নবম পে স্কেল ২০২৬| অনুযায়ী নতুন বেতন তালিকা ও গেজেট

এই আর্টিকেলে বিস্তারিত সব তথ্য দেওয়া হয়েছে — শেষ পর্যন্ত পড়লে সবকিছু পেয়ে যাবেন।
5/5 - (1 vote)

দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সবচেয়ে বড় খবরটি অবশেষে বাস্তবে রূপ নিয়েছে। ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ তথা নবম পে স্কেলের প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, এই সপ্তাহের মধ্যেই এর আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশিত হতে যাচ্ছে।

এই লেখায় আমরা কেবল প্রস্তাবিত নয়, বরং মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত এবং সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রতিটি গ্রেডের প্রকৃত বেতন কাঠামো, তিন ধাপে বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট হিসাব, গেজেট প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ, ভাতা কার্যকরের সময়সূচি এবং পেনশনভোগীদের জন্য কী পরিবর্তন আসছে তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরব।

নবম পে স্কেল: সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আটটি জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষিত হয়েছে। সর্বশেষ অষ্টম পে স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন পে স্কেল ঘোষণার একটি রীতি থাকলেও কোভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক রূপান্তরের কারণে নবম পে স্কেল বারবার পিছিয়েছে। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত পর্যালোচনা কমিটি চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করে, যা শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে।

মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের সময়সূচি

৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে অর্থাৎ গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে আনার যে জল্পনা এতদিন ছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া ইতিমধ্যে সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে এবং আগামী রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ: প্রজ্ঞাপন জারির আগে যে কোনো সময়সূচি সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে। চূড়ান্ত ও আইনি বৈধ তথ্যের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় বা জাতীয় বেতন ও ভাতা কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে গেজেট কপি যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

গ্রেড অনুযায়ী নতুন বেতন স্কেল ২০২৬ (মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত)

নিচের তালিকাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত মন্ত্রিসভার অনুমোদিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। এখানে পুরনো স্কেল, নতুন স্কেল এবং শতকরা বৃদ্ধির হার তিনটিই দেখানো হয়েছে, যা কেবল একটি নতুন সংখ্যার তালিকার চেয়ে অনেক বেশি ব্যবহারযোগ্য।

গ্রেডপূর্বের স্কেল (টাকা)নতুন স্কেল (টাকা)বৃদ্ধির হার
১ম৭৮,০০০ (নির্ধারিত)১,৫৬,০০০ (নির্ধারিত)১০০%
২য়৬৬,০০০ – ৭৬,৪৯০১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০১০০%
৩য়৫৬,৫০০ – ৭৪,৪০০১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০১০০%
৪র্থ৫০,০০০ – ৭১,২০০১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০১০০%
৫ম৪৩,০০০ – ৬৯,৮৫০৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০১০০%
৬ষ্ঠ৩৫,৫০০ – ৬৭,০১০৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০১০০%
৭ম২৯,০০০ – ৬৩,৪১০৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০১০০%
৮ম২৩,০০০ – ৫৫,৪৭০৪৬,০০০ – ১,১০,৮০০১০০%
৯ম২২,০০০ – ৫৩,০৬০৪৪,০০০ – ১,০৫,৯০০১০০%
১০ম১৬,০০০ – ৩৮,৬৪০৩২,০০০ – ৭৭,৩০০১০০%
১১তম১২,৫০০ – ৩০,২৩০২৫,০০০ – ৬০,৫০০১০০%
১২তম১১,৩০০ – ২৭,৩০০২৪,৩০০ – ৫৮,৭০০১১৫%
১৩তম১১,০০০ – ২৬,৫৯০২৪,০০০ – ৫৮,০০০১১৮%
১৪তম১০,২০০ – ২৪,৬৮০২৩,৫০০ – ৫৬,৮০০১৩০%
১৫তম৯,৭০০ – ২৩,৪৯০২২,৮০০ – ৫৫,২০০১৩৫%
১৬তম৯,৩০০ – ২২,৪৯০২১,৯০০ – ৫২,৯০০১৩৫%
১৭তম৯,০০০ – ২১,৮০০২১,৪০০ – ৫১,৯০০১৩৮%
১৮তম৮,৮০০ – ২১,৩১০২১,০০০ – ৫০,৯০০১৩৯%
১৯তম৮,৫০০ – ২০,৫৭০২০,৫০০ – ৪৯,৪০০১৪১%
২০তম৮,২৫০ – ২০,০১০২০,০০০ – ৪৮,৪০০১৪২%

লক্ষ্যণীয়: তালিকা থেকে স্পষ্ট যে বৃদ্ধির হার সব গ্রেডে সমান নয়। উচ্চতর গ্রেড (১ম থেকে ১১তম) সবক্ষেত্রে ঠিক ১০০% বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু নিম্ন গ্রেডে (১২তম থেকে ২০তম) বৃদ্ধির হার ধাপে ধাপে বেড়ে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ সবচেয়ে কম বেতনভোগী কর্মচারীরাই আনুপাতিক হারে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন।

সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান কমানো হয়েছে

নতুন কাঠামোর একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো বেতন বৈষম্য কমানোর প্রচেষ্টা। আগে সর্বনিম্ন (২০তম গ্রেড) ও সর্বোচ্চ (১ম গ্রেড) বেতনের অনুপাত ছিল ১:১.৯৪৫। নতুন স্কেলে এই অনুপাত কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। সহজ কথায়, একজন সর্বোচ্চ পদের কর্মকর্তা একজন সর্বনিম্ন গ্রেডের কর্মচারীর তুলনায় আগে যে অনুপাতে বেতন পেতেন, এখন সেই ব্যবধান কিছুটা সংকুচিত হয়েছে।

তিন ধাপে বাস্তবায়ন: কীভাবে বাড়বে মূল বেতন

নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও পুরো বর্ধিত অংশ একসঙ্গে দেওয়া হচ্ছে না। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তিনটি ধাপে এটি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, এবং গ্রেডভেদে ধাপের অনুপাতও ভিন্ন রাখা হয়েছে।

  • ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড: বর্ধিত বেসিকের ৫০% প্রথম ধাপে, ২৫% দ্বিতীয় ধাপে এবং বাকি ২৫% তৃতীয় ধাপে যুক্ত হবে।
  • ১ম থেকে ৯ম গ্রেড: বর্ধিত বেসিকের ৪০% প্রথম ধাপে এবং বাকি ৬০% অংশ পরবর্তী দুই ধাপে সমান ৩০% করে যুক্ত হবে।

এই নিয়মের পেছনে যুক্তি হলো, তুলনামূলক কম আয়ের কর্মচারীরা আগে বেশি অংশ হাতে পাবেন, যাতে মূল্যস্ফীতির চাপ দ্রুত সামলানো যায়।

বাস্তব উদাহরণ দিয়ে হিসাব

২০তম গ্রেড: মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ২০,০০০ টাকা। বৃদ্ধিপ্রাপ্ত অংশ ১১,৭৫০ টাকা। প্রথম ধাপে এর ৫০% অর্থাৎ ৫,৮৭৫ টাকা যোগ হয়ে বেসিক দাঁড়াবে ১৪,১২৫ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে আরও ২,৯৩৭.৫০ টাকা যুক্ত হয়ে বেসিক হবে ১৭,০৬২.৫০ টাকা। তৃতীয় ও শেষ ধাপে বাকি ২,৯৩৭.৫০ টাকা যোগ হলে চূড়ান্ত বেসিক দাঁড়াবে পূর্ণ ২০,০০০ টাকায়।

৯ম গ্রেড: মূল বেতন ২২,০০০ টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ৪৪,০০০ টাকা। তিন ধাপে এটি যথাক্রমে ৩০,৮০০ টাকা, ৩৭,৪০০ টাকা এবং সবশেষে ৪৪,০০০ টাকায় উন্নীত হবে।

১ম গ্রেড: মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ১,৫৬,০০০ টাকা। প্রথম ধাপে ৪০% অর্থাৎ ৩১,২০০ টাকা যুক্ত হয়ে বেসিক দাঁড়াবে ১,০৯,২০০ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৩,৪০০ টাকা যোগ হয়ে হবে ১,৩২,৬০০ টাকা এবং তৃতীয় ধাপে বাকি ২৩,৪০০ টাকা যুক্ত হয়ে চূড়ান্ত বেসিক দাঁড়াবে ১,৫৬,০০০ টাকায়।

একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: এই হিসাব কেবল প্রারম্ভিক মূল বেতনের উপর ভিত্তি করে করা। বর্তমানে কর্মরত কোনো কর্মচারীর প্রকৃত নতুন বেতন নির্ধারিত হবে তার বিদ্যমান বেসিক, চাকরির মেয়াদ, ইনক্রিমেন্টের সংখ্যা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে, যা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হবে। সুনির্দিষ্ট অঙ্কের জন্য নিজ নিজ হিসাব শাখা বা গেজেটের সংযুক্ত ফিক্সেশন টেবিলের উপর নির্ভর করাই সঠিক পথ।

ভাতাসমূহ কবে থেকে পূর্ণ মাত্রায় কার্যকর হবে

শুধু মূল বেতন নয়, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াত ভাতাও নতুন হারে সমন্বয় করা হবে। তবে এসব ভাতা মূল বেতনের মতো তিন ধাপে নয়, বরং একসঙ্গে কার্যকর হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে। অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুলাইয়ে মূল বেতনের পূর্ণাঙ্গ বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার পরও, ভাতার পূর্ণ সুবিধা পেতে কর্মচারীদের আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে। ফলে একজন কর্মচারীর প্রকৃত মাসিক আয় ধাপে ধাপে বাড়বে, এবং তা কেবল মূল বেতনের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে হিসাব করলে সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না।

পেনশনভোগীদের জন্য কী পরিবর্তন আসছে

নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সাধারণত অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনও আনুপাতিক হারে সমন্বয় করা হয়। বেতন কমিশনের সুপারিশে যাদের মাসিক পেনশন তুলনামূলক কম, বিশেষত ২০,০০০ টাকার নিচে, তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য হারে পেনশন বৃদ্ধির প্রস্তাব ছিল। পাশাপাশি ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য বাড়তি মাসিক চিকিৎসা ভাতার সুপারিশও কমিশনের প্রতিবেদনে ছিল। মূল বেতন কাঠামোর মতো পেনশন সমন্বয়ের চূড়ান্ত ও নির্দিষ্ট হার আনুষ্ঠানিক গেজেটেই স্পষ্ট হবে, তাই এই অংশটি গেজেট প্রকাশের পর যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

সশস্ত্র বাহিনী ও বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সমন্বয়

নতুন বেতনস্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য পৃথকভাবে ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলি ২০২৬’ অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামো ঠিক করতে একটি পৃথক কমিটি কাজ করছে, যাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো চূড়ান্ত হবে। অর্থাৎ সাধারণ প্রশাসনিক ক্যাডার ও কর্মচারীদের বাইরে এই দুটি খাতের জন্য বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

কেন এই পে স্কেল জরুরি হয়ে পড়েছিল

২০১৫ সালের পর গত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, বাসাভাড়া থেকে শুরু করে চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয় সবখানেই এর প্রভাব পড়েছে। একই সময়ে বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত আয় (real income) কার্যত হ্রাস পেয়েছে। বিশেষত নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য এই বাস্তবতা আরও কঠিন ছিল, যে কারণে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি এবং ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকুরিজীবী ফোরামের মতো সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। ৫ থেকে ১০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত দেশব্যাপী কর্মসূচিও এই দাবিকে জোরালো করে তুলেছিল।

নতুন পে স্কেল নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

নবম পে স্কেলের গেজেট কবে প্রকাশিত হবে?

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (রোববার) গেজেট জারির কথা রয়েছে। এই তারিখ চূড়ান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল, তাই সামান্য পরিবর্তন হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

নতুন পে স্কেল কবে থেকে কার্যকর ধরা হবে?

১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরে বকেয়াসহ সমন্বয় করা হবে, তবে মূল বেতনের পূর্ণ বৃদ্ধি একসঙ্গে না দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তিন ধাপে প্রদান করা হবে।

সর্বনিম্ন বেতন কত হচ্ছে?

২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০,০০০ টাকা হচ্ছে, যা প্রায় ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি।

সর্বোচ্চ বেতন কত হচ্ছে?

১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১,৫৬,০০০ টাকা হচ্ছে, যা ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি।

গ্রেডের সংখ্যা কি কমানো হয়েছে?

না। এতদিন ২০টি গ্রেডকে কমিয়ে ১২টিতে নামিয়ে আনার আলোচনা প্রচলিত থাকলেও মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে।

বাড়িভাড়া, চিকিৎসাসহ অন্যান্য ভাতা কবে পূর্ণ হারে পাওয়া যাবে?

মূল বেতন তিন ধাপে বাড়লেও ভাতাগুলো একত্রে কার্যকর হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে।

পেনশনভোগীরা কি সুবিধা পাবেন?

হ্যাঁ, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে পেনশনও আনুপাতিক হারে সমন্বয় করা হয়। কম পেনশনভোগী ও প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য বাড়তি সুবিধার সুপারিশ কমিশনের প্রতিবেদনে ছিল, চূড়ান্ত হার গেজেটে স্পষ্ট হবে।

শেষ কথা

নবম পে স্কেল বা জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ এখন আর নিছক প্রস্তাবনার পর্যায়ে নেই, বরং মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেয়ে গেজেট প্রকাশের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি হলো ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি, আর সামগ্রিকভাবে সর্বনিম্ন-সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান কমিয়ে আনার উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে বেতন বৈষম্য কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে যেহেতু মূল বেতন তিন ধাপে এবং ভাতা আরও পরে কার্যকর হচ্ছে, তাই কর্মচারীদের প্রকৃত আয় বৃদ্ধি অনুভূত হতে কিছুটা সময় লাগবে। আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পর প্রতিটি গ্রেডের চূড়ান্ত ও আইনগতভাবে বৈধ সংখ্যা নিশ্চিত হবে, তাই আপডেট পেতে সরকারি ঘোষণার সঙ্গে যুক্ত থাকুন।

তথ্যসূত্র: অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তি এবং একুশে টেলিভিশন, কালবেলা, দৈনিক শিক্ষা, রাইজিংবিডি-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন (আগস্ট-সেপ্টেম্বর ২০২৬)। চূড়ান্ত ও আইনি বৈধতার জন্য সরকারি গেজেট দেখুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top