বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে সারাদেশের লক্ষাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক প্রতি বছরের মতো এবারও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। দাখিল রেজাল্ট ২০২৬ নির্ধারিত সময়ে প্রকাশিত হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা এখন অনলাইন, মোবাইল অ্যাপ ও এসএমএসের মাধ্যমে মার্কশিটসহ পূর্ণাঙ্গ ফলাফল দেখতে পারছেন। এই লেখায় দাখিল রেজাল্ট সংগ্রহের প্রতিটি পদ্ধতি, সম্ভাব্য সমস্যার সমাধান, জিপিএ গ্রেডিং সিস্টেম, বৃত্তির তথ্য এবং খাতা পুনঃনিরীক্ষণ আবেদনের নিয়ম নিয়ে ধাপে ধাপে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, যাতে একটি লেখাতেই আপনি সব প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে যান।
রেজাল্ট দেখতে নিচের স্ক্রল করুন
দাখিল পরীক্ষা ২০২৬ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষা দেশব্যাপী শুরু হয় ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে, এবং তাত্ত্বিক পরীক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ৭ থেকে ১৪ জুন ২০২৬ পর্যন্ত। সারাদেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে এসএসসি ও দাখিল সমমানের পরীক্ষায় এবার প্রায় ১৯ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল দাখিল পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর খাতা মূল্যায়ন ও ফলাফল প্রস্তুতের কাজ শুরু হয় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তত্ত্বাবধানে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা দরকার—দাখিল পরীক্ষা কোনোভাবেই ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হয়নি, বরং এপ্রিল-জুন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সঠিক তথ্য জানা না থাকলে ফলাফল সংক্রান্ত অনেক ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে, তাই নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
দাখিল রেজাল্ট ২০২৬ কবে প্রকাশিত হয়েছে?
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী দাখিল ও এসএসসি সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের জন্য ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখ সকাল ১১টা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফলাফল প্রস্তুতের কাজে সামান্য সময় বেশি লাগায় বোর্ড কর্তৃপক্ষ একাধিকবার সময়সূচি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করে। মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সরকারপ্রধানের কাছে সার্বিক ফলাফলের সারসংক্ষেপ হস্তান্তরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট, eboardresults.com এবং এসএমএস সিস্টেম সচল হয়ে যায়, যাতে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের ফলাফল জানতে পারেন।
পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সঠিক সংখ্যা বোর্ডের সরকারি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা এই লেখায় আপডেট করে দেব, যাতে আপনি সবসময় হালনাগাদ তথ্য পান।
দাখিল রেজাল্ট ২০২৬ দেখার ৪টি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি
দাখিল পরীক্ষার ফলাফল জানার জন্য মূলত চারটি পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়। প্রতিটি পদ্ধতিরই আলাদা সুবিধা রয়েছে, তাই আপনার সুবিধামতো যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন।
- শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (educationboardresults.gov.bd)
- eboardresults.com ওয়েবসাইট, যেখানে বিস্তারিত মার্কশিট পাওয়া যায়
- Education Board Result মোবাইল অ্যাপ (Android)
- এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল যাচাই
পদ্ধতি ১: educationboardresults.gov.bd থেকে রেজাল্ট দেখার নিয়ম
- প্রথমে ব্রাউজারে গিয়ে educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
- Examination অপশন থেকে Dakhil নির্বাচন করুন।
- Year ঘরে 2026 এবং Board ঘরে Madrasah নির্বাচন করুন।
- আপনার Roll Number এবং Registration Number সঠিকভাবে টাইপ করুন।
- নিচে দেওয়া সাধারণ গাণিতিক ক্যাপচা পূরণ করুন (যেমন ৭+৫= এর উত্তর লিখুন)।
- সবশেষে Submit বাটনে ক্লিক করলেই নতুন পেজে আপনার ফলাফল প্রদর্শিত হবে।
ফলাফল পেজে জিপিএ, গ্রেড এবং প্রতিষ্ঠানের তথ্য দেখানো হয়, তবে বিষয়ভিত্তিক নম্বরের বিস্তারিত মার্কশিট দেখতে চাইলে দ্বিতীয় পদ্ধতিটি অনুসরণ করা ভালো।
পদ্ধতি ২: eboardresults.com থেকে পূর্ণাঙ্গ মার্কশিট দেখার নিয়ম
বিষয়ভিত্তিক নম্বরসহ সম্পূর্ণ মার্কশিট দেখার জন্য eboardresults.com সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে ধাপগুলো হলো—
- eboardresults.com ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
- Examination ঘরে SSC/Dakhil/Equivalent নির্বাচন করুন।
- Year ঘরে ২০২৬ এবং Board ঘরে Madrasah সিলেক্ট করুন।
- Roll Number লিখুন এবং বিস্তারিত নম্বরসহ ফলাফল দেখতে চাইলে Registration Number অবশ্যই লিখতে হবে।
- সিকিউরিটি কি পূরণ করে View Result বাটনে ক্লিক করুন।
এই পদ্ধতিতে প্রতিটি বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর, লেটার গ্রেড এবং সামগ্রিক জিপিএ একসঙ্গে দেখা যায়, যা প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করাও সহজ।
পদ্ধতি ৩: মোবাইল অ্যাপ দিয়ে দাখিল রেজাল্ট দেখার নিয়ম
অনেকেই জানেন না যে গুগল প্লে স্টোরে “Education Board Result – BD” নামের অফিসিয়াল অ্যাপ রয়েছে, যা দিয়ে ইন্টারনেট ধীরগতির সময়েও দ্রুত ফলাফল দেখা যায়। অ্যাপটি ইনস্টল করার পর—
- অ্যাপ ওপেন করে Examination Type থেকে Dakhil নির্বাচন করুন।
- Board হিসেবে Madrasah এবং Year হিসেবে 2026 সিলেক্ট করুন।
- Roll ও Registration নম্বর দিয়ে Get Result বাটনে চাপুন।
ওয়েবসাইটে সার্ভার জ্যাম থাকলে এই অ্যাপ অনেক সময় দ্রুত কাজ করে, বিশেষ করে ফলাফল প্রকাশের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় যখন লাখ লাখ শিক্ষার্থী একসঙ্গে ওয়েবসাইট ভিজিট করেন।
পদ্ধতি ৪: এসএমএসের মাধ্যমে দাখিল রেজাল্ট দেখার নিয়ম
যাদের ইন্টারনেট সংযোগ নেই বা গ্রামীণ এলাকায় নেটওয়ার্ক সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এসএমএস পদ্ধতি সবচেয়ে সহজ সমাধান। যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে মেসেজ অপশনে গিয়ে নিচের ফরম্যাটে লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে—
ফরম্যাট: Dakhil (স্পেস) বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর (স্পেস) রোল নম্বর (স্পেস) পাসের সাল, এরপর 16222 তে সেন্ড করুন।
উদাহরণ: Dakhil MAD 123456 2026 লিখে 16222 নম্বরে পাঠান।
প্রতিটি এসএমএসের জন্য ২.৫০ টাকা কেটে নেওয়া হয়, তাই মেসেজ পাঠানোর আগে ব্যালেন্স চেক করে নেওয়া ভালো। ফিরতি মেসেজে সংক্ষিপ্ত আকারে জিপিএ ও গ্রেড জানিয়ে দেওয়া হয়, তবে বিষয়ভিত্তিক নম্বর এসএমএসে পাওয়া যায় না।
রেজাল্ট দেখতে সমস্যা হলে করণীয়
ফলাফল প্রকাশের দিন লাখ লাখ শিক্ষার্থী একসঙ্গে ওয়েবসাইট ভিজিট করার কারণে সার্ভারে চাপ পড়ে, ফলে অনেক সময় পেজ লোড হতে দেরি হয় বা এরর দেখায়। এমন পরিস্থিতিতে করণীয়—
- একটু সময় নিয়ে কয়েক মিনিট পরপর চেষ্টা করুন, বারবার রিফ্রেশ করলে সার্ভারের চাপ আরও বাড়ে।
- ওয়েবসাইটে সমস্যা হলে অ্যাপ অথবা এসএমএস পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
- রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর টাইপ করার সময় কোনো ভুল হচ্ছে কিনা তা আবার যাচাই করুন।
- ভিন্ন ব্রাউজার বা মোবাইল ডাটা/ওয়াইফাই পরিবর্তন করে চেষ্টা করতে পারেন।
- অপরিচিত বা ভুয়া ওয়েবসাইট থেকে রেজাল্ট দেখার চেষ্টা করবেন না, কারণ প্রতারণামূলক সাইটে ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হতে পারে। সবসময় সরকারি ওয়েবসাইট বা যাচাইকৃত সূত্র ব্যবহার করুন।
জিপিএ ও গ্রেড পয়েন্ট সিস্টেম
দাখিল পরীক্ষার ফলাফল গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ (GPA) পদ্ধতিতে প্রকাশিত হয়। নিচের টেবিলে সম্পূর্ণ গ্রেডিং সিস্টেম দেখানো হলো—
| প্রাপ্ত নম্বরের রেঞ্জ | লেটার গ্রেড | গ্রেড পয়েন্ট |
|---|---|---|
| ৮০–১০০ | A+ | ৫.০০ |
| ৭০–৭৯ | A | ৪.০০ |
| ৬০–৬৯ | A- | ৩.৫০ |
| ৫০–৫৯ | B | ৩.০০ |
| ৪০–৪৯ | C | ২.০০ |
| ৩৩–৩৯ | D | ১.০০ |
| ৩৩ এর নিচে | F | ০.০০ |
প্রতিটি বিষয়ের প্রাপ্ত গ্রেড পয়েন্টের গড় করেই চূড়ান্ত জিপিএ নির্ধারণ করা হয়। কোনো একটি বিষয়ে F গ্রেড পেলে সামগ্রিক ফলাফল অকৃতকার্য বলে বিবেচিত হয়, তাই প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম পাস নম্বর নিশ্চিত করা জরুরি।
দাখিল বৃত্তি ২০২৬: কারা পাবেন এবং কীভাবে আবেদন করবেন
দাখিল পরীক্ষায় ভালো ফলাফলকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড প্রতি বছর ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি প্রদান করে থাকে। সাধারণত যারা GPA-5.00 অর্জন করেন, বিশেষ করে যারা প্রতিটি বিষয়ে A+ পেয়েছেন, তারা ট্যালেন্টপুল বৃত্তির জন্য বিবেচিত হন। এছাড়া জেলা বা বোর্ড ভিত্তিক মেধাক্রম অনুযায়ী সাধারণ গ্রেডেও বৃত্তি দেওয়া হয়। বৃত্তির ফলাফল সাধারণত মূল রেজাল্টের কিছুদিন পরে পৃথকভাবে প্রকাশিত হয় এবং বোর্ডের ওয়েবসাইটে পিডিএফ আকারে পাওয়া যায়। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অংকের উপবৃত্তি এবং একসঙ্গে কিছু অনুদানও প্রদান করা হয়, যা পরবর্তী শিক্ষাজীবনে আর্থিক সহায়তা হিসেবে কাজ করে।
খাতা পুনঃনিরীক্ষণ বা বোর্ড চ্যালেঞ্জ আবেদনের নিয়ম
ফলাফলে সন্তুষ্ট না হলে বা কোনো বিষয়ে প্রত্যাশার চেয়ে কম নম্বর পেলে শিক্ষার্থীরা খাতা পুনঃনিরীক্ষণ বা বোর্ড চ্যালেঞ্জের জন্য আবেদন করতে পারেন। এই প্রক্রিয়ায়—
- ফলাফল প্রকাশের পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে (সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে) আবেদন সম্পন্ন করতে হয়।
- আবেদন করতে হয় টেলিটক প্রিপেইড সিম থেকে এসএমএসের মাধ্যমে, যেখানে বোর্ড, রোল নম্বর এবং যে বিষয়ে পুনঃনিরীক্ষণ করাতে চান তার কোড উল্লেখ করতে হয়।
- প্রতিটি বিষয়ের জন্য নির্ধারিত ফি (সাধারণত ১২৫ টাকা) প্রযোজ্য, যা এসএমএসের মাধ্যমেই কেটে নেওয়া হয়।
- একাধিক বিষয়ের জন্য আবেদন করতে চাইলে প্রতিটি বিষয় আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হবে।
- পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল সাধারণত আবেদনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।
খাতা পুনঃনিরীক্ষণে মূলত উত্তরপত্রের নম্বর যোগ ঠিকভাবে হয়েছে কিনা এবং সব প্রশ্নের উত্তর মূল্যায়ন করা হয়েছে কিনা তা পুনরায় যাচাই করা হয়, এটি নতুন করে খাতা মূল্যায়নের সুযোগ নয়।
পূর্ববর্তী বছরের ফলাফলের প্রবণতা
ফলাফলের ধারা বোঝার জন্য পূর্ববর্তী বছরগুলোর তথ্য সহায়ক হতে পারে। ২০২৫ সালে মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ছিল প্রায় ৬৮ শতাংশের কাছাকাছি এবং কয়েক হাজার শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছিলেন, যা তার আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। সামগ্রিকভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল্যায়ন পদ্ধতি কঠোর হওয়ায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় উঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। এই প্রবণতা থেকে বোঝা যায় যে শুধু মুখস্থনির্ভর প্রস্তুতির পরিবর্তে ধারণাভিত্তিক পড়াশোনায় জোর দেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর।
দাখিল রেজাল্টের পর পরবর্তী করণীয়
রেজাল্ট হাতে পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় থাকে। যারা কৃতকার্য হয়েছেন তারা আলিম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন, আবার অনেকে সাধারণ শিক্ষা ধারায় একাদশ শ্রেণিতেও ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান, কারণ দাখিল সনদ এসএসসি সমমান হিসেবে স্বীকৃত। ভর্তির জন্য প্রাথমিকভাবে মূল মার্কশিট বা অনলাইন রেজাল্টের প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ করা জরুরি, কারণ পরবর্তী ভর্তি প্রক্রিয়ায় এটি কাজে লাগে। যারা প্রত্যাশিত ফলাফল পাননি, তাদের জন্য খাতা পুনঃনিরীক্ষণের পাশাপাশি ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নিয়ে ইতিবাচক মানসিকতায় এগিয়ে যাওয়াই উত্তম পরামর্শ।
দাখিল পরীক্ষার গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ সুযোগ
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত দাখিল পরীক্ষা বর্তমানে সাধারণ শিক্ষা ধারার এসএসসি পরীক্ষার সমমান হিসেবে স্বীকৃত, আর আলিম পরীক্ষা এইচএসসির সমমান। এই স্বীকৃতির ফলে দাখিল ও আলিম উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা দেশের যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করতে পারেন, পাশাপাশি সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও এই সনদের সমান মূল্যায়ন রয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞান শেখার সুযোগ থাকায় মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা দিন দিন শিক্ষার্থীদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
ফলাফল প্রকাশের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভুয়া তথ্য ও প্রতারণামূলক লিংক ছড়িয়ে পড়ে। তাই—
- কেবলমাত্র সরকারি ওয়েবসাইট (educationboardresults.gov.bd, eboardresults.com) বা অফিসিয়াল অ্যাপ থেকেই ফলাফল যাচাই করুন।
- কোনো অপরিচিত লিংকে ব্যক্তিগত তথ্য বা মোবাইল ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করবেন না।
- ফলাফল সংক্রান্ত কোনো “স্পেশাল অফার” বা “আগে ফল জানুন” জাতীয় বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত হবেন না, কারণ সরকারি প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো মাধ্যম নির্ভরযোগ্য নয়।
শেষ কথা
দাখিল রেজাল্ট ২০২৬ সংগ্রহের প্রক্রিয়া মূলত সহজ, তবে সঠিক তথ্য ও পদ্ধতি জানা থাকলে ঝামেলামুক্তভাবে দ্রুত ফলাফল পাওয়া সম্ভব। ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ কিংবা এসএমএস—যেকোনো মাধ্যমেই ফলাফল দেখা যাক না কেন, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর সঠিকভাবে ব্যবহার করা এবং শুধুমাত্র নির্ভরযোগ্য সরকারি উৎস অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফলাফল যাই হোক না কেন, ভবিষ্যতের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় মনোযোগী হওয়াই প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী পদক্ষেপ। রোল বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফলাফল খুঁজে পেতে সমস্যা হলে নিচে কমেন্টে জানাতে পারেন, আমরা যথাসাধ্য সহায়তা করার চেষ্টা করব।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: দাখিল রেজাল্ট ২০২৬ কবে প্রকাশিত হয়েছে?
উত্তর: শিক্ষা বোর্ডের ঘোষণা অনুযায়ী দাখিল ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখ সকাল ১১টায় প্রকাশ করা হয়।
প্রশ্ন: রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছাড়া কি দাখিল রেজাল্ট দেখা যাবে?
উত্তর: শুধুমাত্র রোল নম্বর দিয়ে সংক্ষিপ্ত ফলাফল (জিপিএ ও গ্রেড) দেখা গেলেও বিষয়ভিত্তিক বিস্তারিত মার্কশিট দেখতে রেজিস্ট্রেশন নম্বর বাধ্যতামূলক।
প্রশ্ন: এসএমএসের মাধ্যমে দাখিল রেজাল্ট দেখতে কত টাকা খরচ হয়?
উত্তর: প্রতিটি এসএমএসের জন্য ২.৫০ টাকা কেটে নেওয়া হয়, তাই মেসেজ পাঠানোর আগে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স নিশ্চিত করে নিন।
প্রশ্ন: খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে কত টাকা লাগে?
উত্তর: প্রতিটি বিষয়ের জন্য সাধারণত ১২৫ টাকা ফি প্রযোজ্য, যা এসএমএসের মাধ্যমেই কেটে নেওয়া হয়।
প্রশ্ন: দাখিল সনদ কি এসএসসির সমমান হিসেবে গ্রহণযোগ্য?
উত্তর: হ্যাঁ, সরকারি স্বীকৃতি অনুযায়ী দাখিল সনদ এসএসসির সমমান এবং আলিম সনদ এইচএসসির সমমান হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রশ্ন: ওয়েবসাইটে সার্ভার সমস্যা হলে কী করব?
উত্তর: কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে পুনরায় চেষ্টা করুন অথবা অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপ বা এসএমএস পদ্ধতি ব্যবহার করুন, যা তুলনামূলক দ্রুত কাজ করে।
প্রশ্ন: দাখিল বৃত্তির ফলাফল কখন প্রকাশিত হয়?
উত্তর: মূল রেজাল্ট প্রকাশের কিছুদিন পর বোর্ডের ওয়েবসাইটে পৃথকভাবে বৃত্তির ফলাফল পিডিএফ আকারে প্রকাশ করা হয়।
প্রশ্ন: রেজাল্টে ভুল তথ্য দেখালে কী করণীয়?
উত্তর: প্রথমে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর সঠিক কিনা যাচাই করুন। সমস্যা থেকে গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন।



