শরতের আকাশে সাদা মেঘ আর কাশফুলের দোলা মানেই বাঙালির ঘরে ঘরে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি শুরু। প্রতিবছর এই সময়টায় সবচেয়ে বেশি খোঁজ করা প্রশ্নগুলোর একটি হলো, পূজার ছুটি ২০২৬ ঠিক কবে থেকে শুরু হচ্ছে, কতদিন থাকছে এবং সরকারি অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, ব্যাংক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটির হিসাবটা আসলে কেমন। চাকরিজীবী থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী কিংবা প্রবাসী— সবার জন্যই এই তথ্যটা জরুরি, কারণ এর ওপর নির্ভর করে টিকিট কাটা, বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা কিংবা ছুটির দিনগুলো কাজে লাগিয়ে বাড়তি অবকাশ তৈরি করা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি নির্ধারিত হয়েছে ২০ ও ২১ অক্টোবর ২০২৬। তবে শুধু এই দুটো তারিখ জানলেই চলবে না— ঐচ্ছিক ছুটি, পূজার পূর্ণ নির্ঘণ্ট, ব্যাংক-বিমা-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি এবং কীভাবে বাড়তি একদিন ছুটি নিয়ে ৫-৬ দিনের লম্বা অবকাশ বানানো যায়— এই পুরো চিত্রটা এই লেখায় গুছিয়ে দেওয়া হলো।
পূজার ছুটি ২০২৬ কবে থেকে শুরু এবং কতদিন
সরকারি ছুটির নিরিখে পূজার ছুটি ২০২৬ মূলত দুই দিনের— ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার এবং ২১ অক্টোবর বুধবার। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম আগেই সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালে দুই ঈদে মোট ১১ দিন এবং শারদীয় দুর্গাপূজায় ২ দিনের সরকারি ছুটি থাকছে। এই ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পরবর্তীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে দিন দুটো নির্দিষ্ট হয়।
| তারিখ | বাংলা তারিখ | বার | উপলক্ষ | ছুটির ধরন |
|---|---|---|---|---|
| ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ৪ কার্তিক ১৪৩৩ | মঙ্গলবার | মহানবমী | নির্বাহী আদেশে ছুটি |
| ২১ অক্টোবর ২০২৬ | ৫ কার্তিক ১৪৩৩ | বুধবার | বিজয়া দশমী | সাধারণ ছুটি |
অর্থাৎ সরকারি হিসাবে পূজার ছুটি ২০২৬ শুরু হচ্ছে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার থেকে এবং ২১ অক্টোবর বুধবার শেষ হচ্ছে। তবে এই দুদিনের বাইরে হিন্দুধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মচারীদের জন্য আরও দুদিন ঐচ্ছিক ছুটি রয়েছে, যেটা নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি কাজ করে— নিচে সেটা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হলো।
দুর্গাপূজা ২০২৬-এর পূর্ণাঙ্গ নির্ঘণ্ট।মহালয়া থেকে বিজয়া দশমী
পূজার ছুটির হিসাব বুঝতে হলে আগে পূজার পঞ্জিকা-নির্ঘণ্টটা জানা দরকার। একাধিক পঞ্জিকা ও ধর্মীয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২০২৬ সালের দুর্গাপূজার মূল দিনগুলো নিচে দেওয়া হলো।
| পূজার দিন | তারিখ | বাংলা তারিখ | বার |
|---|---|---|---|
| মহালয়া | ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ | শনিবার |
| মহাষষ্ঠী (বোধন) | ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১ কার্তিক ১৪৩৩ | শনিবার |
| মহাসপ্তমী | ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ২ কার্তিক ১৪৩৩ | রবিবার |
| মহাষ্টমী | ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ৩ কার্তিক ১৪৩৩ | সোমবার |
| মহানবমী | ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ৪ কার্তিক ১৪৩৩ | মঙ্গলবার |
| বিজয়া দশমী | ২১ অক্টোবর ২০২৬ | ৫ কার্তিক ১৪৩৩ | বুধবার |
একটা বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি— মহাষষ্ঠী পড়েছে ১৭ অক্টোবর, শনিবার, ১৬ অক্টোবর নয়। ষষ্ঠীর দিন থেকেই বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের আচার শুরু হয় এবং তার পরের দিন থেকে টানা সপ্তমী-অষ্টমী-নবমী-দশমী পালিত হয়। তারিখের এই ধারাবাহিকতা মিলিয়ে দেখলেই বোঝা যায় কোন দিন থেকে পূজার আমেজ শুরু হচ্ছে আর কোন দিন থেকে সরকারি ছুটি কার্যকর হচ্ছে— দুটো এক জিনিস নয়।
সরকারি পূজার ছুটি ও ঐচ্ছিক ছুটির পার্থক্য
পূজার ছুটি ২০২৬ নিয়ে সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তির জায়গা হলো— অনেকে সরকারি সাধারণ ছুটি আর ঐচ্ছিক ছুটিকে একই মনে করেন। বাস্তবে এই দুটো সম্পূর্ণ আলাদা নিয়মে চলে।
সাধারণ সরকারি ছুটি সবার জন্য প্রযোজ্য— সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান এই দিনগুলোতে বন্ধ থাকে। ২০ ও ২১ অক্টোবর এই শ্রেণিতে পড়ে।
ঐচ্ছিক ছুটি শুধু সংশ্লিষ্ট ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মচারীদের জন্য, যেটা তাঁরা নিজ বিবেচনায় নিতে পারেন। প্রতিষ্ঠান বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ থাকে না। ২০২৬ সালের ছুটির তালিকায় হিন্দুধর্মাবলম্বীদের জন্য মোট ৯ দিন ঐচ্ছিক ছুটি নির্ধারিত আছে, তার মধ্যে দুর্গাপূজার সপ্তমী-অষ্টমীর জন্য বরাদ্দ ২ দিন।
| ক্রম | ছুটির নাম | তারিখ | বার | ছুটি |
|---|---|---|---|---|
| ১ | শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজা | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ | শুক্রবার | ১ দিন |
| ২ | শ্রীশ্রী শিবরাত্রি ব্রত | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | রবিবার | ১ দিন |
| ৩ | দোলযাত্রা | ৩ মার্চ ২০২৬ | মঙ্গলবার | ১ দিন |
| ৪ | শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব | ১৭ মার্চ ২০২৬ | মঙ্গলবার | ১ দিন |
| ৫ | মহালয়া | ১০ অক্টোবর ২০২৬ | শনিবার | ১ দিন |
| ৬ | শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা (সপ্তমী-অষ্টমী) | ১৮ ও ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | রবি ও সোম | ২ দিন |
| ৭ | শ্রীশ্রী লক্ষ্মী পূজা | ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | রবিবার | ১ দিন |
| ৮ | শ্রীশ্রী শ্যামা পূজা | ৮ নভেম্বর ২০২৬ | রবিবার | ১ দিন |
তাই কেউ যদি প্রশ্ন করেন পূজার ছুটি কতদিন, তার সঠিক উত্তর হবে— সরকারি সাধারণ ছুটি ২ দিন (২০-২১ অক্টোবর), আর তার সঙ্গে ঐচ্ছিক ছুটি হিসেবে আরও ২ দিন (১৮-১৯ অক্টোবর) যোগ হতে পারে, যদি সংশ্লিষ্ট কর্মচারী তা নেন এবং প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দেয়।
বাড়তি একদিনে কীভাবে ৫-৬ দিনের লম্বা ছুটি বানাবেন
এবার পূজার ছুটির তারিখ পড়েছে সপ্তাহের মাঝামাঝি— মঙ্গল ও বুধবার। এই বিন্যাসটা আসলে চাকরিজীবীদের জন্য একটা সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। হিসাবটা এমন:
- ১৮ অক্টোবর, রবিবার — সাপ্তাহিক ছুটি
- ১৯ অক্টোবর, সোমবার — ঐচ্ছিক ছুটি (অষ্টমী)
- ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার — সরকারি ছুটি (মহানবমী)
- ২১ অক্টোবর, বুধবার — সরকারি ছুটি (বিজয়া দশমী)
- ২২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার — সরকারি ছুটির তালিকায় নেই, তবে ১ দিন নৈমিত্তিক ছুটি (CL) নিলে
- ২৩-২৪ অক্টোবর — শুক্র ও শনিবার, সাপ্তাহিক ছুটি
অর্থাৎ কেউ যদি শুধু ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার একদিনের নৈমিত্তিক ছুটি নেন, তাহলে ১৯ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৬ দিনের অবকাশ পাওয়া সম্ভব। যাঁরা গ্রামের বাড়িতে পূজা উদযাপন করতে যান বা দূরে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য এই একদিনের ছুটি ব্যবস্থাপনা বেশ কাজে লাগতে পারে। তবে অফিস অনুমোদন এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের ওপর নির্ভর করেই এই ছুটি নেওয়া উচিত।
ব্যাংক, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পোশাক কারখানার ছুটি
শুধু সরকারি অফিস নয়, পূজার ছুটিতে অন্যান্য খাতের কী অবস্থা থাকবে সেটাও জানা দরকার।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: ২০ ও ২১ অক্টোবর দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে, কারণ এগুলো সাধারণ সরকারি ছুটির অন্তর্ভুক্ত। তবে অনলাইন ব্যাংকিং, এটিএম এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ, রকেট) স্বাভাবিকভাবে চালু থাকে।
আদালত: সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতসমূহ সাধারণ সরকারি ছুটির দিনে বন্ধ থাকে, অর্থাৎ ২০-২১ অক্টোবর আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। তবে জরুরি প্রকৃতির মামলার শুনানির জন্য ডিউটি জজের ব্যবস্থা প্রায়ই থাকে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: এখানেই সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কিংবা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজস্ব একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পূজার ছুটি নির্ধারণ করে, যা সরকারি সাধারণ ছুটির তালিকার চেয়ে দীর্ঘ হতে পারে। অনেক স্কুল-কলেজ সাধারণত মহাসপ্তমী থেকে লক্ষ্মীপূজা পর্যন্ত বাড়তি ছুটি রাখে। তাই নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ছুটির সঠিক তারিখ জানতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষা বোর্ডের নোটিশ দেখাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।
তৈরি পোশাক শিল্প: বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-ভুক্ত পোশাক কারখানাগুলো সাধারণত বিজয়া দশমীর দিন (২১ অক্টোবর) ছুটি ঘোষণা করে। কিছু কারখানা শ্রম আইনের আওতায় হিন্দুধর্মাবলম্বী শ্রমিকদের জন্য অতিরিক্ত ১-২ দিন ছুটি দিতে পারে, তবে এটি প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হয়।
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের পূজার ছুটির মধ্যে পার্থক্য কেন এত বেশি
একটা প্রশ্ন প্রায়ই আসে— সীমান্তের ওপারে পশ্চিমবঙ্গে তো দুর্গাপূজায় প্রায় দুই সপ্তাহের ছুটি দেখা যায়, তাহলে বাংলাদেশে মাত্র ২ দিন কেন? এই পার্থক্যটা বোঝা জরুরি, কারণ সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই এই দুই তালিকা মিলিয়ে ফেলে বিভ্রান্তি ছড়ায়।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ২০২৬ সালের ছুটির তালিকা অনুযায়ী সেখানে দুর্গাপূজার ছুটি শুরু হচ্ছে ১৫ অক্টোবর মহাচতুর্থী থেকে এবং ২৬ অক্টোবর লক্ষ্মীপূজার পরদিন পর্যন্ত চলবে, অর্থাৎ টানা প্রায় ১২ দিন সরকারি অফিস বন্ধ থাকছে। কারণ পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব, তাই রাজ্য সরকার এটিকে দীর্ঘ সরকারি ছুটির আওতায় রাখে।
বাংলাদেশে দুর্গাপূজা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব হলেও, দেশের সামগ্রিক সরকারি ছুটির কাঠামোয় এটি ২ দিনের সাধারণ ছুটি এবং অতিরিক্ত ২ দিনের ঐচ্ছিক ছুটি হিসেবে বরাদ্দ করা হয়েছে, যাতে হিন্দুধর্মাবলম্বী নাগরিকরাও পূজার মূল আচারগুলো— সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত— উদযাপন করতে পারেন, আবার অন্যান্য ধর্ম ও পেশার মানুষের কর্মদিবসও ব্যাহত না হয়। তাই দুই দেশের ছুটির তালিকা তুলনা করার সময় সামাজিক-জনতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটটা মাথায় রাখা দরকার।
ঘরমুখী মানুষের জন্য যাতায়াত ও প্রস্তুতি পরামর্শ
পূজার ছুটি স্বল্প হলেও অনেকেই গ্রামের বাড়িতে যান, ফলে ঢাকাসহ বড় শহরগুলো থেকে দক্ষিণাঞ্চল ও অন্যান্য জেলার দিকে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। কয়েকটি সাধারণ পরামর্শ:
- আগাম টিকিট: রেল ও বাসের টিকিট সাধারণত ছুটির ৭-১০ দিন আগেই শেষ হয়ে যায়, তাই সম্ভব হলে আগেভাগে টিকিট নিশ্চিত করা ভালো।
- সড়ক নিরাপত্তা: ছুটির আগের দিন ও ছুটির প্রথম দিনে মহাসড়কে চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে, তাই সম্ভব হলে অফ-পিক সময়ে যাত্রা করা নিরাপদ।
- ফেরার পরিকল্পনা: যেহেতু ২২ অক্টোবর সরকারি ছুটি নয়, তাই যাঁরা ২১ তারিখ রাতে বা ২২ তারিখ সকালে ফেরার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের অফিসের সময়সূচি মাথায় রেখে টিকিট কাটা উচিত।
- নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি: পূজামণ্ডপে ভিড়ের সময় ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের ব্যাপারে সতর্ক থাকা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
পূজার ছুটি ২০২৬ নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
পূজার ছুটি ২০২৬ কবে থেকে শুরু?
সরকারি হিসাবে ২০ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার থেকে পূজার সরকারি ছুটি শুরু হচ্ছে এবং ২১ অক্টোবর বুধবার পর্যন্ত থাকছে।
পূজার ছুটি মোট কতদিন?
সাধারণ সরকারি ছুটি ২ দিন (২০-২১ অক্টোবর)। এর সঙ্গে ঐচ্ছিক ছুটি হিসেবে আরও ২ দিন (১৮-১৯ অক্টোবর) যোগ হতে পারে, তবে সেটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়।
২২ অক্টোবর কি সরকারি ছুটি?
না। ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটির তালিকায় নেই। তবে এই একদিন নৈমিত্তিক ছুটি নিলে সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে দীর্ঘ অবকাশ তৈরি করা সম্ভব।
মহাষষ্ঠী কবে পড়েছে?
২০২৬ সালের মহাষষ্ঠী পড়েছে ১৭ অক্টোবর, শনিবার। এই দিন থেকেই পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়, যদিও এটি সরকারি ছুটির তালিকায় নেই কারণ সেদিন এমনিতেই সাপ্তাহিক ছুটি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পূজার ছুটি কি সরকারি ছুটির মতোই?
না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা শিক্ষা বোর্ড নিজস্ব একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ছুটি ঠিক করে, যা প্রায়ই সরকারি সাধারণ ছুটির চেয়ে দীর্ঘ হয়। সঠিক তারিখের জন্য নিজ প্রতিষ্ঠানের নোটিশ দেখা উচিত।
দুর্গাপূজার ছুটিতে পোশাক কারখানা বন্ধ থাকবে কি?
সাধারণত বিজয়া দশমীর দিন (২১ অক্টোবর) কারখানা বন্ধ থাকে। এর বাইরে বাড়তি ছুটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
শেষ কথা
সংক্ষেপে বলা যায়, পূজার ছুটি ২০২৬ মানে সরকারি হিসাবে ২০ ও ২১ অক্টোবর— মহানবমী ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে ২ দিনের সাধারণ ছুটি। এর বাইরে ১৮ ও ১৯ অক্টোবর সপ্তমী-অষ্টমীর জন্য থাকছে ঐচ্ছিক ছুটি, যা নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য। ছুটির সঠিক ব্যবহার এবং একদিনের বাড়তি ছুটি নিয়ে পরিকল্পনা করলে এবার পূজায় ৫-৬ দিনের লম্বা অবকাশ উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে।
ছুটি সংক্রান্ত যেকোনো সরকারি সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এলে তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট (mopa.gov.bd) থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনেই সবচেয়ে নির্ভুলভাবে জানা যাবে। এই প্রতিবেদনটি সরকারি ছুটির তালিকা, প্রেস ব্রিফিং এবং একাধিক পঞ্জিকা-সূত্রের তথ্য মিলিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে; তারপরও ভ্রমণ বা ছুটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজ প্রতিষ্ঠান বা স্থানীয় প্রশাসনের নোটিশের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।


