী পদ্ধতি।
SMS এর মাধ্যমে পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম:
- আপনার মোবাইল ফোনের মেসেজিং অ্যাপ খুলুন
- একটি নতুন মেসেজ তৈরি করুন
- নিচের ফরম্যাটে টাইপ করুন: MRP <space> EID (এখানে MRP এর জায়গায় আপনার রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং EID এর জায়গায় আপনার এনআইডি নম্বর দিন)
- উদাহরণ: MRP 123456789 EID 1234567890
- এই মেসেজটি পাঠান 16123 নম্বরে
কয়েক মিনিটের মধ্যে আপনি একটি রিপ্লাই মেসেজ পাবেন যেখানে আপনার পাসপোর্টের বর্তমান স্ট্যাটাস লেখা থাকবে। এই পদ্ধতিটি passport check by sms bangladesh এর জন্য অফিশিয়ালি স্বীকৃত এবং বিশ্বস্ত।
মনে রাখবেন, এসএমএস পাঠানোর জন্য আপনাকে একটি ছোট চার্জ দিতে হতে পারে, যা সাধারণত ৫ টাকা থেকে ১০ টাকার মধ্যে হয়। এটি আপনার মোবাইল অপারেটরের উপর নির্ভর করে।
বিভিন্ন পাসপোর্ট স্ট্যাটাসের অর্থ কী? (Passport Status Meanings Explained)
যখন আপনি আপনার পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করবেন, তখন আপনি বিভিন্ন ধরনের স্ট্যাটাস দেখতে পাবেন। প্রতিটি স্ট্যাটুসের একটি নির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে এবং এটি বলে যে আপনার পাসপোর্ট এখন কোন পর্যায়ে আছে। আসুন এই স্ট্যাটাসগুলো একটি একটি করে বুঝে নিই।
Enrollment Incomplete / Pending
এই স্ট্যাটাসটি দেখা যায় যখন আপনার অনলাইন আবেদন সম্পূর্ণ হয়নি। এর মানে হলো আপনি অনলাইনে আবেদন শুরু করেছেন, কিন্তু সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য এবং ডকুমেন্ট আপলোড করেননি। এই অবস্থায় আপনাকে অবিলম্বে পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করতে হবে এবং আপনার আবেদন সম্পূর্ণ করতে হবে।
আরও পড়ুন:
বিনা জামানতে বিকাশ থেকে লোন নেওয়ার উপায়
Pending Police Verification
এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। যখন এই স্ট্যাটাস দেখা যায়, তার মানে হলো আপনার আবেদন পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ আপনার পটভূমি যাচাই করবে এবং নিশ্চিত করবে যে আপনি একজন সৎ নাগরিক। এই প্রক্রিয়াটি সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিন সময় নেয়, তবে কখনো কখনো এটি আরও বেশি সময় লাগতে পারে।
Sent to Print / Under Printing
যখন এই স্ট্যাটাস দেখা যায়, তার মানে হলো আপনার পাসপোর্ট এখন প্রিন্টিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে বা প্রিন্টিং প্রক্রিয়া চলছে। এই পর্যায়ে আপনার পাসপোর্ট ফিজিক্যাল ডকুমেন্ট হিসেবে তৈরি হচ্ছে। এটি সাধারণত ৩ থেকে ৭ দিন সময় নেয়।
Passport is Ready for Issuance / Pending Delivery
এটি সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক স্ট্যাটাস। যখন এই স্ট্যাটাস দেখা যায়, তার মানে হলো আপনার পাসপোর্ট সম্পূর্ণভাবে তৈরি হয়েছে এবং এখন ডেলিভারির জন্য অপেক্ষা করছে। আপনাকে পাসপোর্ট অফিস থেকে একটি ডেলিভারি স্লিপ পাবেন এবং আপনি নির্ধারিত সময়ে আপনার পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন।

এনআইডি (NID) বা ডেলিভারি স্লিপ হারিয়ে গেলে পাসপোর্ট চেক করার উপায়
অনেক সময় মানুষ তাদের অ্যাপ্লিকেশন আইডি বা ডেলিভারি স্লিপ হারিয়ে ফেলে। এই পরিস্থিতিতে আপনি কিভাবে আপনার পাসপোর্ট স্ট্যাটাস জানতে পারবেন, তা জানা অত্যন্ত জরুরি।
এনআইডি বা ডেলিভারি স্লিপ হারিয়ে গেলে করণীয়:
- সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন এবং আপনার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করুন
- আপনার এনআইডি কার্ডের নম্বর দিয়ে আপনার আবেদন খুঁজে বের করতে বলুন
- পাসপোর্ট অফিসের কল সেন্টারে ফোন করুন এবং আপনার তথ্য প্রদান করুন
- যদি সম্ভব হয়, আপনার আবেদনের সময় যে ইমেইল ব্যবহার করেছিলেন, সেটি চেক করুন—সেখানে কনফার্মেশন মেসেজে আপনার আইডি থাকতে পারে
- অনলাইন পোর্টালে আপনার এনআইডি দিয়ে সার্চ করার চেষ্টা করুন—কিছু পোর্টালে এই সুবিধা আছে
পাসপোর্ট অফিসের স্টাফরা খুবই সহায়ক এবং তারা আপনাকে আপনার আবেদন খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। আপনার যদি কোনো সরকারি আইডি প্রমাণ থাকে, তা নিয়ে যান। এটি প্রক্রিয়াটি দ্রুত করতে সাহায্য করবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট লিঙ্ক কোনটি?
বাংলাদেশের অফিশিয়াল ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করার জন্য আপনাকে বাংলাদেশ পাসপোর্ট অফিসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সাধারণত এটি www.passport.gov.bd হয়, তবে সঠিক লিঙ্কটি যাচাই করার জন্য গুগলে সার্চ করুন “Bangladesh passport status check” এবং প্রথম অফিশিয়াল ফলাফলটি ক্লিক করুন।
“Pending Police Verification” দেখালে কতদিন অপেক্ষা করতে হয়?
সাধারণত “Pending Police Verification” স্ট্যাটাস দেখা দিলে ৫ থেকে ১০ দিন অপেক্ষা করতে হয়। তবে এটি আপনার এলাকার পুলিশ স্টেশনের ব্যস্ততা এবং অন্যান্য কারণের উপর নির্ভর করে। কখনো কখনো এটি ১৫ দিনও সময় নিতে পারে। ধৈর্য রাখুন এবং নিয়মিত স্ট্যাটাস চেক করুন।
“Passport is Ready for Issuance” দেখানোর কতদিন পর ডেলিভারি পাওয়া যায়?
যখন “Passport is Ready for Issuance” স্ট্যাটাস দেখা যায়, তখন আপনি সাধারণত ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে আপনার পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন। আপনি একটি ডেলিভারি স্লিপ পাবেন যাতে সংগ্রহের তারিখ এবং সময় লেখা থাকবে। নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট অফিসে যান এবং আপনার পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন।
ছুটির দিনে কি পাসপোর্টের স্ট্যাটাস আপডেট হয়?
সাধারণত পাসপোর্ট অফিস সপ্তাহের সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত কাজ করে এবং স্ট্যাটাস আপডেট হয়। শুক্রবার, শনিবার এবং অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনে স্ট্যাটাস আপডেট নাও হতে পারে। তবে আপনি যেকোনো সময় স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন—এটি সবসময় অনলাইনে উপলব্ধ থাকে।
পাসপোর্ট চেক করার জন্য কি কি তথ্য প্রয়োজন?
পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করার জন্য আপনার প্রধানত দুটি তথ্য প্রয়োজন: আপনার অনলাইন রেজিস্ট্রেশন আইডি বা অ্যাপ্লিকেশন আইডি এবং আপনার জন্ম তারিখ। কিছু ক্ষেত্রে আপনি আপনার এনআইডি নম্বর দিয়েও খুঁজতে পারবেন। এই তথ্যগুলো আপনার আবেদনের সময় পাওয়া কনফার্মেশন মেসেজ বা ডেলিভারি স্লিপে থাকবে।
লেখকের শেষ কথা
ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করার নিয়ম জানা থাকলে আপনি সবসময় আপনার পাসপোর্টের অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকতে পারবেন। এটি আপনার সময় বাঁচায় এবং অপ্রয়োজনীয় চিন্তা দূর করে। অনলাইন পোর্টাল, এসএমএস অথবা সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করে আপনি যেকোনো পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। মনে রাখবেন, আপনার অ্যাপ্লিকেশন আইডি এবং জন্ম তারিখ সুরক্ষিত রাখুন এবং কখনো অন্যের সাথে শেয়ার করবেন না। যদি কোনো সমস্যা হয়, তাহলে সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন। তারা আপনাকে সর্বদা সাহায্য করতে প্রস্তুত।



