বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ (Bangladesh Bank Job Circular 2026) নিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের আগ্রহের শেষ নেই। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি মানেই নিরাপদ ভবিষ্যৎ, আকর্ষণীয় বেতন কাঠামো এবং সামাজিক মর্যাদা। ২০২৬ সালে একাধিক ধাপে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে — সহকারী পরিচালক (আইসিটি), সহকারী পরিচালক (পরিসংখ্যান), লিগ্যাল রিটেইনার এবং ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির (BSC) অধীনে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পদ। এই লেখায় শুধু বিজ্ঞপ্তির তথ্যই নয়, বরং আবেদন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত নিয়োগ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ, পরীক্ষার সিলেবাস, প্রস্তুতির কৌশল, সাধারণ ভুল এড়ানোর উপায় ও অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ — সংক্ষিপ্ত চিত্র
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠানের নাম | বাংলাদেশ ব্যাংক (কেন্দ্রীয় ব্যাংক) |
| প্রতিষ্ঠানের ধরন | স্বায়ত্তশাসিত সরকারি প্রতিষ্ঠান |
| মোট পদের ক্যাটাগরি | ১৩টি (বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সার্কুলার অনুযায়ী) |
| মোট শূন্যপদ | ৪২৩+ (বিজ্ঞপ্তিভেদে সংখ্যা পরিবর্তনশীল) |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | স্নাতক/স্নাতকোত্তর (পদভেদে) |
| বয়সসীমা | সাধারণত ২১-৩২ বছর |
| বেতন স্কেল | জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী |
| আবেদনের মাধ্যম | অনলাইন — erecruitment.bb.org.bd |
| আবেদন ফি | ৫০-২০০ টাকা (পদভেদে) |
| অফিসিয়াল ওয়েবসাইট | www.bb.org.bd |
কেন বাংলাদেশ ব্যাংকের চাকরি এত জনপ্রিয়
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের মুদ্রানীতি নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এখানকার চাকরির গুরুত্ব অন্য যেকোনো সরকারি চাকরির চেয়ে আলাদা। এখানে নিয়োগপ্রাপ্তরা শুধু আকর্ষণীয় বেতনই পান না, বরং প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, চিকিৎসা ভাতা, বাড়ি ভাড়া ভাতা, উৎসব বোনাসসহ নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। পাশাপাশি ব্যাংকিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিজ্ঞতা যেকোনো বেসরকারি ব্যাংকে পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পদভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য
সহকারী পরিচালক (আইসিটি)
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরা এই পদে আবেদন করতে পারবেন। নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি, ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট বা সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে অগ্রাধিকার পাওয়া যায়।
সহকারী পরিচালক (পরিসংখ্যান)
পরিসংখ্যান, অর্থনীতি, ফলিত পরিসংখ্যান বা গণিত বিষয়ে স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরা আবেদনের যোগ্য। এই পদে ডেটা অ্যানালাইসিস, রিসার্চ মেথডোলজি ও পরিসংখ্যানিক সফটওয়্যার (SPSS, STATA, R ইত্যাদি) সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লিগ্যাল রিটেইনার
আইন বিষয়ে স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক। ব্যাংকিং আইন, কোম্পানি আইন ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকলে অগ্রাধিকার পাওয়া যায়। এই পদে আবেদন অনলাইনের পাশাপাশি ইমেইল, সরাসরি বা ডাকযোগেও গ্রহণ করা হয়।
ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি (BSC) এর অধীনে বিভিন্ন পদ
রাষ্ট্রায়ত্ত ও নির্দিষ্ট বেসরকারি ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অফিসার, সিনিয়র অফিসার ও অন্যান্য পদে নিয়োগ বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত BSC-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এই ক্যাটাগরিতে সাধারণত সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পদ থাকে এবং প্রতিযোগিতাও তুলনামূলক বেশি।
আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলী
- আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে।
- সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণি/বিভাগ বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।
- বয়সসীমা সার্কুলারে উল্লিখিত তারিখ অনুযায়ী গণনা করা হয় — সাধারণত ২১ থেকে ৩২ বছর, তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও প্রতিবন্ধী কোটার ক্ষেত্রে বয়সে ছাড় প্রযোজ্য।
- কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা (এমএস অফিস, ইন্টারনেট, ইমেইল) থাকা অগ্রাধিকারযোগ্য।
- পদভেদে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে কর্মঅভিজ্ঞতা প্রয়োজন হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৬ সালের বিভিন্ন সার্কুলারের আবেদনের তারিখ পদভেদে ভিন্ন ভিন্ন। তাই আবেদনের আগে অবশ্যই নির্দিষ্ট পদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত আবেদন শুরু ও শেষের তারিখ যাচাই করে নেওয়া জরুরি। শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে হাতে সময় রেখে আবেদন সম্পন্ন করা উচিত, কারণ ডেডলাইনের কাছাকাছি সময়ে সার্ভারে চাপ বেড়ে যাওয়ায় প্রায়ই টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দেয়।
অনলাইনে আবেদনের ধাপে ধাপে নির্দেশনা
- প্রথমে erecruitment.bb.org.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
- নতুন প্রার্থী হলে “Register” অপশনে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলুন। আগে থেকে অ্যাকাউন্ট থাকলে সরাসরি লগইন করুন।
- প্রোফাইলে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা (যদি থাকে) সঠিকভাবে পূরণ করুন।
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি (সাম্প্রতিক তোলা) ও স্বাক্ষরের স্ক্যান কপি নির্ধারিত সাইজে আপলোড করুন।
- পছন্দের পদ নির্বাচন করে “Apply” বাটনে ক্লিক করুন।
- আবেদন ফি রকেট, বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে পরিশোধ করুন এবং অবশ্যই Payment Verification সম্পন্ন করুন।
- আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ করুন — পরীক্ষার সময় এটি প্রয়োজন হতে পারে।
আবেদন ফরম পূরণে যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
অনেক প্রার্থী তাড়াহুড়ায় আবেদন করতে গিয়ে কিছু সাধারণ ভুল করে থাকেন, যা পরবর্তীতে আবেদন বাতিল বা মৌখিক পরীক্ষায় সমস্যার কারণ হতে পারে।
- নাম ও পিতা-মাতার নাম এসএসসি সনদে যেভাবে আছে হুবহু সেভাবে না লেখা।
- ছবি ও স্বাক্ষরের সাইজ নির্দিষ্ট মাপের না হওয়া, যার ফলে আপলোড রিজেক্ট হয়।
- একাধিক পদে আবেদনের সময় প্রতিটির জন্য আলাদা ফি পরিশোধ না করা।
- মোবাইল নম্বর বা ইমেইল ভুল দেওয়া, যার কারণে পরবর্তী নোটিশ না পাওয়া।
- আবেদন ফি জমা দেওয়ার পর Payment Verification সম্পন্ন না করা — এতে আবেদন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
- শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য ভুল দেওয়া, যা মৌখিক পরীক্ষায় সনদ যাচাইয়ের সময় ধরা পড়লে আবেদন বাতিল হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার ধরন ও সিলেবাস
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ প্রক্রিয়া সাধারণত তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয় — প্রিলিমিনারি/MCQ পরীক্ষা (কিছু পদে), লিখিত পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষা। পদভেদে কম্পিউটার দক্ষতা পরীক্ষাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
সাধারণ পদের জন্য পরীক্ষার বিষয়সূচি
- বাংলা: ব্যাকরণ, সাহিত্য, রচনা ও অনুবাদ।
- ইংরেজি: Grammar, Vocabulary, Comprehension, Translation।
- সাধারণ গণিত: পাটিগণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি, মানসিক দক্ষতা (Mental Ability)।
- সাধারণ জ্ঞান: বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের সাম্প্রতিক তথ্য।
- বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান (আইসিটি/পরিসংখ্যান/আইন): সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ের মৌলিক জ্ঞান।
প্রফেশনাল পদের জন্য (আইসিটি, পরিসংখ্যান, লিগ্যাল)
সাধারণ পরীক্ষার পাশাপাশি এসব পদে বিষয়ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষা হয়ে থাকে, যেখানে প্রার্থীর প্রায়োগিক জ্ঞান যাচাই করা হয়। যেমন আইসিটি পদের জন্য নেটওয়ার্কিং, ডেটাবেজ, প্রোগ্রামিং লজিক সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে, আর পরিসংখ্যান পদের জন্য স্যাম্পলিং মেথড, ডেটা অ্যানালাইসিস ও ইকোনমেট্রিক্স সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে।
পরীক্ষার প্রস্তুতির কার্যকর কৌশল
বাংলাদেশ ব্যাংকের চাকরি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হওয়ায় সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি ছাড়া সফল হওয়া কঠিন। নিচে কিছু কার্যকর পরামর্শ দেওয়া হলো —
- গত ৫-৭ বছরের বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে অনুশীলন করুন, এতে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
- প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় বাংলাদেশের অর্থনীতি, মুদ্রানীতি ও ব্যাংকিং খাতের সাম্প্রতিক খবর পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
- গণিত ও মানসিক দক্ষতা অংশে দ্রুত ও নির্ভুল সমাধানের জন্য নিয়মিত সময় বেঁধে মডেল টেস্ট দিন।
- ইংরেজি গ্রামারের মৌলিক নিয়মগুলো ভালোভাবে রপ্ত করুন এবং প্রতিদিন Vocabulary অনুশীলন করুন।
- আইসিটি বা পরিসংখ্যান পদে আবেদনকারীরা নিজ নিজ বিষয়ের স্নাতক পর্যায়ের পাঠ্যবই পুনরায় ঝালাই করে নিন।
- লিখিত পরীক্ষায় ভালো করার জন্য হাতের লেখা পরিষ্কার রাখা ও সময় ব্যবস্থাপনা অনুশীলন করা জরুরি।
মৌখিক পরীক্ষায় সফল হওয়ার উপায়
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর মৌখিক পরীক্ষাই চূড়ান্ত ধাপ। এই পর্যায়ে শুধু জ্ঞান নয়, প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস ও যোগাযোগ দক্ষতাও মূল্যায়ন করা হয়।
- নিজের সিভি ও আবেদনপত্রে উল্লেখিত সব তথ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখুন, কারণ বোর্ড সেখান থেকেও প্রশ্ন করতে পারে।
- বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম, মুদ্রানীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়া ও বর্তমান গভর্নরের নাম সম্পর্কে জেনে যান।
- মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব মূল সনদ ও সত্যায়িত কপি গুছিয়ে রাখুন যেন শেষ মুহূর্তে ছোটাছুটি করতে না হয়।
- পোশাক-পরিচ্ছদে শালীনতা বজায় রাখুন এবং নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত থাকুন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা
আবেদনের সময় ও পরবর্তীতে মৌখিক পরীক্ষার সময় নিম্নোক্ত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন —
- সদ্য তোলা রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও স্বাক্ষরের স্ক্যান কপি।
- জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধন সনদ।
- সকল শিক্ষাগত সনদপত্র ও মার্কশিটের সত্যায়িত কপি।
- অভিজ্ঞতার সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
- প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা প্রদত্ত চারিত্রিক সনদপত্র।
- মুক্তিযোদ্ধা কোটার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সনদের সত্যায়িত কপি।
- স্থায়ী ঠিকানা সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র, যা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কর্তৃক ইস্যুকৃত হতে হবে।
বেতন কাঠামো ও অন্যান্য সুবিধা
বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়োগপ্রাপ্তরা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী বেতন পান, যা পদের গ্রেড অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব বোনাস, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি সুবিধা রয়েছে। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে গাড়ি সুবিধা ও অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধাও প্রযোজ্য হয়ে থাকে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হাউজিং স্কিম ও কল্যাণ তহবিল থেকেও কর্মীরা উপকৃত হন।
আবেদন ফি পরিশোধ পদ্ধতি
আবেদন ফি সাধারণত ৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে পদভেদে নির্ধারিত থাকে এবং তা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের রকেট, বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে অনলাইনে পরিশোধ করা যায়। ফি পরিশোধের পর অবশ্যই একটি কনফার্মেশন মেসেজ বা রসিদ সংরক্ষণ করে রাখতে হবে, যা ভবিষ্যতে প্রয়োজন হতে পারে।
প্রবেশপত্র ও ফলাফল সংক্রান্ত তথ্য
আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ে erecruitment.bb.org.bd পোর্টাল থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে হয়। প্রবেশপত্রে পরীক্ষার তারিখ, সময় ও কেন্দ্রের নাম উল্লেখ থাকে। পরীক্ষার ফলাফলও একই পোর্টালে প্রকাশ করা হয়, তাই আবেদনের সময় দেওয়া মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা সবসময় সচল রাখা জরুরি, যেন এসএমএস বা ইমেইলের মাধ্যমে দ্রুত আপডেট পাওয়া যায়।
প্রতারণা থেকে সাবধান থাকুন
বাংলাদেশ ব্যাংকের চাকরি পাওয়ার জন্য কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজন নেই। অনেক প্রতারক চক্র “চাকরি নিশ্চিত করে দেওয়ার” নামে অর্থ দাবি করে থাকে। এ ধরনের কোনো প্রস্তাব পেলে সঙ্গে সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করুন এবং সম্ভব হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হটলাইনে জানান। মেধা ও প্রস্তুতিই এই চাকরি পাওয়ার একমাত্র বৈধ পথ।
যোগাযোগের ঠিকানা
- ফোন: ১৬২৩৬ (যেকোনো নম্বর থেকে)
- ফেসবুক পেজ: facebook.com/BangladeshBankOfficial
- ঠিকানা: বাংলাদেশ ব্যাংক, মতিঝিল, ঢাকা
- ওয়েবসাইট: www.bb.org.bd
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলি (FAQ)
প্রশ্ন: একজন প্রার্থী কি একাধিক পদে আবেদন করতে পারবেন?
হ্যাঁ, যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে একজন প্রার্থী একাধিক পদে আলাদা আলাদা আবেদন করতে পারবেন, তবে প্রতিটি আবেদনের জন্য পৃথকভাবে ফি পরিশোধ করতে হবে।
প্রশ্ন: পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং আছে কি?
বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশিরভাগ MCQ পরীক্ষায় ভুল উত্তরের জন্য নেগেটিভ মার্কিং প্রযোজ্য হয়ে থাকে, তাই অনিশ্চিত প্রশ্নে অহেতুক অনুমাননির্ভর উত্তর না দেওয়াই ভালো। তবে নির্দিষ্ট নিয়ম প্রতিটি সার্কুলারে আলাদাভাবে উল্লেখ থাকে, তাই বিজ্ঞপ্তি ভালোভাবে পড়ে নেওয়া জরুরি।
প্রশ্ন: আবেদনের পর তথ্য সংশোধনের সুযোগ আছে কি?
আবেদন চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়ার আগ পর্যন্ত তথ্য সংশোধনের সুযোগ থাকে। তবে ফাইনাল সাবমিটের পর সাধারণত সংশোধনের সুযোগ থাকে না, তাই সাবমিট করার আগে প্রতিটি তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
প্রশ্ন: প্রবেশপত্র না পেলে কী করণীয়?
পরীক্ষার তারিখের কয়েকদিন আগেও প্রবেশপত্র ডাউনলোডের অপশন সক্রিয় না হলে erecruitment.bb.org.bd পোর্টালে লগইন করে পুনরায় চেষ্টা করুন অথবা হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করুন।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ ব্যাংকের চাকরি স্থায়ী নাকি অস্থায়ী?
নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রাথমিকভাবে একটি নির্দিষ্ট প্রবেশনারি সময়ের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়, সন্তোষজনক কর্মদক্ষতা প্রদর্শনের পর তা স্থায়ী চাকরিতে রূপান্তরিত হয়।
শেষ কথা
বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ দেশের হাজারো চাকরিপ্রত্যাশীর জন্য একটি বড় সুযোগ। তবে শুধু বিজ্ঞপ্তি দেখেই আবেদন করে ফেলা যথেষ্ট নয় — সঠিক প্রস্তুতি, নির্ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন এবং নিয়মিত আপডেট রাখাই সফলতার মূল চাবিকাঠি। আবেদনের শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে হাতে যথেষ্ট সময় রেখে আবেদন সম্পন্ন করুন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিন। নিয়মিত erecruitment.bb.org.bd এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করলে যেকোনো নতুন আপডেট সবার আগে জানা সম্ভব হবে।
দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি তথ্যগত সহায়তার উদ্দেশ্যে তৈরি। আবেদনের পূর্বে অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও প্রকাশিত মূল সার্কুলার যাচাই করে নেওয়া উচিত, কারণ তারিখ ও শর্তাবলী পরিবর্তন হতে পারে।



