জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন ২০২৭।আবেদন করার নিয়ম,ফি ও শেষ তারিখ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের রেজিষ্ট্রেশন
এই আর্টিকেলে বিস্তারিত সব তথ্য দেওয়া হয়েছে — শেষ পর্যন্ত পড়লে সবকিছু পেয়ে যাবেন।
পোস্টকে রেটিং দিন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে যাঁরা বিস্তারিত জানতে চাচ্ছেন, তাঁদের জন্য সুখবর হলো, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭ উপলক্ষে অনলাইন নিবন্ধনের কার্যক্রম নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের শিক্ষাজীবন শেষে যেসব শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি অর্জন করেছেন, তাঁদের জন্য সমাবর্তন একটি বিশেষ উপলক্ষ। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্র্যাজুয়েটরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ পান এবং নিজের শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় স্মরণীয় করে রাখতে পারেন।

আর্টিকেলের বিষয়সূচি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭ সালের ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী গ্র্যাজুয়েট ও গবেষকেরা ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর থেকে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ তারিখ ১২ নভেম্বর ২০২৬। তাই যাঁরা সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে চান, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজের যোগ্যতা যাচাই করে আবেদন সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য শুধু আবেদন করলেই হবে না। আবেদনকারীকে নিজের পরীক্ষার নাম, পাসের বছর, ডিগ্রির ধরন এবং প্রযোজ্য ফি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে। কারণ স্নাতক পাস, স্নাতক সম্মান, মাস্টার্স ফাইনাল, এমবিএ এবং বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্সের জন্য নির্ধারিত পাসের বছরের সময়সীমা এক নয়। একইভাবে আগে মূল সনদ সংগ্রহ করা হয়েছে কি না, তার ওপরও সনদ ফি প্রদানের বিষয়টি নির্ভর করতে পারে।

এই আর্টিকেলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম, আবেদন করার যোগ্যতা, রেজিস্ট্রেশন ফি, সনদ ফি, অনলাইনে ফরম পূরণ, মোবাইল দিয়ে আবেদন, পেমেন্ট পদ্ধতি, রেজিস্ট্রেশন স্ট্যাটাস যাচাই এবং আবেদনসংক্রান্ত সাধারণ সমস্যার সমাধান বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ২০২৭ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাধারণ প্রশ্নগুলোর উত্তরও তুলে ধরা হয়েছে, যাতে আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যায়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ২০২৭-এর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একনজরে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের আবেদন করার আগে তারিখ, ফি, যোগ্যতা এবং নিবন্ধনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো জেনে নেওয়া প্রয়োজন। এতে আবেদনকারী নিজের প্রস্তুতি নিতে পারবেন এবং শেষ মুহূর্তে বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমবে।

  • সমাবর্তনের নাম: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭

  • সমাবর্তনের নির্ধারিত তারিখ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৭

  • অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরুর তারিখ: ১২ অক্টোবর ২০২৬

  • রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ: ১২ নভেম্বর ২০২৬

  • রেজিস্ট্রেশন ফি: ৪,০০০ টাকা

  • বিদেশি মুদ্রায় নির্ধারিত ফি: ৪০ মার্কিন ডলার

  • প্রতি সনদের ফি: ৮০০ টাকা

  • প্রতি সনদের বিকল্প ফি: ১০ মার্কিন ডলার

  • রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি: অনলাইন

  • আবেদনকারী: নির্ধারিত পাসের বছরের যোগ্য গ্র্যাজুয়েট ও গবেষক

  • পেমেন্ট পদ্ধতি: নির্ধারিত অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা

  • সমাবর্তনের স্থান ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা: বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার। রেজিস্ট্রেশন ফি এবং সনদ ফি আলাদা। নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফি সমাবর্তনে অংশগ্রহণের নিবন্ধনের জন্য প্রযোজ্য। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট মূল সনদ আগে সংগ্রহ করা না থাকলে সনদ ফি প্রযোজ্য হতে পারে। আগে মূল সনদ সংগ্রহ করা থাকলে একই সনদের জন্য আবার সনদ ফি দিতে হবে না।

সমাবর্তনের অনুষ্ঠানসূচি, প্রবেশের নিয়ম, গাউন সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় নথি এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক তথ্যের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করলেই এসব বিষয়ে সব তথ্য পাওয়া যাবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

সমাবর্তন হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আনুষ্ঠানিক একাডেমিক অনুষ্ঠান, যেখানে ডিগ্রি অর্জনকারী গ্র্যাজুয়েটরা অংশগ্রহণের সুযোগ পান। সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে যোগ্য শিক্ষার্থীরা নিবন্ধন করেন এবং অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বাংলাদেশের বিভিন্ন কলেজে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী স্নাতক, স্নাতক সম্মান, মাস্টার্স এবং বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন। তাঁদের জন্য সমাবর্তন শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক অনুষ্ঠান। দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, পরীক্ষা, ফলাফল এবং ডিগ্রি অর্জনের পর এই ধরনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ব্যক্তিগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।

অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরি, ব্যবসা, উচ্চশিক্ষা কিংবা অন্যান্য পেশাগত কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ তাঁদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। একই সঙ্গে বন্ধু, সহপাঠী এবং শিক্ষকদের সঙ্গে পুনরায় দেখা করার সুযোগও তৈরি হতে পারে।

তবে সমাবর্তন এবং মূল সনদ সংগ্রহের বিষয়টি এক নয়। কোনো শিক্ষার্থী আগে মূল সনদ সংগ্রহ করে থাকলেও সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে চাইলে তাঁকে নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। আবার সমাবর্তনে অংশগ্রহণের নিবন্ধন করলেই সনদসংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ২০২৭ কবে অনুষ্ঠিত হবে?

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭ সালের ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

এখানে অনেকের মধ্যে একটি বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন ২০২৬ সালে শুরু হচ্ছে বলে কেউ কেউ অনুষ্ঠানটিকেও ২০২৬ সালের সমাবর্তন হিসেবে অনুসন্ধান করেন। কিন্তু নির্ধারিত অনুষ্ঠানটি ২০২৭ সালের ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

অর্থাৎ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন ২০২৬ লিখে অনুসন্ধান করলেও বর্তমান সমাবর্তনের সঠিক তথ্য জানতে দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭-এর বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা প্রয়োজন।

সমাবর্তনের তারিখ ও রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা

রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে ১২ অক্টোবর ২০২৬। আবেদন করার শেষ তারিখ ১২ নভেম্বর ২০২৬। সমাবর্তনের নির্ধারিত তারিখ ২৩ জানুয়ারি ২০২৭।

এই তিনটি তারিখের মধ্যে পার্থক্য বুঝে রাখা জরুরি। রেজিস্ট্রেশন শুরুর তারিখ হলো যেদিন থেকে আবেদন গ্রহণ করা হবে। শেষ তারিখ হলো যেদিন পর্যন্ত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। আর সমাবর্তনের তারিখ হলো অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার নির্ধারিত দিন।

শেষ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আগে আবেদন সম্পন্ন করা ভালো। কারণ শেষ দিনে ওয়েবসাইটে অতিরিক্ত চাপ, ইন্টারনেটের সমস্যা অথবা পেমেন্টসংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিতে পারে।

সমাবর্তনের স্থান ও সময় সম্পর্কে কী জানা প্রয়োজন?

সমাবর্তনের নির্দিষ্ট স্থান, অনুষ্ঠানের শুরুর সময়, প্রবেশের নিয়ম এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক তথ্যের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। যাচাই না করে কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা সময়কে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

আবেদন সম্পন্ন করার পরও সমাবর্তনসংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা প্রকাশিত হতে পারে। তাই নিবন্ধন শেষ হওয়ার পর নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা প্রয়োজন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশন অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনকারীকে প্রথমে নিজের যোগ্যতা যাচাই করতে হবে, তারপর প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় তথ্যের সঠিকতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

ধাপ ১: নিজের যোগ্যতা যাচাই করুন

রেজিস্ট্রেশন করার আগে আপনি সমাবর্তনে অংশগ্রহণের যোগ্য কি না, তা নিশ্চিত করুন। আপনার পরীক্ষার নাম এবং পাসের বছর বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা সময়সীমার মধ্যে থাকতে হবে।

যেমন, স্নাতক পাস এবং স্নাতক সম্মান পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল। অন্যদিকে, মাস্টার্স ফাইনাল, বিবিএ এবং কিছু প্রফেশনাল কোর্সের জন্য সময়সীমা ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল। এমবিএর ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল।

তাই শুধু নিজের পাসের বছর দেখলেই হবে না। একই সঙ্গে ডিগ্রির নামও মিলিয়ে নিতে হবে।

ধাপ ২: প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত তথ্য প্রস্তুত রাখুন

আবেদন করার আগে নিজের রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পরীক্ষার নাম এবং পাসের বছর প্রস্তুত রাখুন। মূল নথি দেখে তথ্যগুলো যাচাই করা ভালো।

রোল নম্বর এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর আলাদা তথ্য। তাই একটি নম্বরের জায়গায় অন্যটি লিখবেন না। নম্বরে শুরুতে শূন্য থাকলে সেটিও ঠিকভাবে লিখুন।

ধাপ ৩: অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ করুন

রেজিস্ট্রেশন পোর্টালে প্রবেশ করার পর প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। সেখানে যে তথ্য চাওয়া হবে, তা সঠিকভাবে লিখুন।

পরীক্ষার নাম নির্বাচন করার সময় নিজের ডিগ্রির সঙ্গে মিল রয়েছে এমন অপশন বেছে নিন। ভুল কোর্স নির্বাচন করলে আবেদন যাচাইয়ে সমস্যা হতে পারে।

ধাপ ৪: ব্যক্তিগত ও যোগাযোগের তথ্য যাচাই করুন

পোর্টালে ব্যক্তিগত তথ্য, মোবাইল নম্বর বা ই-মেইল ঠিকানা চাওয়া হলে সঠিক তথ্য দিন। যোগাযোগের তথ্য ভুল হলে পরবর্তী সময়ে আবেদনসংক্রান্ত বার্তা বা নির্দেশনা পেতে সমস্যা হতে পারে।

নাম বা অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের ক্ষেত্রে নিজের নথির সঙ্গে মিল রাখুন। কোনো তথ্য অনুমান করে পরিবর্তন করবেন না।

ধাপ ৫: রেজিস্ট্রেশন ফি ও সনদ ফি যাচাই করুন

পেমেন্ট করার আগে পোর্টালে প্রদর্শিত ফির পরিমাণ ভালোভাবে দেখুন। রেজিস্ট্রেশন ফি ৪,০০০ টাকা। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রতিটি সনদের জন্য ৮০০ টাকা অতিরিক্ত সনদ ফি দিতে হতে পারে।

আগে মূল সনদ সংগ্রহ করে থাকলে সংশ্লিষ্ট সনদের জন্য আবার সনদ ফি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে রেজিস্ট্রেশন ফি প্রযোজ্য থাকবে।

ধাপ ৬: নির্ধারিত পদ্ধতিতে পেমেন্ট করুন

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমোদিত পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করুন। পেমেন্টের সময় ফির পরিমাণ এবং আবেদনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করুন।

লেনদেনের সময় নেটওয়ার্ক সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে আবার টাকা পাঠাবেন না। প্রথমে পেমেন্টের অবস্থা যাচাই করুন।

ধাপ ৭: আবেদন সম্পন্ন হয়েছে কি না নিশ্চিত করুন

পেমেন্টের পর পোর্টালে আবেদন সফল হয়েছে কি না পরীক্ষা করুন। রেজিস্ট্রেশন স্লিপ, রসিদ বা নিশ্চিতকরণ বার্তা পাওয়া গেলে সেগুলো সংরক্ষণ করুন।

শুধু টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে বলে আবেদন সম্পন্ন হয়েছে ধরে নেওয়া উচিত নয়। পোর্টালের স্ট্যাটাস দেখে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ধাপ ৮: আবেদনসংক্রান্ত নথি সংরক্ষণ করুন

আবেদন সফল হওয়ার পর রেজিস্ট্রেশন স্লিপ এবং পেমেন্টের রসিদ ডাউনলোড করে রাখুন। প্রয়োজনে প্রিন্ট কপিও সংরক্ষণ করুন।

পরবর্তী সময়ে আবেদন যাচাই, গাউন সংগ্রহ অথবা অন্য কোনো কার্যক্রমে এসব নথির প্রয়োজন হতে পারে। কোন নথি কখন লাগবে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত করুন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭-এ অংশগ্রহণের জন্য কোর্সভেদে আলাদা যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই আবেদন করার আগে নিজের ডিগ্রির নাম এবং উত্তীর্ণ হওয়ার বছর মিলিয়ে দেখা জরুরি।

নিচের তালিকায় কোর্সভিত্তিক পাসের বছরের সময়সীমা দেওয়া হলো।

ক্রমিক

পরীক্ষার নাম

নির্ধারিত পাসের বছর

১

স্নাতক পাস

২০১৩–২০২৪

২

স্নাতক সম্মান

২০১৩–২০২৪

৩

মাস্টার্স ফাইনাল

২০১৩–২০২৩

৪

বিবিএ

২০১৩–২০২৩

৫

এমএড

২০১৩–২০২৩

৬

বিএসসি ইন সিএসই

২০১৩–২০২৩

৭

এলএলবি ফাইনাল

২০১৩–২০২৩

৮

বিএফএ অনার্স ও পাস

২০১৩–২০২৩

৯

এমবিএ

২০১৩–২০২২

১০

বিএড অনার্স

২০১৪–২০২৩

১১

বিএসসি ইন ইসিই

২০১২–২০২৩

১২

এমএসসি ইন সিএসই

২০১১–২০২২

১৩

বিবিএ ইন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট

২০১৯–২০২৩

১৪

বিএসসি অনার্স ইন অ্যারোনটিক্যাল অ্যান্ড এভিয়েশন সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং

২০২০–২০২৪

১৫

বিবিএ ইন এভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট

২০২০–২০২৪

১৬

অনার্স ইন থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ

২০১৯–২০২২

১৭

বিএসসি অনার্স ইন এফডিটি

২০২২–২০২৩

১৮

বিএসসি অনার্স ইন এএমটি

২০২২–২০২৩

১৯

বিএসসি অনার্স ইন কেএমটি

২০২২–২০২৩

২০

এমবিএ ইন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট

২০২২–২০২৩

২১

মাস্টার্স ইন অ্যাপ্লাইড ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ ম্যানেজমেন্ট

২০১৬–২০২৩

২২

মাস্টার্স ইন মিডিয়া অ্যান্ড জার্নালিজম

২০২০–২০২২

২৩

এমপিএড

২০২০–২০২৩

২৪

এমএসএড

২০১০–২০২৪

২৫

অন-ক্যাম্পাস এমএএস

২০১৬–২০২৫

২৬

অন-ক্যাম্পাস এএমবিএ

২০১৬–২০২৫

২৭

এমফিল ডিগ্রিপ্রাপ্ত গবেষক

২০১৬–২০২৫

২৮

পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্ত গবেষক

২০১৬–২০২৫

তালিকায় নিজের কোর্সের নাম খুঁজে পাওয়ার পর পাসের বছর মিলিয়ে দেখুন। কোনো কোর্সের নাম, সংক্ষিপ্ত রূপ বা সময়সীমা নিয়ে সন্দেহ থাকলে মূল বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিশ্চিত হয়ে আবেদন করুন।

স্নাতক পাস ও স্নাতক সম্মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের যোগ্যতা

স্নাতক পাস এবং স্নাতক সম্মান পরীক্ষায় ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে উত্তীর্ণরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রয়েছেন। তবে নিজের ডিগ্রির ধরন সঠিকভাবে নির্বাচন করা জরুরি।

উদাহরণস্বরূপ, কেউ ২০১৮ সালে স্নাতক সম্মান সম্পন্ন করেছেন, আবার কেউ ২০২৩ সালে স্নাতক পাস করেছেন। দুজনের পাসের বছর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে হলেও আবেদন করার সময় নিজ নিজ পরীক্ষার ধরন নির্বাচন করতে হবে।

২০১২ সালে স্নাতক সম্মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কেউ শুধু পাসের বছরের কাছাকাছি হওয়ার কারণে যোগ্য হয়ে যাবেন না। নির্ধারিত সময়সীমার সঙ্গে নিজের তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে।

মাস্টার্স ফাইনাল ও এমবিএর যোগ্যতা

মাস্টার্স ফাইনাল এবং এমবিএর জন্য পাসের বছরের সীমা আলাদা। মাস্টার্স ফাইনালের ক্ষেত্রে ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে উত্তীর্ণরা নির্ধারিত সময়সীমার অন্তর্ভুক্ত। এমবিএর ক্ষেত্রে সময়সীমা ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল।

এ কারণে একজন এমবিএ গ্র্যাজুয়েটের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য মাস্টার্স ফাইনালের সময়সীমা ব্যবহার করা উচিত নয়। নিজের সনদে উল্লেখ করা ডিগ্রির নাম অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করতে হবে।

প্রফেশনাল কোর্সের গ্র্যাজুয়েটদের যোগ্যতা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্স রয়েছে। এসব কোর্সের জন্য নির্ধারিত পাসের বছর এক নয়। যেমন, বিএড অনার্সের সময়সীমা ২০১৪ থেকে ২০২৩ সাল। বিএসসি ইন ইসিইয়ের সময়সীমা ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল। অন্যদিকে, বিএসসি অনার্স ইন এফডিটি, এএমটি এবং কেএমটির জন্য ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।

তাই প্রফেশনাল কোর্সের শিক্ষার্থীদের নিজেদের কোর্সের নাম এবং পাসের বছর আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।

এমফিল ও পিএইচডি গবেষকদের যোগ্যতা

এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্ত গবেষকদের জন্যও সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল।

গবেষকদের ক্ষেত্রে ডিগ্রি অর্জনের তথ্য, প্রাসঙ্গিক নথি এবং পোর্টালে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। স্নাতক বা মাস্টার্সের সময়সীমা গবেষকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া যাবে না।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশন ফি কত?

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশন ফি ৪,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশি মুদ্রায় বিকল্প ফি ৪০ মার্কিন ডলার। এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সনদের জন্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সনদ ফি দিতে হতে পারে।

রেজিস্ট্রেশন ফি এবং সনদ ফি আলাদা করে হিসাব করা জরুরি। এতে আবেদনকারী বুঝতে পারবেন তাঁর ক্ষেত্রে মোট কত টাকা প্রয়োজন হতে পারে।

রেজিস্ট্রেশন ফি ও সনদ ফি

ফির ধরন

পরিমাণ

সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশন ফি

৪,০০০ টাকা

রেজিস্ট্রেশন ফি, মার্কিন ডলারে

৪০ ডলার

প্রতিটি সনদের ফি

৮০০ টাকা

প্রতিটি সনদের ফি, মার্কিন ডলারে

১০ ডলার

রেজিস্ট্রেশন ফি সমাবর্তনে অংশগ্রহণের নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত। সনদ ফি সংশ্লিষ্ট সনদের জন্য প্রযোজ্য। আগে মূল সনদ সংগ্রহ করা থাকলে একই সনদের জন্য আবার সনদ ফি দিতে হবে না।

আগে মূল সনদ সংগ্রহ করা থাকলে কত টাকা দিতে হবে?

আপনি যদি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মূল সনদ সংগ্রহ করে থাকেন, তাহলে সেই সনদের জন্য আবার ৮০০ টাকা সনদ ফি দিতে হবে না। তবে সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন ফি ৪,০০০ টাকা প্রযোজ্য থাকবে।

উদাহরণস্বরূপ, একজন আবেদনকারী আগে মূল সনদ সংগ্রহ করেছেন। তাঁর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সনদের ফি আর প্রযোজ্য না হলে রেজিস্ট্রেশনের জন্য ৪,০০০ টাকা দিতে হবে।

অন্যদিকে, একজন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একটি সনদের ফি প্রযোজ্য হলে হিসাব হবে:

রেজিস্ট্রেশন ফি ৪,০০০ টাকা এবং সনদ ফি ৮০০ টাকা। মোট অর্থের পরিমাণ হবে ৪,৮০০ টাকা।

দুটি সনদের ফি প্রযোজ্য হলে হিসাব হবে:

রেজিস্ট্রেশন ফি ৪,০০০ টাকা এবং দুটি সনদের ফি ১,৬০০ টাকা। মোট অর্থের পরিমাণ হবে ৫,৬০০ টাকা।

এগুলো হিসাব বোঝানোর উদাহরণ। নিজের ক্ষেত্রে কতটি সনদের ফি প্রযোজ্য হবে, তা আবেদন পোর্টালে প্রদর্শিত তথ্য অনুযায়ী নিশ্চিত করুন।

রেজিস্ট্রেশন ফি কি ফেরত পাওয়া যাবে?

ফি ফেরত, আবেদন বাতিল অথবা ভুল পেমেন্টের অর্থ ফেরত পাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

পেমেন্টের সময় ভুল হলে বা টাকা কেটে নেওয়ার পর আবেদন সম্পন্ন না হলে প্রথমে লেনদেনের অবস্থা যাচাই করুন। প্রয়োজন হলে পেমেন্টের রসিদ ও ট্রানজ্যাকশন আইডি নিয়ে নির্ধারিত সহায়তা নম্বরে যোগাযোগ করুন।

মোবাইল দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশন

যাঁদের কাছে কম্পিউটার নেই, তাঁরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনলাইন আবেদন করতে চাইতে পারেন। পোর্টাল মোবাইল ব্রাউজারে সঠিকভাবে কাজ করলে ফোন দিয়েই প্রয়োজনীয় ধাপগুলো অনুসরণ করা সম্ভব হতে পারে।

প্রথমে মোবাইলের ব্রাউজার খুলুন। এরপর সমাবর্তনের নির্ধারিত পোর্টালে প্রবেশ করুন এবং প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন শুরু করুন।

মোবাইল দিয়ে আবেদন করার সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।

প্রথমত, ইন্টারনেট সংযোগ স্থিতিশীল রাখুন। আবেদন ফরম পূরণের মাঝখানে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে তথ্য সংরক্ষণে সমস্যা হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর মূল নথি দেখে লিখুন। ভুল নম্বরের কারণে যোগ্যতা যাচাইয়ে সমস্যা হতে পারে।

তৃতীয়ত, পেমেন্টের সময় অনুমোদিত মাধ্যম ব্যবহার করুন। টাকা কেটে নেওয়ার পর আবেদন সফল হয়েছে কি না নিশ্চিত না হয়ে পুনরায় পেমেন্ট করবেন না।

চতুর্থত, আবেদন সফল হলে রেজিস্ট্রেশন স্লিপ বা রসিদ মোবাইলে সংরক্ষণ করুন। সম্ভব হলে ফাইলটি অন্য নিরাপদ স্থানেও ব্যাকআপ রাখুন।

পঞ্চমত, পোর্টাল মোবাইলে সঠিকভাবে কাজ না করলে অন্য ব্রাউজার ব্যবহার করে দেখতে পারেন। তাতেও সমস্যা হলে কম্পিউটার থেকে আবেদন সম্পন্ন করুন অথবা বিশ্বস্ত কারও সহায়তা নিন।

মোবাইল দিয়ে আবেদন করার সুবিধা থাকলেও তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন পেমেন্ট পদ্ধতি

সমাবর্তনের ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হবে। আবেদনকারীর জন্য পোর্টালে যেসব মাধ্যম দেখানো হবে, সেগুলোর মধ্যে উপযুক্ত মাধ্যম নির্বাচন করে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পেমেন্ট

পোর্টালে অনুমোদিত মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা থাকলে সংশ্লিষ্ট মাধ্যমের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। পেমেন্ট করার আগে ফির পরিমাণ এবং আবেদনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করুন।

লেনদেন সফল হলে ট্রানজ্যাকশন আইডি এবং নিশ্চিতকরণ বার্তা সংরক্ষণ করুন। কোনো সমস্যা হলে একই পেমেন্ট বারবার করার পরিবর্তে প্রথমে লেনদেনের অবস্থা পরীক্ষা করুন।

ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পেমেন্ট

পোর্টালে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের সুবিধা থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করে পেমেন্ট করুন। ব্যাংকিং সেবার নিরাপত্তা বজায় রাখুন এবং গোপন তথ্য অপরিচিত কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না।

পেমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর পোর্টালে আবেদন স্ট্যাটাস যাচাই করুন।

ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট

পোর্টালে নির্ধারিত কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্টের সুবিধা থাকলে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুযায়ী লেনদেন সম্পন্ন করুন। কার্ডের তথ্য প্রবেশ করানোর আগে নিশ্চিত হোন যে আপনি সঠিক পেমেন্ট পেজে রয়েছেন।

পেমেন্টের পর নিশ্চিতকরণ বার্তা বা রসিদ পাওয়া গেলে সেটি সংরক্ষণ করুন।

পেমেন্টের সময় সতর্কতা

কোনো অপরিচিত ব্যক্তির ব্যক্তিগত নম্বরে সমাবর্তনের ফি পাঠাবেন না। পেমেন্টের জন্য শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ব্যবস্থা ব্যবহার করুন।

পেমেন্টের অবস্থা নিশ্চিত না হয়ে একই ফি একাধিকবার দেবেন না। টাকা কেটে নেওয়া হলেও পোর্টালে আবেদন অসম্পূর্ণ দেখালে লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণ করে সহায়তা নিন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন আবেদন ফরম পূরণের নিয়ম

সমাবর্তনের আবেদন ফরম পূরণ করার সময় নিজের শিক্ষাগত তথ্য ও ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া জরুরি। দ্রুত আবেদন শেষ করার জন্য অনুমানের ভিত্তিতে তথ্য পূরণ করা উচিত নয়।

পরীক্ষার নাম নির্বাচন

পোর্টালে পরীক্ষার নাম নির্বাচন করার সময় নিজের ডিগ্রির সঙ্গে মিল রয়েছে এমন অপশন বেছে নিন। সাধারণ স্নাতক, স্নাতক সম্মান, মাস্টার্স ফাইনাল এবং এমবিএর মতো কোর্সের নাম আলাদা হতে পারে।

একটি কোর্সের যোগ্যতা অন্য কোর্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধরে নেবেন না। পরীক্ষার নাম এবং পাসের বছর দুটিই যাচাই করুন।

রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর পূরণ

রোল নম্বর এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর মূল নথি দেখে লিখুন। নম্বরের কোনো অঙ্ক বাদ পড়েছে কি না, তা যাচাই করুন।

নম্বরের শুরুতে শূন্য থাকলে সেটি বাদ দেবেন না। তথ্য পূরণের পর আবার মিলিয়ে নিন।

ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ

পোর্টালে ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হলে নিজের নথির সঙ্গে মিল রেখে লিখুন। নামের বানান, মোবাইল নম্বর এবং ই-মেইল ঠিকানা ভুল হলে পরবর্তী সময়ে যোগাযোগে সমস্যা হতে পারে।

ফি যাচাই ও আবেদন জমা

সব তথ্য পূরণ করার পর ফির পরিমাণ যাচাই করুন। কোনো তথ্য ভুল থাকলে সাবমিট করার আগে সংশোধন করুন।

আবেদন জমা দেওয়ার পর পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে কি না, তা পোর্টালের নিয়মের ওপর নির্ভর করে। তাই সাবমিট করার আগে পুরো ফরম আবার পড়ে নেওয়া ভালো।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশন স্ট্যাটাস যাচাই করার নিয়ম

আবেদন করার পর অনেক শিক্ষার্থী জানতে চান, তাঁদের রেজিস্ট্রেশন সফল হয়েছে কি না। এ ক্ষেত্রে পোর্টালে আবেদন বা পেমেন্টের অবস্থা দেখার সুবিধা থাকলে সেটি ব্যবহার করতে হবে।

প্রথমে রেজিস্ট্রেশন পোর্টালে প্রবেশ করুন। এরপর পোর্টালে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করুন।

আবেদন সফল দেখালে রেজিস্ট্রেশন স্লিপ এবং পেমেন্টের রসিদ সংরক্ষণ করুন। যদি আবেদন অসম্পূর্ণ দেখায়, তাহলে কোন ধাপ বাকি আছে তা বুঝে নিন।

পেমেন্টের পর স্ট্যাটাস হালনাগাদ হতে দেরি হলে সঙ্গে সঙ্গে আবার টাকা পাঠাবেন না। প্রথমে লেনদেনের তথ্য যাচাই করুন। প্রয়োজন হলে নির্ধারিত সহায়তা নম্বরে যোগাযোগ করুন।

পোর্টালে আবেদন স্ট্যাটাস দেখার ব্যবস্থা না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত যোগাযোগমাধ্যমে সহায়তা নিন। অনুমানের ভিত্তিতে আবেদন সফল বা ব্যর্থ বলে সিদ্ধান্ত নেবেন না।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন ফরম ও রেজিস্ট্রেশন স্লিপ ডাউনলোড

আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর পোর্টালে যদি রেজিস্ট্রেশন স্লিপ বা পেমেন্ট রসিদ ডাউনলোডের সুবিধা থাকে, তাহলে সেখান থেকে ফাইল সংগ্রহ করুন।

ফাইল ডাউনলোড করার পর নিজের নাম, পরীক্ষার তথ্য, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং পেমেন্টের বিবরণ যাচাই করুন। কোনো তথ্য ভুল থাকলে সংশোধনের নিয়ম সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা দেখুন।

ফাইলটি PDF আকারে পাওয়া গেলে মোবাইল বা কম্পিউটারে সংরক্ষণ করুন। প্রয়োজনে প্রিন্ট করে রাখুন।

রেজিস্ট্রেশন স্লিপ, প্রবেশপত্র এবং সনদ সংগ্রহের নথি এক বিষয় নয়। কোন নথি কখন প্রয়োজন হবে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন গাউন ও পোশাকসংক্রান্ত তথ্য

সমাবর্তনে সাধারণত নির্ধারিত একাডেমিক পোশাক ব্যবহার করা হয়। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭-এর গাউন বিতরণ, সংগ্রহের সময়, স্থান এবং অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

গাউন সংগ্রহের জন্য রেজিস্ট্রেশন স্লিপ, পেমেন্ট রসিদ বা অন্য কোনো নথি প্রয়োজন কি না, তা পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিশ্চিত করুন।

সমাবর্তনের পোশাক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু যাচাই না করে কোনো তথ্যকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার সময়, প্রবেশের নিয়ম এবং পোশাকসংক্রান্ত নির্দেশনা প্রকাশিত হলে তা ভালোভাবে পড়ে নিন। এতে অনুষ্ঠানের দিন অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন সনদসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

সমাবর্তন উপলক্ষে সনদ ফি নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে যাঁরা আগে মূল সনদ সংগ্রহ করেছেন এবং যাঁরা এখনো সংগ্রহ করেননি, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আলাদা হতে পারে।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি সনদের জন্য ৮০০ টাকা অথবা ১০ মার্কিন ডলার ফি প্রযোজ্য হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট মূল সনদ আগে সংগ্রহ করা থাকলে সেই সনদের জন্য পুনরায় ফি দিতে হবে না।

সমাবর্তনে অংশগ্রহণের রেজিস্ট্রেশন এবং মূল সনদ সংগ্রহের বিষয়টি এক নয়। কেউ আগে মূল সনদ সংগ্রহ করে থাকলেও সমাবর্তনে অংশ নিতে চাইলে নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে।

যাঁরা এখনো মূল সনদ সংগ্রহ করেননি, তাঁদের ক্ষেত্রে পোর্টালে প্রদর্শিত ফি ও নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন। সনদ সংগ্রহের সময়, পদ্ধতি এবং বিতরণসংক্রান্ত তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় সমাবর্তনের মধ্যে পার্থক্য

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন নিয়ে অনুসন্ধান করার সময় অনেকেই প্রথম সমাবর্তনের পুরোনো তথ্য দেখতে পান। ফলে বর্তমান সমাবর্তনের ফি, যোগ্যতা এবং আবেদনের নিয়ম নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

প্রথম সমাবর্তনের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা নিয়ম দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭-এর ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। বর্তমান সমাবর্তনের জন্য প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদন করতে হবে।

পুরোনো কোনো পোস্টে ভিন্ন ফি, অন্য সময়সীমা অথবা আলাদা যোগ্যতার কথা উল্লেখ থাকলে সেটিকে বর্তমান নির্দেশনার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করবেন না।

বর্তমান সমাবর্তনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পাসের বছর, রেজিস্ট্রেশন ফি এবং আবেদনের শেষ তারিখ মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। আবেদন করার আগে নিজের কোর্সের নাম ও পাসের বছর যাচাই করলে ভুল আবেদন করার ঝুঁকি কমে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন আবেদন করার সময় সাধারণ ভুল

রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় কিছু সাধারণ ভুলের কারণে আবেদনকারীরা সমস্যায় পড়তে পারেন। এসব বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক থাকলে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হবে।

ভুল পাসের বছর নির্বাচন

বিভিন্ন কোর্সের পাসের বছরের সময়সীমা আলাদা। তাই অন্য শিক্ষার্থীর যোগ্যতা দেখে নিজের যোগ্যতা নির্ধারণ করবেন না।

ভুল রোল নম্বর বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর

একটি অঙ্ক ভুল হলেও শিক্ষাগত তথ্য যাচাইয়ে সমস্যা হতে পারে। মূল নথি দেখে নম্বর লিখুন এবং সাবমিট করার আগে আবার যাচাই করুন।

ভুল কোর্স নির্বাচন

একাধিক কোর্সের নাম কাছাকাছি মনে হলেও সেগুলো আলাদা হতে পারে। নিজের ডিগ্রির নাম অনুযায়ী সঠিক অপশন নির্বাচন করুন।

পেমেন্টের আগে ফির পরিমাণ যাচাই না করা

রেজিস্ট্রেশন ফি এবং সনদ ফি আলাদা। নিজের ক্ষেত্রে কত টাকা দিতে হবে, তা পোর্টালে প্রদর্শিত তথ্য অনুযায়ী নিশ্চিত করুন।

শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা করা

১২ নভেম্বর ২০২৬ হলো নির্ধারিত শেষ তারিখ। শেষ দিনে ওয়েবসাইট বা পেমেন্টে সমস্যা হলে আবেদন সম্পন্ন করা কঠিন হতে পারে। তাই সময় হাতে থাকতে আবেদন করুন।

রসিদ সংরক্ষণ না করা

আবেদন সফল হলে রেজিস্ট্রেশন স্লিপ এবং পেমেন্ট রসিদ সংরক্ষণ করুন। প্রয়োজনে প্রিন্ট কপিও রাখুন।

অননুমোদিত পেজে তথ্য দেওয়া

সমাবর্তনের নামে অপরিচিত ওয়েবসাইট বা ব্যক্তির কাছে টাকা পাঠাবেন না। পেমেন্টের জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থা ব্যবহার করুন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনসংক্রান্ত সমস্যা হলে কী করবেন?

আবেদন, যোগ্যতা যাচাই অথবা পেমেন্টসংক্রান্ত সমস্যা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করুন।

সমস্যার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত রাখুন। পেমেন্টের সমস্যা হলে লেনদেনের তারিখ, ট্রানজ্যাকশন আইডি এবং রসিদ সংরক্ষণ করুন। শিক্ষাগত তথ্য যাচাইয়ের সমস্যা হলে নিজের কোর্স, পাসের বছর এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য উল্লেখ করুন।

সমাবর্তনসংক্রান্ত সহায়তার জন্য প্রকাশিত যোগাযোগের নম্বরগুলো হলো:

  • রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত সহায়তা: ০১৩৪৭-৫৫২১৫১ থেকে ০১৩৪৭-৫৫২১৫৭

  • পেমেন্টসংক্রান্ত সহায়তা: ০১৩৪৭-৫৫২১৫৮

  • সহায়তার সময়: সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট

  • ই-মেইল: convocation@nu.ac.bd

যোগাযোগের আগে নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া ভালো। কোনো সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আবেদনসংক্রান্ত নথি ও পেমেন্টের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন ২০২৭ নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭ কবে অনুষ্ঠিত হবে?

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২৩ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানস্থল ও পূর্ণাঙ্গ অনুষ্ঠানসূচি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশন কবে শুরু হবে?

অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ কবে?

নির্ধারিত শেষ তারিখ ১২ নভেম্বর ২০২৬। সময়সীমা পরিবর্তন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশন ফি কত?

রেজিস্ট্রেশন ফি ৪,০০০ টাকা অথবা ৪০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন সনদ ফি কত?

প্রতিটি সনদের জন্য ৮০০ টাকা অথবা ১০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে সংশ্লিষ্ট মূল সনদ সংগ্রহ করা থাকলে সেই সনদের জন্য আবার ফি দিতে হবে না।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে কারা অংশ নিতে পারবেন?

বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত পাসের বছরের মধ্যে স্নাতক পাস, স্নাতক সম্মান, মাস্টার্স ফাইনাল, এমবিএ এবং বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্সের যোগ্য গ্র্যাজুয়েটরা আবেদন করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়সীমার এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্ত গবেষকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

২০২৪ সালে অনার্স পাস করলে কি আবেদন করা যাবে?

স্নাতক সম্মানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল। তাই ২০২৪ সালে উত্তীর্ণরা এই সময়সীমার মধ্যে রয়েছেন। তবে নিজের তথ্য দিয়ে চূড়ান্ত যোগ্যতা যাচাই করতে হবে।

২০২৫ সালে অনার্স পাস করলে কি আবেদন করা যাবে?

স্নাতক সম্মানের জন্য উল্লেখ করা সময়সীমা ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল। ফলে ২০২৫ সালে উত্তীর্ণরা এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পড়েন না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা নির্দেশনা প্রকাশিত হলে সেটি অনুসরণ করতে হবে।

মোবাইল দিয়ে কি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশন করা যাবে?

পোর্টাল মোবাইল ব্রাউজারে সঠিকভাবে কাজ করলে মোবাইল দিয়ে আবেদন করা সম্ভব হতে পারে। সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করে পেমেন্টের পর আবেদন সফল হয়েছে কি না নিশ্চিত করতে হবে।

আগে মূল সনদ সংগ্রহ করলে কি আবার সনদ ফি দিতে হবে?

না। সংশ্লিষ্ট মূল সনদ আগে সংগ্রহ করা থাকলে সেই সনদের জন্য পুনরায় সনদ ফি দিতে হবে না। তবে রেজিস্ট্রেশন ফি প্রযোজ্য থাকবে।

সমাবর্তনের ফি কীভাবে দেওয়া যাবে?

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে ফি দিতে হবে। পোর্টালে প্রদর্শিত অনুমোদিত মাধ্যম নির্বাচন করে লেনদেন সম্পন্ন করুন।

পেমেন্টের টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু আবেদন সম্পন্ন হয়নি—কী করব?

প্রথমে পোর্টালে পেমেন্টের অবস্থা যাচাই করুন। ট্রানজ্যাকশন আইডি ও রসিদ সংরক্ষণ করুন। অবস্থা নিশ্চিত না হয়ে আবার পেমেন্ট করবেন না। প্রয়োজনে নির্ধারিত পেমেন্ট সহায়তা নম্বরে যোগাযোগ করুন।

সমাবর্তনের গাউন কোথা থেকে সংগ্রহ করতে হবে?

গাউন বিতরণের স্থান, সময় এবং সংগ্রহের নিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবর্তনের অনুষ্ঠানস্থল কোথায়?

অনুষ্ঠানস্থল সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। যাচাই না করে কোনো নির্দিষ্ট স্থানকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখের পর আবেদন করা যাবে কি?

বর্তমান সময়সীমা ১২ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। সময়সীমা পেরিয়ে গেলে আবেদন গ্রহণ করা হবে কি না, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করা উচিত।

এমফিল ও পিএইচডি গবেষকেরা কি সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবেন?

হ্যাঁ, বিজ্ঞপ্তিতে ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ডিগ্রিপ্রাপ্ত এমফিল ও পিএইচডি গবেষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ডিগ্রির তথ্য ও নির্দেশনা অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করতে হবে।

শেষ কথা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার আগে নিজের কোর্স, পাসের বছর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং প্রযোজ্য ফি সঠিকভাবে যাচাই করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭ সালের ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা ১২ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪,০০০ টাকা অথবা ৪০ মার্কিন ডলার। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রতিটি সনদের জন্য ৮০০ টাকা অথবা ১০ মার্কিন ডলার সনদ ফি দিতে হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট মূল সনদ আগে সংগ্রহ করা থাকলে একই সনদের জন্য পুনরায় ফি দিতে হবে না।

আবেদন করার সময় সঠিক তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করুন, পেমেন্টের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন এবং রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে কি না নিশ্চিত করুন। এরপর গাউন সংগ্রহ, প্রবেশের নিয়ম, অনুষ্ঠানস্থল ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

সমাবর্তনসংক্রান্ত কোনো তথ্য নিয়ে সন্দেহ থাকলে অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত হয়ে নিন। এতে ভুল আবেদন, অপ্রয়োজনীয় অর্থ পরিশোধ এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা মিস করার ঝুঁকি কমবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top