ভূমিকা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার অন্যতম বৃহৎ একটি ক্ষেত্র। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী তাদের স্বপ্নের ক্যারিয়ার গড়তে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তির যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। ২০২৬ সালের শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো ভর্তি প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত এবং আধুনিকায়ন করা। শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে একটি বছর যেন ঝরে না যায় এবং প্রকৃত মেধাবীরাই যেন উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন এবার আপসহীন অবস্থান নিয়েছে।
আপনি কি জানেন? এবারের ভর্তি পরীক্ষা পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি প্রযুক্তি-নির্ভর এবং কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে পরিচালিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে দেশের সকল জেলা ও বিভাগীয় কেন্দ্রগুলোতে বিস্তারিত গাইডলাইন পাঠিয়ে দিয়েছে। আজকের এই বিস্তারিত নিবন্ধে আমরা আলোচনা করব ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষার আদ্যোপান্ত। আপনি যদি একজন পরীক্ষার্থী বা অভিভাবক হয়ে থাকেন, তবে এই নির্দেশনাগুলো আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলুন, বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
আরও পড়ুন: পরবর্তী এসএসসি পরীক্ষা এ বছরের ডিসেম্বরে নিতে চান শিক্ষামন্ত্রী
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করার গুরুত্ব
যেকোনো বৃহৎ পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশাল প্রতিষ্ঠানে যেখানে হাজার হাজার কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করার পেছনে প্রধান কারণ হলো মেধা পাচার রোধ এবং প্রক্সি পরীক্ষার মতো অনৈতিক কাজ বন্ধ করা। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের গুজব বা জালিয়াতির চেষ্টা দেখা গেছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ২০২৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করেছে।
কেন এই কঠোরতা?
প্রথমত, মেধাবী শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা করা। দ্বিতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখা। যখন একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ছাত্র ভর্তি করা হয়, তখন শিক্ষার মানও বৃদ্ধি পায়।
শিক্ষার মানোন্নয়নে এর প্রভাব
কঠোর নির্দেশনার ফলে কেবল পরীক্ষার্থীরাই নয়, বরং কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরাও দায়বদ্ধ থাকেন। এর ফলে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়। নিচে একটি সংক্ষিপ্ত সারণীর মাধ্যমে এই গুরুত্ব তুলে ধরা হলো:
আরও পড়ুন: এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬—বাংলা ১ম পত্র: মডেল টেস্ট–১
| বিষয় | গুরুত্বের কারণ |
|---|---|
| মেধা মূল্যায়ন | সঠিক মেধার ভিত্তিতে ছাত্র ভর্তি নিশ্চিত করা। |
| স্বচ্ছতা | পরীক্ষা পদ্ধতিতে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না রাখা। |
| নিরাপত্তা | প্রশ্নপত্র এবং উত্তরপত্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিধান। |
| আস্থা | শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আস্থা বাড়ানো। |
২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচী
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি অনুযায়ী, আগামী ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (শনিবার) এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা চলবে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। দেশব্যাপী সকল জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে নির্ধারিত কলেজ কেন্দ্রে একযোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সময় ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব
এক ঘণ্টার এই পরীক্ষায় প্রতিটি মিনিট অত্যন্ত মূল্যবান। শিক্ষার্থীদের সকাল ১০টার মধ্যে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মনে রাখবেন, পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পর অর্থাৎ ১০:৩০ মিনিটের পর কোনো পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এই কঠোর সময়সীমা কেবল ডিসিপ্লিন রক্ষার জন্য নয়, বরং প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ একনজরে
- পরীক্ষার তারিখ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬।
- পরীক্ষার দিন: শনিবার।
- পরীক্ষার সময়: সকাল ১১:০০ টা থেকে ১২:০০ টা।
- প্রবেশপত্র ডাউনলোড: বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
আসন বিন্যাস ও কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় নতুন বিধিমালা
গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. আশেক কবির চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক পত্রে কেন্দ্র ব্যবস্থাপনার আমূল পরিবর্তনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করার মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি কক্ষে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপ অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের আসন সাজাতে হবে ১০-এর গুণিতক (যেমন- ১০, ২০, ৩০) হারে।
ভেন্যু নির্বাচন ও দূরত্ব বজায় রাখা
যদি কোনো কলেজের নিজস্ব ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত স্থান না থাকে, তবে তারা পার্শ্ববর্তী সরকারি বা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। আসন বিন্যাসের তালিকা পরীক্ষা শুরুর অন্তত তিন দিন আগে প্রকাশ করতে হবে যাতে পরীক্ষার্থীরা সহজেই তাদের কক্ষ খুঁজে পান।
আসন বিন্যাসের মূল পয়েন্টসমূহ:
১. পর্যাপ্ত সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা।
২. গ্রুপের ভিত্তিতে আসন বিন্যাস (মানবিক, বিজ্ঞান, বাণিজ্য আলাদা)।
৩. ভেন্যু হিসেবে মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান নির্বাচন।
৪. আসন তালিকায় স্বচ্ছতা ও সহজলভ্যতা।
জালিয়াতি রোধ ও পরীক্ষার্থী শনাক্তকরণে কঠোর পদক্ষেপ
ভর্তি পরীক্ষায় 'প্রক্সি' বা একজনের বদলে অন্যজন পরীক্ষা দেওয়া একটি বড় অপরাধ। এই প্রবণতা রোধে এবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হাজিরাপত্র ও প্রবেশপত্রের ছবি মিলিয়ে দেখার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি অনুযায়ী, প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর ছবির সাথে তার উপস্থিতির সরাসরি মিল থাকতে হবে। যদি কোনো গরমিল পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে সোপর্দ করা হবে।
প্রক্সি পরীক্ষার্থী সনাক্তকরণ পদ্ধতি
কেন্দ্র পরিদর্শকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন কেবল স্বাক্ষর নয়, বরং পরীক্ষার্থীর চোখের মণি এবং মুখের অবয়ব প্রবেশপত্রের সাথে মিলিয়ে দেখেন। কোনো অবস্থাতেই প্রক্সি পরীক্ষার্থীকে অংশ নিতে দেওয়া হবে না। এটি প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।
ডিজিটাল জালিয়াতি বন্ধে সতর্কতা
ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে কেন্দ্রের আশেপাশে জ্যামার ব্যবহারের চিন্তাভাবনাও করা হচ্ছে। এছাড়া পরিদর্শকদের নিয়মিত ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে যেন তারা কোনো ধরনের সন্দেহজনক আচরণ শনাক্ত করতে পারেন। প্রশ্ন ফাঁসের কোনো গুজব ছড়ালে তার বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশ্নপত্র বণ্টন ও ওএমআর (OMR) শিট সংক্রান্ত নির্দেশনা
ভর্তি পরীক্ষার অন্যতম সংবেদনশীল অংশ হলো প্রশ্নপত্র বণ্টন। এবারের পরীক্ষায় প্রতিটি গ্রুপের জন্য দুই সেট পৃথক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি অনুসারে, পাশাপাশি বসা পরীক্ষার্থীদের কোনোভাবেই একই সেটের প্রশ্ন দেওয়া যাবে না। এতে করে একে অপরের থেকে দেখে লেখার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
ওএমআর শিট পূরণে সতর্কতা
পরীক্ষার্থীদের অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ওএমআর (OMR) শিটে গ্রুপ ও সেট কোড পূরণ করতে হবে। ডিন মহোদয়ের নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, যদি কোনো পরীক্ষার্থী ওএমআর শিটে কোনো ধরনের সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করে বা নিজের মোবাইল নম্বর লেখে, তবে তার উত্তরপত্র সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশিকা:
- বলপয়েন্ট কলম দিয়ে বৃত্ত ভরাট করুন।
- সেট কোড অবশ্যই সঠিকভাবে লিখুন।
- কাটাকাটি বা ফ্লুইড ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- উত্তরপত্রের উপরে কোনো অতিরিক্ত লেখা বা দাগ দেবেন না।
নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সময়সীমা নিয়ে কড়াকড়ি
আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের সাথে কোনো ধরনের মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, স্মার্ট ওয়াচ বা ব্লুটুথ ডিভাইস রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি সাধারণ ঘড়ি পরার ক্ষেত্রেও কিছু বিধিনিষেধ থাকতে পারে, তাই কেন্দ্রের দেওয়া ঘড়ির ওপর নির্ভর করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
৩০ মিনিটের নিয়ম
পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পর আর কোনো পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এটি একটি অত্যন্ত কঠোর নিয়ম যা শিক্ষার্থীদের সময়ানুবর্তিতার শিক্ষা দেয়। আপনি যদি ১০:৩১ মিনিটেও উপস্থিত হন, তবে আপনার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ নষ্ট হতে পারে। তাই অন্তত ১ ঘণ্টা আগে কেন্দ্রের আশেপাশে অবস্থান করা জরুরি।
যা যা সাথে আনা নিষেধ:
১. স্মার্টফোন ও সাধারণ ফিচার ফোন।
২. সায়েন্টিফিক বা সাধারণ ক্যালকুলেটর।
৩. হেডফোন বা কোনো তারযুক্ত/তারবিহীন ডিভাইস।
৪. কোনো ধরনের ডিজিটাল ডায়েরি বা ইলেকট্রনিক গেজেট।
কেন্দ্র ফি এবং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা
ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রতিটি পরীক্ষার্থীর বিপরীতে ১২৫ টাকা কেন্দ্র ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অর্থ পরীক্ষা শুরুর অন্তত তিন দিন আগে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের অধ্যক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার দিকেও নজর দিয়েছে।
অধ্যক্ষদের দায়িত্ব
কেন্দ্রের অধ্যক্ষরা পরীক্ষার যাবতীয় সরঞ্জাম যেমন- ওএমআর শিট, হাজিরাপত্র ইত্যাদি সংগ্রহের জন্য দায়ী থাকবেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ওয়েবসাইট (www.nu.ac.bd/admissions) থেকে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় তথ্য ডাউনলোড করবেন। প্রশাসনিক কোনো গাফিলতি দেখা দিলে কেন্দ্রের অনুমোদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আর্থিক ব্যবস্থাপনা সারসংক্ষেপ:
| খাতের নাম | টাকার পরিমাণ | সময়সীমা |
|---|---|---|
| পরীক্ষার্থী প্রতি ফি | ১২৫ টাকা | পরীক্ষার ৩ দিন আগে |
| ওএমআর সংগ্রহ | অনলাইনে | নির্দিষ্ট সময়ে |
| সিলগালা খরচ | নির্ধারিত বাজেট | একই দিন |
নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জেলা প্রশাসনের ভূমিকা
একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরীক্ষা আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কেন্দ্রের বাইরে ১৪৪ ধারা জারির মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে যাতে উৎসুক জনতা বা বহিরাগতরা বিঘ্ন ঘটাতে না পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা
পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। কেন্দ্র সচিবদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন তারা যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে দ্রুত স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নেন। পরীক্ষার্থী ছাড়া অন্য কারো প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এমনকি অভিভাবকদেরও কেন্দ্রের সীমানার বাইরে অবস্থান করতে হবে।
নিরাপত্তা প্রোটোকল:
- কেন্দ্রের মূল প্রবেশপথে তল্লাশি।
- পুলিশের সার্বক্ষণিক টহল।
- গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা।
- জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা।
উত্তরপত্র সংরক্ষণ ও আঞ্চলিক কেন্দ্রে জমা দেওয়ার পদ্ধতি
পরীক্ষা শেষ হওয়া মানেই দায়িত্ব শেষ নয়। বরং এরপর শুরু হয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ—উত্তরপত্র বা ওএমআর শিট জমা দেওয়া। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি অনুযায়ী, পরীক্ষার দিন রাত ৮টার মধ্যে সকল উত্তরপত্র সিলগালা করে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কেন্দ্রে জমা দিতে হবে।
কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার নিষিদ্ধ
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, কোনোভাবেই উত্তরপত্র ডাকযোগে বা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো যাবে না। কেন্দ্রের নিজস্ব প্রতিনিধিকে সশরীরে গিয়ে এই উত্তরপত্র জমা দিতে হবে। এতে করে পথের মধ্যে উত্তরপত্র চুরি বা পরিবর্তনের কোনো ঝুঁকি থাকে না। সিলগালা করার সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে এবং হাজিরাপত্রের সাথে মিলিয়ে সংখ্যা নিশ্চিত করতে হবে।
জমা দেওয়ার ধাপসমূহ:
১. কক্ষ পরিদর্শক কর্তৃক ওএমআর সংগ্রহ।
২. গ্রুপ অনুযায়ী ওএমআর বিন্যাস।
৩. সিলগালা করে প্যাকেটজাতকরণ।
৪. রাত ৮টার মধ্যে সশরীরে আঞ্চলিক কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া।
পরীক্ষার্থীদের জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও পরামর্শ
পরীক্ষার জন্য কেবল পড়াশোনা করলেই হয় না, নিয়মকানুনগুলো জানাও জরুরি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক কাজ করতে পারে, কিন্তু সঠিক প্রস্তুতি থাকলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
টিপস ১: সময় ব্যবস্থাপনা
যেহেতু নেগেটিভ মার্কিং থাকতে পারে (যদি বিজ্ঞপ্তিতে থাকে), তাই জেনে-বুঝে উত্তর করা জরুরি। ওএমআর শিট পূরণের সময় অতিরিক্ত সময় ব্যয় করবেন না।
টিপস ২: প্রবেশপত্র চেক করা
পরীক্ষার আগের রাতেই কলম, প্রবেশপত্র এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন। নতুন কোনো ডিভাইস সাথে নেওয়ার চেষ্টা করবেন না যা আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে।
টিপস ৩: মানসিকভাবে শান্ত থাকা
নিয়মগুলো কঠোর হলেও সেগুলো আপনার ভালোর জন্যই। তাই ঘাবড়ে না গিয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে পরীক্ষা দিন।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। ২০২৬ সালের এই পরীক্ষাটি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতার এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে। নিয়ম মেনে চলা এবং সততার সাথে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীর নৈতিক দায়িত্ব।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই কঠোর পদক্ষেপকে আমরা সাধুবাদ জানাই। যদি প্রতিটি কেন্দ্র এবং শিক্ষার্থী এই নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে মেনে চলেন, তবে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই একটি সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। সকল পরীক্ষার্থীর জন্য আমাদের পক্ষ থেকে শুভকামনা রইল। মনে রাখবেন, পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না। মেধা ও সততার সমন্বয়ই আপনাকে আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছে দেবে।
FAQ: সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের ভর্তি পরীক্ষা কবে হবে?
উত্তর: ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (শনিবার) সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
২. পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের শেষ সময় কত?
উত্তর: পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অর্থাৎ ১০:৩০ মিনিটের পর আর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
৩. পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে কি?
উত্তর: না, সব ধরনের ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৪. ওএমআর শিটে মোবাইল নম্বর লিখলে কী হবে?
উত্তর: ওএমআর শিটে মোবাইল নম্বর বা কোনো সাংকেতিক চিহ্ন দিলে ওই উত্তরপত্র সরাসরি বাতিল হয়ে যাবে।
৫. ভেন্যু পরিবর্তন হলে কীভাবে জানব?
উত্তর: আসন বিন্যাসের তালিকা পরীক্ষা শুরুর অন্তত তিন দিন আগে সংশ্লিষ্ট কলেজের নোটিশ বোর্ড বা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
৬. কেন্দ্র ফি কত এবং কোথায় জমা দেব?
উত্তর: কেন্দ্র ফি ১২৫ টাকা এবং এটি পরীক্ষা শুরুর ৩ দিন আগে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের অধ্যক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।
৭. উত্তরপত্র কি কুরিয়ারে পাঠানো যাবে?
উত্তর: না, কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী উত্তরপত্র সশরীরে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কেন্দ্রে জমা দিতে হবে।
আমাদের এইখানে আরো দেখুন……




Pingback: নিউজিল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা নতুন আর্থিক নির্দেশনা ২০২৬ | FTS গাইড