সরকারি স্কুলে ভর্তি নীতিমালা ২০২৭।আবেদন পদ্ধতি, লটারি ও পরীক্ষার নিয়ম

এই আর্টিকেলে বিস্তারিত সব তথ্য দেওয়া হয়েছে — শেষ পর্যন্ত পড়লে সবকিছু পেয়ে যাবেন।
পোস্টকে রেটিং দিন

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। নতুন নীতিমালায় প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে লিখিত ভর্তি পরীক্ষা, শিক্ষার্থীর বয়সসীমা, আবেদন ফি, আসন সংরক্ষণ এবং ফলাফল প্রকাশের নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করাতে আগ্রহী অভিভাবকদের জন্য এসব তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আর্টিকেলের বিষয়সূচি

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে দিতে পারবে। অন্যদিকে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শূন্য আসনের বিপরীতে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণমান ৫০ এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষার পূর্ণমান ১০০ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আবেদন ফি-র ক্ষেত্রেও শ্রেণিভেদে আলাদা সর্বোচ্চ সীমা রাখা হয়েছে। প্রথম শ্রেণির অনলাইন আবেদন ফরমের জন্য সর্বোচ্চ ১১০ টাকা এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির জন্য সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা গ্রহণের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীর বয়স নির্ধারণ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বয়সে অতিরিক্ত সুবিধা এবং নির্দিষ্ট শ্রেণিতে বিভিন্ন ধরনের আসন সংরক্ষণের নিয়মও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই প্রতিবেদনে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নীতিমালা ২০২৭-এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যাতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন।

সরকারি স্কুলে ভর্তি নীতিমালা ২০২৭: গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একনজরে

  • শিক্ষাবর্ষ: ২০২৭।

  • নীতিমালা প্রকাশের তারিখ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬।

  • প্রযোজ্য শ্রেণি: এন্ট্রি শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত, শূন্য আসন থাকা সাপেক্ষে।

  • প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি: ডিজিটাল লটারি।

  • দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি: লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে।

  • প্রথম শ্রেণির আবেদন ফি: সর্বোচ্চ ১১০ টাকা।

  • দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির আবেদন ফি: সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা।

  • দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা: ৫০ নম্বর, সময় ১ ঘণ্টা।

  • ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষা: ১০০ নম্বর, সময় ২ ঘণ্টা।

  • প্রতি শ্রেণি শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা: ৫৫ জন।

  • প্রথম শ্রেণিতে পছন্দক্রম: সর্বোচ্চ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান।

  • শিক্ষাবর্ষ: ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এগুলো নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ বিধান। তবে আবেদন শুরুর তারিখ, শেষ তারিখ, পরীক্ষার নির্দিষ্ট দিন এবং আবেদন করার নির্ধারিত ওয়েবসাইট জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে।

সরকারি স্কুলে ভর্তির বয়সসীমা কত?

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর বয়স একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা। নীতিমালায় জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুসারে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীর বয়স ছয় বছর বা ৬+ রাখার কথা বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ১ জানুয়ারি তারিখে শিক্ষার্থীর সর্বনিম্ন বয়স পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ বয়স সাত বছর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তির বয়স গণনার ক্ষেত্রেও নীতিমালার নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

বয়স প্রমাণের জন্য কী লাগবে?

শিক্ষার্থীর বয়স নির্ধারণের জন্য ভর্তি আবেদন ফরমের সঙ্গে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। তাই আবেদন করার আগে জন্মনিবন্ধনে শিক্ষার্থীর নাম ও জন্মতারিখ সঠিক আছে কি না, তা যাচাই করা উচিত।

জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে আবেদনপত্রের তথ্যের অমিল থাকলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দিতে পারে। সে কারণে আগেভাগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা ভালো।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বয়সের সুবিধা

নীতিমালায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এই সুবিধা কীভাবে প্রয়োগ হবে, তা ভর্তি কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।

অভিভাবকদের উচিত এ ধরনের সুবিধা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা।

সরকারি স্কুলে ভর্তি ২০২৭: প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারি

প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী নির্বাচনের জন্য ডিজিটাল লটারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কেন্দ্রীয়ভাবে লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

লটারি পরিচালনার সময় ভর্তি কমিটির সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকার সঙ্গে শূন্য আসনের সমান সংখ্যক অপেক্ষমাণ তালিকাও প্রস্তুত করতে হবে।

প্রথম শ্রেণিতে কয়টি স্কুল পছন্দ দেওয়া যাবে?

নীতিমালা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে দিতে পারবে। তবে ডাবল শিফটের কোনো বিদ্যালয়ের উভয় শিফট পছন্দ করলে সেটিকে দুটি বিদ্যালয় পছন্দ করার সমতুল্য হিসেবে গণনা করা হবে।

এ কারণে আবেদন করার আগে বিদ্যালয়ের নাম, শিফট এবং পছন্দক্রম সতর্কতার সঙ্গে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

একই স্কুলে একাধিক আবেদন করলে কী হবে?

একই প্রতিষ্ঠানে একাধিক আবেদন করলে সব আবেদন বাতিল হবে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে তথ্য যাচাই করা জরুরি।

ভুল সংশোধনের প্রয়োজন হলে নতুন করে একাধিক আবেদন জমা না দিয়ে সংশ্লিষ্ট ভর্তি পোর্টাল বা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

লটারিতে নির্বাচিত না হলে কী করবেন?

প্রথম লটারিতে নির্বাচিত না হলেও অপেক্ষমাণ তালিকায় নাম রয়েছে কি না, তা যাচাই করা যেতে পারে। নির্বাচিত শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে ভর্তি না হলে ভর্তি কমিটির নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অপেক্ষমাণ তালিকায় নাম থাকলেই ভর্তি নিশ্চিত নয়। আসনের প্রাপ্যতা এবং তালিকার অবস্থান অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা ২০২৭

দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে শূন্য আসনের বিপরীতে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। পরীক্ষার ফল অনুযায়ী মেধাক্রম তৈরি করে শিক্ষার্থী বাছাই করতে হবে।

নীতিমালায় দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষার পূর্ণমান ও সময় আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষার নম্বরবণ্টন

দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণমান ৫০। বিষয়ভিত্তিক নম্বরবণ্টন নিচে দেওয়া হলো।

পরীক্ষার বিষয়

নম্বর

বাংলা

১৫

ইংরেজি

১৫

গণিত

২০

মোট

৫০

পরীক্ষার সময়: ১ ঘণ্টা।

এই শ্রেণিগুলোর শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজিতে ১৫ নম্বর করে এবং গণিতে ২০ নম্বরের প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে প্রশ্নের ধরন ও পাঠ্যসূচির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রেণির জন্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষার নম্বরবণ্টন

ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণমান ১০০। বিষয়ভিত্তিক নম্বরবণ্টন হলো:

পরীক্ষার বিষয়

নম্বর

বাংলা

৩০

ইংরেজি

৩০

গণিত

৪০

মোট

১০০

পরীক্ষার সময়: ২ ঘণ্টা।

গণিতে সর্বোচ্চ ৪০ নম্বর থাকায় শিক্ষার্থীদের গণিতের প্রস্তুতিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির মৌলিক বিষয়গুলো নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন কোথা থেকে হবে?

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মানসম্মত ও শ্রেণি-উপযোগী হতে হবে। প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সংশ্লিষ্ট শ্রেণির পাঠ্যবই অনুসরণ করতে হবে।

প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরিমার্জনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও রয়েছে।

তাই শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য সংশ্লিষ্ট শ্রেণির পাঠ্যবই ভালোভাবে পড়া, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অনুশীলন এবং সময় ধরে প্রশ্ন সমাধান করা উপকারী হবে।

ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ও সময় কীভাবে নির্ধারণ হবে?

নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটি যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে সভা করে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ও সময় নির্ধারণ করবে।

বিদ্যালয়ের প্রধানেরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের শূন্য আসনের সংখ্যা উল্লেখ করে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবেন। ভর্তি কমিটি জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা, ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তির প্রচারের ব্যবস্থা নেবে।

অতএব, পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ জানতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়, ভর্তি কমিটি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা উচিত।

সরকারি স্কুলে ভর্তি আবেদন ফি ২০২৭

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির অনলাইন আবেদন ফি-র সর্বোচ্চ সীমা নীতিমালায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

শ্রেণি

আবেদন ফি-র সর্বোচ্চ সীমা

প্রথম শ্রেণি

১১০ টাকা

দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি

২৫০ টাকা

এখানে উল্লেখ করা অর্থ আবেদন ফরমের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা। এটি বিদ্যালয়ের অন্য কোনো সম্ভাব্য চার্জ বা পরবর্তী ভর্তি-সংক্রান্ত অর্থের সমার্থক নয়।

আবেদন ফি জমা দেওয়ার সময় সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা পেমেন্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। ফি জমার প্রমাণ সংরক্ষণ করা এবং অননুমোদিত ব্যক্তিকে টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকা জরুরি।

সরকারি স্কুলে অনলাইন আবেদন করার নিয়ম

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি আবেদন, আবেদন ফি গ্রহণ, ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ এবং ফলাফল প্রকাশ অনলাইনে সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে।

আবেদন করার সময় নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করলে ভুলের আশঙ্কা কমে।

প্রথম ধাপ: ভর্তি বিজ্ঞপ্তি পড়ুন। প্রথমে সরকারি ভর্তি বিজ্ঞপ্তি থেকে আবেদনের সময়সীমা, যোগ্যতা, ফি ও অন্যান্য শর্ত জেনে নিন।

দ্বিতীয় ধাপ: বিদ্যালয় নির্বাচন করুন। সন্তানের শ্রেণি, পছন্দের বিদ্যালয়, শিফট এবং শূন্য আসনের তথ্য যাচাই করুন।

তৃতীয় ধাপ: সঠিক তথ্য পূরণ করুন। শিক্ষার্থীর নাম, জন্মতারিখ ও প্রয়োজনীয় তথ্য জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে মিলিয়ে পূরণ করুন।

চতুর্থ ধাপ: পছন্দক্রম যাচাই করুন। প্রথম শ্রেণির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচটি পছন্দ এবং ডাবল শিফটের নিয়ম অনুসরণ করুন।

পঞ্চম ধাপ: নির্ধারিত ফি দিন। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা নিয়মে আবেদন ফি জমা দিন।

ষষ্ঠ ধাপ: আবেদন সংরক্ষণ করুন। আবেদনসংক্রান্ত তথ্য ও পেমেন্টের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।

সপ্তম ধাপ: ফলাফল দেখুন। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচিত তালিকা, মেধাতালিকা বা অপেক্ষমাণ তালিকা যাচাই করুন।

আবেদনের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট ও সময়সীমা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য সরকারি বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত নির্দেশনা হিসেবে অনুসরণ করতে হবে।

সরকারি স্কুলে আসনসংখ্যা কত?

নীতিমালায় প্রতি শ্রেণি শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৫ জন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ে কোন শ্রেণিতে কতটি আসন খালি রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্যের ওপর নির্ভর করবে।

সরকারি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠানপ্রধানেরা নির্ধারিত সফটওয়্যারে শ্রেণিভিত্তিক শূন্য আসনের সংখ্যা ও অন্যান্য তথ্য প্রদান করবেন। ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শূন্য আসনের তথ্য প্রকাশ করার বিধানও রয়েছে।

দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এবং শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে ভর্তি কমিটি বিভিন্ন ক্লাস্টারে ভাগ করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী প্রতিটি ক্লাস্টারের যেকোনো একটি বিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারবে।

তাই আবেদন করার আগে বিদ্যালয়টি কোন ক্লাস্টারের অন্তর্ভুক্ত এবং সংশ্লিষ্ট শ্রেণিতে আসন খালি আছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

সরকারি স্কুলে আসন সংরক্ষণ ও কোটা ২০২৭

নীতিমালায় নির্দিষ্ট শ্রেণি ও যোগ্যতার ক্ষেত্রে কিছু আসন সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে। এসব সুবিধা গ্রহণের জন্য প্রযোজ্য শর্ত পূরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।

১. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী

ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের মোট আসনের ১০ শতাংশ আসন স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

২. ঢাকা মহানগরীর ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থী

ঢাকা মহানগরীর সরকারি বিদ্যালয়সংলগ্ন ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করতে হবে। অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বিদ্যালয়গুলোর আওতাধীন ক্যাচমেন্ট এলাকা নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্টদের জানাবে। তাই ঢাকার কোনো সরকারি বিদ্যালয়ে আবেদন করার আগে নিজের ঠিকানা সংশ্লিষ্ট ক্যাচমেন্ট এলাকার মধ্যে পড়ে কি না, তা যাচাই করা উচিত।

৩. মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান

মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের ভর্তির জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। এ সুবিধা নিতে আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক প্রমাণপত্রের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, এই সংরক্ষিত আসনে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে প্রথম ৩ শতাংশ আসন সহোদর বা সহোদরার জন্য এবং বাকি ২ শতাংশ সাধারণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে পূরণ করতে হবে। কোনো আসন খালি রাখা যাবে না।

৪. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। তবে ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং প্রমাণ হিসেবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে।

এই আসনে কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া না গেলে সাধারণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে আসন পূরণের বিধান রয়েছে।

৫. শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং নীতিমালার তফসিল-ক-এ উল্লিখিত অধীনস্থ দপ্তর বা সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য আরও ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।

অর্থাৎ, এ দুই শ্রেণির জন্য মোট ২ শতাংশ আসনের বিধান রয়েছে। এ সুবিধার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রত্যয়নপত্র ও ন্যূনতম যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে।

৬. সহোদর বা সহোদরার জন্য সংরক্ষিত আসন

কোনো বিদ্যালয়ে আবেদনকারী শিক্ষার্থীর সহোদর বা সহোদরা আগে থেকে অধ্যয়নরত থাকলে, অথবা একই সময়ে সহোদর বা সহোদরা আবেদন করলে, তাদের জন্য ৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।

তবে এ সুবিধা একটি দম্পতির মোট তিন সন্তান পর্যন্ত প্রযোজ্য। সহোদর বা সহোদরার আবেদন না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আসন যমজ ভাই বা বোনের জন্য উন্মুক্ত রাখার বিধান রয়েছে।

৭. যমজ ভাই বা বোনের জন্য সংরক্ষিত আসন

কোনো বিদ্যালয়ে আবেদনকারী শিক্ষার্থীর যমজ ভাই বা বোন আগে থেকে অধ্যয়নরত থাকলে, অথবা যমজ ভাই বা বোন একসঙ্গে নতুন আবেদন করলে, তাদের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।

এ ক্ষেত্রেও একটি দম্পতির মোট তিন সন্তান পর্যন্ত সুবিধা প্রযোজ্য। যমজ ভাই বা বোনের আবেদন না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আসন সহোদর বা সহোদরার জন্য উন্মুক্ত করা যাবে।

উল্লিখিত আসন সংরক্ষণের বিধানগুলো নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষ। একই শিক্ষার্থী বা পরিবারের ক্ষেত্রে একাধিক সুবিধা কীভাবে প্রয়োগ হবে, তা নিজে থেকে অনুমান না করে ভর্তি কমিটির নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের বদলির কারণে সন্তানের ভর্তি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে সন্তানের বিদ্যালয় পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে নীতিমালায় কিছু বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে।

বদলির আদেশের তারিখ থেকে ১২ মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ ভর্তি কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করতে হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, মহানগরী, সিটি করপোরেশন বা বিভাগীয় শহরে বদলির পর নতুন কর্মস্থল আগের কর্মস্থল থেকে গুগল ম্যাপ অনুযায়ী ১০ কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সন্তানের জন্য নতুন কর্মস্থলের নিকটবর্তী সরকারি বা বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থাকতে পারে। জেলা, উপজেলা বা থানার ক্ষেত্রে নতুন কর্মস্থলের নিকটবর্তী বিদ্যালয়ের বিধান প্রযোজ্য।

বদলিজনিত কারণে প্রতি শ্রেণি শাখার মোট আসনের ৫ শতাংশ অতিরিক্ত আসন সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পাবে।

পূর্বতন কর্মস্থলে পুনরায় বদলি হয়ে গেলে সন্তানের আগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনরায় ভর্তির সুযোগের কথাও নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটির কাছে প্রমাণপত্রসহ আবেদন করতে হবে।

সরকারি স্কুলে ভর্তি ফলাফল কীভাবে প্রকাশ হবে?

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির ডিজিটাল লটারির নির্বাচিত তালিকা এবং অন্যান্য শ্রেণির মেধাতালিকা ও অপেক্ষমাণ তালিকা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় প্রকাশ করা হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক বা বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে তালিকা প্রকাশের বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষিকা বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডেও তালিকা প্রকাশ করবেন।

প্রথম শ্রেণির ক্ষেত্রে ডিজিটাল লটারির আগে ব্যবহৃত সফটওয়্যারের যথার্থতা সরকার-স্বীকৃত অন্য একটি কারিগরি প্রতিষ্ঠান দিয়ে যাচাই করানোর বিধান রয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র সংরক্ষণ করতে হবে।

দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফলাফল তৈরির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। নীতিমালায় উত্তরপত্রে কোড নম্বর প্রদান, অন্য বিদ্যালয় বা ক্লাস্টারের শিক্ষকদের মাধ্যমে মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংরক্ষণের নির্দেশনা রয়েছে।

কোড নম্বর প্রদান থেকে ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার কাগজপত্র কমিটিকে এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে।

সরকারি স্কুলে ভর্তি ২০২৭: অভিভাবকদের করণীয়

ভর্তি প্রক্রিয়ায় ভুল এড়াতে অভিভাবকদের কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

  • শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধনের তথ্য যাচাই করুন।

  • প্রথম শ্রেণির ক্ষেত্রে পাঁচটি পছন্দের সীমা মনে রাখুন।

  • দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষার নম্বরবণ্টন অনুযায়ী প্রস্তুতি নিন।

  • সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত আবেদন ফি ও পেমেন্ট পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

  • বিদ্যালয়ের শূন্য আসন ও প্রযোজ্য ক্লাস্টার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করুন।

  • কোনো সংরক্ষিত আসনের সুবিধা প্রযোজ্য হলে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখুন।

  • আবেদন ও ফি জমার প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।

  • ফলাফল প্রকাশের পর নির্বাচিত তালিকা ও অপেক্ষমাণ তালিকা যাচাই করুন।

  • নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করুন।

  • অননুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভর্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিতে অর্থ দেবেন না।

সরকারি স্কুলে ভর্তি নীতিমালা ২০২৭: সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির সর্বোচ্চ বয়স কত?

নীতিমালায় ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ১ জানুয়ারি তারিখে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর বয়স সর্বনিম্ন পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণিতে ছয় বছর বা ৬+ বয়স ধরে ভর্তির কথা বলা হয়েছে।

প্রথম শ্রেণির আবেদন ফি কত?

প্রথম শ্রেণির অনলাইন আবেদন ফরমের জন্য সর্বোচ্চ ১১০ টাকা গ্রহণের বিধান রয়েছে।

দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির আবেদন ফি কত?

দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির অনলাইন আবেদন ফরমের জন্য সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা গ্রহণের বিধান রয়েছে।

দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা কত নম্বরের?

দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা ৫০ নম্বরের হবে। বাংলায় ১৫, ইংরেজিতে ১৫ এবং গণিতে ২০ নম্বর থাকবে। পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা।

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা কত নম্বরের?

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা ১০০ নম্বরের হবে। বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বর থাকবে। পরীক্ষার সময় দুই ঘণ্টা।

প্রতি শ্রেণি শাখায় কতজন শিক্ষার্থী থাকবে?

নীতিমালায় প্রতি শ্রেণি শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৫ জন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ঘোষিত শূন্য আসনের তথ্য যাচাই করতে হবে।

আবেদন করার শেষ তারিখ কবে?

আবেদনের শেষ তারিখ সংশ্লিষ্ট ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারণ করা হবে। নীতিমালার PDF থেকে নির্দিষ্ট আবেদন শুরুর ও শেষ তারিখ নিশ্চিত করা যায়নি।

সরকারি স্কুলে ভর্তির জন্য কোথায় যোগাযোগ করতে হবে?

প্রথমে সংশ্লিষ্ট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভর্তি কমিটি বা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুসরণ করুন। প্রয়োজনে বিদ্যালয়ের সরকারি যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করুন।

শেষ কথা

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালায় শিক্ষার্থী নির্বাচন, বয়সসীমা, আবেদন ফি, পরীক্ষার নম্বরবণ্টন, আসন সংরক্ষণ এবং ফলাফল প্রকাশের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারি এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে শূন্য আসনের বিপরীতে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

প্রথম শ্রেণির আবেদন ফি সর্বোচ্চ ১১০ টাকা এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির আবেদন ফি সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা ৫০ নম্বরের এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষা ১০০ নম্বরের হবে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আসন সংরক্ষণের বিধান রয়েছে।

অভিভাবকদের উচিত সরকারি নীতিমালা ভালোভাবে পড়ে সন্তানের বয়স, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বিদ্যালয়ের পছন্দক্রম এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিশ্চিত করা। আবেদনসংক্রান্ত কোনো তথ্য অস্পষ্ট হলে অনুমানের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটি বা বিদ্যালয়ের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

সরকারি তথ্যসূত্র: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা–২০২৭, প্রকাশের তারিখ ১৩ অক্টোবর ২০২৬। নীতিমালার মূল PDF এবং সংশ্লিষ্ট ভর্তি বিজ্ঞপ্তি যাচাই করে চূড়ান্ত আবেদনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top