৫১তম বিশেষ বিসিএস বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এবারের বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে মোট ৫,০০০ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিশন। এর মধ্যে ৪,৭০০টি পদ সহকারী সার্জন এবং ৩০০টি পদ সহকারী ডেন্টাল সার্জনের জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
চিকিৎসকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চাকরির সুযোগ। যারা ৫১তম বিশেষ বিসিএস সার্কুলার, আবেদন শুরুর তারিখ, আবেদন শেষের সময়, বয়সসীমা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আবেদন ফি, পরীক্ষার মানবণ্টন এবং প্রস্তুতির বিষয়গুলো একসঙ্গে জানতে চাইছেন, তাদের জন্য এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো।
সর্বশেষ আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিয়োগ: মোট ৫,০০০ জন
ক্যাডার: বিসিএস স্বাস্থ্য
পদ: সহকারী সার্জন ৪,৭০০ জন, সহকারী ডেন্টাল সার্জন ৩০০ জন
৫১তম বিশেষ বিসিএস কী?
৫১তম বিশেষ বিসিএস হলো চিকিৎসকদের জন্য আয়োজিত একটি বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা। সাধারণ বিসিএসের মতো বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের পরিবর্তে এবারের পরীক্ষার মাধ্যমে মূলত স্বাস্থ্য ক্যাডারের চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৫১তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ক্যাডারে মোট ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পদসংখ্যার মধ্যে ৪ হাজার ৭০০টি সহকারী সার্জন এবং ৩০০টি সহকারী ডেন্টাল সার্জনের পদ রয়েছে।
অর্থাৎ, ৫১তম বিশেষ বিসিএস মূলত মেডিকেল ও ডেন্টাল পেশাজীবীদের জন্য একটি বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা।
৫১তম বিশেষ বিসিএস সার্কুলার ২০২৬ প্রকাশের তারিখ
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ৫১তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৬-এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। একই দিনে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও বিজ্ঞপ্তির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—শুধু সংবাদ প্রতিবেদন দেখে আবেদন না করে BPSC-এর মূল বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশনা অনুসরণ করা। কারণ আবেদন করার সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, নিবন্ধন, কাগজপত্র এবং অন্যান্য শর্তের ক্ষেত্রে মূল বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত নির্দেশনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC)
৫১তম বিশেষ বিসিএসে কতজন নিয়োগ পাবেন?
৫১তম বিশেষ বিসিএসে মোট ৫,০০০ জন চিকিৎসক নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। পদভিত্তিক সংখ্যা নিচে দেওয়া হলো:
| পদের নাম | পদসংখ্যা |
|---|---|
| সহকারী সার্জন | ৪,৭০০ |
| সহকারী ডেন্টাল সার্জন | ৩০০ |
| মোট | ৫,০০০ |
তবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন পদ সৃষ্টি, পদ বিলুপ্তি, পদোন্নতি বা অন্য কোনো কারণে শূন্য পদের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদনকারীকে চূড়ান্তভাবে BPSC-এর বিজ্ঞপ্তির শর্ত ও সংশোধনী অনুসরণ করতে হবে।
৫১তম বিশেষ বিসিএসের আবেদন কবে শুরু?
১ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে ৫১তম বিশেষ বিসিএসের অনলাইন আবেদন শুরু হবে।
আবেদন করার শেষ সময়:
২৫ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ৬টা।
অর্থাৎ আবেদনকারীদের হাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইন ফরম পূরণ করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ থাকবে। শেষ দিনের জন্য আবেদন ফেলে না রেখে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা ভালো।
৫১তম বিশেষ বিসিএস আবেদনের সময়সূচি
সহজে বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো এক নজরে:
| বিষয় | তারিখ/সময় |
|---|---|
| বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| আবেদন শুরু | ১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০টা |
| আবেদন শেষ | ২৫ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬টা |
| লিখিত/MCQ পরীক্ষা | নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে নেওয়ার সম্ভাবনা |
| মোট নম্বর | ৩০০ |
| লিখিত MCQ | ২০০ |
| মৌখিক পরীক্ষা | ১০০ |
লিখিত পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সময় পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। পিএসসি জানিয়েছে, নভেম্বরের মধ্যেই লিখিত পরীক্ষা আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।
৫১তম বিশেষ বিসিএসে কারা আবেদন করতে পারবেন?
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর তারিখে যাদের বয়স ২১ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে, তারা এই বিশেষ বিসিএসে আবেদনের সুযোগ পাবেন।
তবে শুধু বয়সসীমার মধ্যে থাকলেই আবেদন করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট পদ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত যোগ্যতা ও নিবন্ধনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে।
বিশেষ করে চিকিৎসক ও ডেন্টাল সার্জনদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সনদ ও BMDC registration-সংক্রান্ত বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও BMDC নিবন্ধন
৫১তম বিশেষ বিসিএসে আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট পদ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মেডিকেল বা ডেন্টাল শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়ায় থাকা কিছু প্রার্থীও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেদন করতে পারবেন। তবে তাদের প্রয়োজনীয় লিখিত পরীক্ষা ২৫ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন হতে হবে।
দেশি বা বিদেশি ডিগ্রির ক্ষেত্রে সমমানের সনদ এবং BMDC নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মৌখিক পরীক্ষার সময় উপস্থাপন করতে হবে।
এ কারণে বিদেশি ডিগ্রিধারী বা নিবন্ধনসংক্রান্ত কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে থাকা প্রার্থীদের আবেদন করার আগে মূল সার্কুলারের শর্ত ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত।
৫১তম বিশেষ বিসিএস আবেদন ফি কত?
৫১তম বিশেষ বিসিএসে আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে—
- সাধারণ প্রার্থী: ২০০ টাকা
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী: ৫০ টাকা
এর সঙ্গে টেলিটকের ভ্যাট ও ডেটা ভেরিফিকেশন চার্জ হিসেবে অতিরিক্ত ৫ টাকা দিতে হবে।
আবেদন করার সময় শুধু ফরম পূরণ করলেই আবেদন সম্পূর্ণ হবে না। নির্ধারিত নিয়মে ফি পরিশোধ করতে হবে।
আবেদন করার পর ফি দেওয়ার সময় কত?
২৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আবেদন ফরম পূরণ করে যারা User ID পাবেন, তারা পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নির্ধারিত নিয়মে আবেদন ফি পরিশোধ করতে পারবেন।
এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ অনেকে মনে করেন আবেদন শেষ হওয়ার সময়ের পর আর কোনো কাজ করা যাবে না। কিন্তু বিজ্ঞপ্তির নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী User ID পাওয়া প্রার্থীদের জন্য ফি পরিশোধের অতিরিক্ত সময় রয়েছে।
তবে শেষ মুহূর্তে সার্ভার বা পেমেন্টসংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি এড়াতে যত দ্রুত সম্ভব আবেদন ও ফি পরিশোধ সম্পন্ন করা নিরাপদ।
৫১তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার মানবণ্টন
এবারের ৫১তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষায় মোট ৩০০ নম্বরের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হবে।
এর মধ্যে—
- লিখিত পরীক্ষা: ২০০ নম্বর
- মৌখিক পরীক্ষা: ১০০ নম্বর
লিখিত পরীক্ষা হবে MCQ পদ্ধতিতে।
২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার মানবণ্টন
| বিষয় | নম্বর |
|---|---|
| বাংলা | ২০ |
| ইংরেজি | ২০ |
| বাংলাদেশ বিষয়াবলি | ২০ |
| আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি | ২০ |
| মানসিক দক্ষতা | ১০ |
| গাণিতিক যুক্তি | ১০ |
| সংশ্লিষ্ট ক্যাডার/পদের বিষয় | ১০০ |
| মোট | ২০০ |
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংশ্লিষ্ট মেডিকেল বা ডেন্টাল বিষয়ের জন্য ১০০ নম্বর রাখা হয়েছে। ফলে শুধু সাধারণ জ্ঞান বা প্রচলিত বিসিএস প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করলে হবে না; নিজ নিজ পেশাগত বিষয়ের প্রস্তুতিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
ভুল উত্তরের জন্য কত নম্বর কাটা যাবে?
৫১তম বিশেষ বিসিএসের ২০০ নম্বরের MCQ পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ নম্বর কাটা হবে।
তাই পরীক্ষার হলে প্রশ্ন না বুঝে অতিরিক্ত অনুমান করে উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো প্রার্থী ১০টি প্রশ্ন ভুল করলে শুধু ওই ভুলগুলোর কারণে মোট ৫ নম্বর কাটা যেতে পারে।
এই কারণে মডেল টেস্ট দেওয়ার সময় শুধু কতটি প্রশ্ন সঠিক হয়েছে তা দেখলেই হবে না; কতটি ভুল হয়েছে এবং কেন ভুল হয়েছে, সেটিও বিশ্লেষণ করতে হবে।
৫১তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা কবে হতে পারে?
পিএসসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যেই লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরীক্ষাটি মূলত ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ, সময়, কেন্দ্র ও অন্যান্য নির্দেশনা পিএসসির পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত হবে। তাই পরীক্ষার্থীদের BPSC-এর নোটিশ নিয়মিত দেখা উচিত।
৫১তম বিশেষ বিসিএসের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?
এই পরীক্ষার মানবণ্টন দেখলে প্রস্তুতির একটি পরিষ্কার কাঠামো পাওয়া যায়।
১. পেশাগত বিষয়ের প্রস্তুতিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন
মোট ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার মধ্যে সংশ্লিষ্ট পেশাগত বিষয়েই ১০০ নম্বর রয়েছে।
অর্থাৎ মেডিকেল প্রার্থীদের জন্য মেডিকেল বিষয় এবং ডেন্টাল প্রার্থীদের জন্য ডেন্টাল বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রথমে নিজের মূল বিষয়ের পূর্ণ সিলেবাসকে কয়েকটি অংশে ভাগ করে নিতে পারেন। এরপর প্রতিটি অধ্যায় থেকে MCQ অনুশীলন করা প্রয়োজন।
২. বাংলা ও ইংরেজি অবহেলা করবেন না
বাংলা ও ইংরেজিতে ২০ নম্বর করে মোট ৪০ নম্বর রয়েছে।
বাংলার ক্ষেত্রে ব্যাকরণ, বানান, শব্দ, সমার্থক-বিপরীতার্থক, সাহিত্য ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের পাশাপাশি প্রশ্নের ধরন অনুযায়ী অনুশীলন করা যেতে পারে।
ইংরেজির ক্ষেত্রে grammar, vocabulary, synonym-antonym, sentence correction, preposition এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ MCQ টপিক অনুশীলন করা উপকারী।
৩. বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে ২০ নম্বর করে মোট ৪০ নম্বর রয়েছে।
এখানে শুধু পুরোনো সাধারণ জ্ঞান মুখস্থ না করে সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, বাংলাদেশের সংবিধান, অর্থনীতি, প্রশাসন, মুক্তিযুদ্ধ, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিশ্বরাজনীতি ও গুরুত্বপূর্ণ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়মিত আপডেট করা দরকার।
৪. গণিত ও মানসিক দক্ষতা
গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতায় ১০ নম্বর করে মোট ২০ নম্বর রয়েছে।
নম্বর তুলনামূলকভাবে কম হলেও এই অংশকে বাদ দেওয়া উচিত নয়। কারণ MCQ পরীক্ষায় দ্রুত সমাধান করতে পারলে অল্প সময়ে ভালো সংখ্যক প্রশ্নের উত্তর করা সম্ভব।
৫. নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ MCQ পরীক্ষা দিন
শুধু বই পড়লে প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয় না।
প্রতি কয়েকদিন পরপর ২০০ নম্বরের পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট দেওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। পরীক্ষার পরে তিনটি বিষয় আলাদা করে লিখে রাখুন:
১. জানা থাকা সত্ত্বেও ভুল হয়েছে এমন প্রশ্ন
২. না জানা প্রশ্ন
৩. সময়ের কারণে ভুল হওয়া প্রশ্ন
এভাবে ভুলের ধরন বিশ্লেষণ করলে প্রস্তুতির দুর্বল জায়গা চিহ্নিত করা সহজ হয়।
৫১তম বিশেষ বিসিএসে সরকারি চাকরিতে কর্মরত প্রার্থীদের জন্য নির্দেশনা
কোনো প্রার্থী যদি ইতোমধ্যে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত থাকেন, তাহলে আবেদন করার ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।
এ ধরনের প্রার্থীদের আবেদন করার আগে মূল বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া ছাড়পত্র, অনুমতিপত্র বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনসংক্রান্ত নির্দেশনা ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত।
৫১তম বিশেষ বিসিএসে তদবির করলে কী হবে?
পিএসসি পরীক্ষার ক্ষেত্রে তদবিরের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ৫১তম বিশেষ বিসিএসের ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের তদবির প্রার্থীর অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
একইভাবে মিথ্যা তথ্য দেওয়া, জাল সনদ ব্যবহার করা কিংবা পরীক্ষার সময় নিষিদ্ধ উপায়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া বা ভবিষ্যতের সরকারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অযোগ্যতার মতো ব্যবস্থাও হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে।
পরীক্ষার হলে কী বিষয়ে সতর্ক থাকবেন?
৫১তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে।
বিশেষ করে—
- পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না।
- নিষিদ্ধ ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করা যাবে না।
- কোনো ধরনের অসদুপায় অবলম্বন করা যাবে না।
- আবেদন ফরমে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সামঞ্জস্য থাকতে হবে।
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য সঠিক হতে হবে।
- কোনো ধরনের তদবির বা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়।
ভুল বা মিথ্যা তথ্যের কারণে পরবর্তী পর্যায়ে প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
৫১তম বিশেষ বিসিএসের আবেদন কোথায় করবেন?
অনলাইনে আবেদন করার জন্য প্রার্থীদের টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নির্ধারিত ওয়েবসাইট অথবা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ওয়েবসাইটের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
আবেদন করার আগে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, BMDC-সংক্রান্ত তথ্য, ছবি, স্বাক্ষর এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য প্রস্তুত রাখলে ফরম পূরণে ভুলের সম্ভাবনা কমে।
সর্বশেষ আবেদন নির্দেশনা ও বিজ্ঞপ্তির জন্য BPSC-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুসরণ করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।
৫১তম বিশেষ বিসিএস বনাম সাধারণ বিসিএস
৫১তম বিশেষ বিসিএস এবং সাধারণ বিসিএসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো নিয়োগের ক্ষেত্র।
সাধারণ বিসিএসে বিভিন্ন ক্যাডারে প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ থাকে। কিন্তু বিশেষ বিসিএস নির্দিষ্ট ক্যাডার বা বিশেষ প্রয়োজনের ভিত্তিতে আয়োজন করা হয়।
এবারের ৫১তম বিশেষ বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।
ফলে যারা সাধারণ ক্যাডারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং যারা চিকিৎসক হিসেবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দিতে চান—তাদের প্রস্তুতির ক্ষেত্র এক নয়।
৫১তম বিশেষ বিসিএসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে
| তথ্য | বিস্তারিত |
|---|---|
| পরীক্ষার নাম | ৫১তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৬ |
| নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান | বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন |
| ক্যাডার | বিসিএস স্বাস্থ্য |
| মোট পদ | ৫,০০০ |
| সহকারী সার্জন | ৪,৭০০ |
| সহকারী ডেন্টাল সার্জন | ৩০০ |
| আবেদন শুরু | ১ অক্টোবর ২০২৬ |
| আবেদন শেষ | ২৫ অক্টোবর ২০২৬ |
| বয়স | ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ২১–৩২ বছর |
| লিখিত পরীক্ষা | ২০০ নম্বর |
| মৌখিক পরীক্ষা | ১০০ নম্বর |
| মোট | ৩০০ নম্বর |
| লিখিত পদ্ধতি | MCQ |
| ভুল উত্তরের জন্য কর্তন | ০.৫০ নম্বর |
| সম্ভাব্য লিখিত পরীক্ষা | নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে |
| সাধারণ আবেদন ফি | ২০০ টাকা |
| বিশেষ শ্রেণির আবেদন ফি | ৫০ টাকা |
উপরের তথ্যগুলো ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি ও নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পিএসসি কোনো সংশোধনী প্রকাশ করলে সেটিই অনুসরণ করতে হবে।
৫১তম বিশেষ বিসিএস নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
৫১তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে কতজন নিয়োগ দেওয়া হবে?
৫১তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে মোট ৫,০০০ জনকে স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৪,৭০০ জন সহকারী সার্জন এবং ৩০০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন।
৫১তম বিশেষ বিসিএসের আবেদন কবে শুরু হবে?
অনলাইন আবেদন ১ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে।
৫১তম বিশেষ বিসিএসের আবেদনের শেষ তারিখ কবে?
আবেদনের শেষ সময় ২৫ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ৬টা।
৫১তম বিশেষ বিসিএসে বয়সসীমা কত?
২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর তারিখে প্রার্থীর বয়স ২১ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে, বিজ্ঞপ্তিতে এমন শর্ত দেওয়া হয়েছে।
৫১তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষায় মোট কত নম্বর?
লিখিত MCQ ২০০ নম্বর এবং মৌখিক ১০০ নম্বর—সব মিলিয়ে মোট ৩০০ নম্বর।
৫১তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় কত নম্বরের পেশাগত বিষয় থাকবে?
সংশ্লিষ্ট ক্যাডার বা পদের প্রাসঙ্গিক বিষয়ের জন্য ১০০ নম্বর রাখা হয়েছে।
ভুল উত্তর দিলে কত নম্বর কাটা হবে?
প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ নম্বর কাটা হবে।
৫১তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা কবে হবে?
পিএসসি জানিয়েছে, নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যেই লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত তারিখ পিএসসির পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত হবে।
৫১তম বিশেষ বিসিএসের আবেদন ফি কত?
সাধারণ প্রার্থীর জন্য আবেদন ফি ২০০ টাকা। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীর জন্য ৫০ টাকা। এর সঙ্গে নির্ধারিত অতিরিক্ত চার্জ প্রযোজ্য হবে।
৫১তম বিশেষ বিসিএসের সার্কুলার কোথায় পাওয়া যাবে?
সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি, নোটিশ ও পরীক্ষাসংক্রান্ত আপডেটের জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুসরণ করা উচিত। BPSC-এর ওয়েবসাইটে বিসিএস পরীক্ষা, বিজ্ঞপ্তি এবং পরীক্ষাসংক্রান্ত নোটিশ প্রকাশ করা হয়।
শেষ কথা
৫১তম বিশেষ বিসিএস বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ প্রকাশের মাধ্যমে চিকিৎসকদের জন্য সরকারি ক্যাডার চাকরিতে নিয়োগের একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় মোট ৫,০০০ জন নিয়োগের কথা বলা হয়েছে—যার মধ্যে ৪,৭০০টি সহকারী সার্জন এবং ৩০০টি সহকারী ডেন্টাল সার্জনের পদ রয়েছে।
আবেদন শুরু হবে ১ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০টায় এবং শেষ হবে ২৫ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ৬টায়। পরীক্ষার লিখিত অংশ হবে ২০০ নম্বরের MCQ এবং মৌখিক পরীক্ষা ১০০ নম্বরের। লিখিত পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট পেশাগত বিষয়ের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ নম্বর রাখা হয়েছে।
তাই যারা ৫১তম বিশেষ বিসিএসে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের এখন থেকেই নিজের পেশাগত বিষয়ের পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, গণিত ও মানসিক দক্ষতার প্রস্তুতি গুছিয়ে নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে নিয়মিত MCQ অনুশীলন এবং ভুল উত্তরের বিশ্লেষণ করলে পরীক্ষার প্রস্তুতি আরও কাঠামোবদ্ধ করা সম্ভব।
সবশেষে, আবেদন বা পরীক্ষার বিষয়ে কোনো তথ্য পরিবর্তন হলে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি ও নোটিশকে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কারণ অনলাইন আবেদন, পরীক্ষার তারিখ, কেন্দ্র, কাগজপত্র বা অন্যান্য নির্দেশনায় পরবর্তী সময়ে সংশোধন আসতে পারে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) এবং ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন।


