ঢাকা থেকে পঞ্চগড় কিংবা পঞ্চগড় থেকে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের জন্য পঞ্চগড় এক্সপ্রেস অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃনগর ট্রেন। বিশেষ করে রাতে ভ্রমণ করতে চান এমন যাত্রীদের কাছে এই ট্রেনটি বেশ জনপ্রিয়। রাতে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে পরদিন সকালে পঞ্চগড়ে পৌঁছানো যায়।
আপনি যদি পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, টিকেট ও ভাড়া ২০২৬, ট্রেন নম্বর, কোথায় কোথায় থামে, কত সময় লাগে, কোন শ্রেণির আসন রয়েছে এবং অনলাইনে টিকিট কীভাবে কাটবেন—এসব তথ্য একসঙ্গে জানতে চান, তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য।
২০২৬ সালের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের ট্রেন নম্বর ৭৯৩ ও ৭৯৪। ৭৯৩ নম্বর ট্রেনটি ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের দিকে এবং ৭৯৪ নম্বর ট্রেনটি পঞ্চগড় থেকে ঢাকার দিকে চলাচল করে।
গুরুত্বপূর্ণ: ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাত্রার দিন টিকিট কাটার সময় সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত।
পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনের সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ট্রেনের নাম | পঞ্চগড় এক্সপ্রেস |
| ট্রেন নম্বর | ৭৯৩ / ৭৯৪ |
| ট্রেনের ধরন | আন্তঃনগর |
| রুট | ঢাকা ↔ পঞ্চগড় |
| ঢাকা থেকে ছাড়ে | রাত ১১:৩০ মিনিট |
| পঞ্চগড়ে পৌঁছে | সকাল ৯:৫০ মিনিট |
| পঞ্চগড় থেকে ছাড়ে | দুপুর ১২:১০ মিনিট |
| ঢাকায় পৌঁছে | রাত ১০:১০ মিনিট |
| সাপ্তাহিক বন্ধ | নেই |
| যাত্রার ধরন | রাতের আন্তঃনগর সার্ভিস |
পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
ঢাকা থেকে পঞ্চগড় যাওয়ার জন্য পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের ট্রেন নম্বর ৭৯৩। অন্যদিকে পঞ্চগড় থেকে ঢাকায় ফেরার জন্য ট্রেন নম্বর ৭৯৪।
ঢাকা থেকে পঞ্চগড় — ট্রেন নং ৭৯৩
ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস রাতের দিকে যাত্রা শুরু করে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ট্রেনটি রাত ১১:৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে পরদিন সকাল ৯:৫০ মিনিটে পঞ্চগড়ে পৌঁছায়।
প্রধান স্টেশনভিত্তিক সময়সূচী:
| স্টেশন | আগমন | প্রস্থান |
|---|---|---|
| ঢাকা | — | রাত ১১:৩০ |
| ঢাকা বিমানবন্দর | রাত ১১:৫৮ | রাত ১১:৫৮ |
| নাটোর | ভোর ৩:২৭ | ভোর ৩:৩০ |
| সান্তাহার | ভোর ৪:২৫ | ভোর ৪:৩০ |
| জয়পুরহাট | ভোর ৫:০১ | ভোর ৫:০৪ |
| পার্বতীপুর | সকাল ৬:০৫ | সকাল ৬:২৫ |
| দিনাজপুর | সকাল ৬:৫৮ | সকাল ৭:০৩ |
| পীরগঞ্জ | সকাল ৮:০৫ | সকাল ৮:০৮ |
| ঠাকুরগাঁও রোড | সকাল ৮:৩৩ | সকাল ৮:৩৬ |
| পঞ্চগড় | সকাল ৯:৫০ | — |
ঢাকা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত নির্ধারিত যাত্রার সময় প্রায় ১০ ঘণ্টা ২০ মিনিট। তবে কোনো কারণে ট্রেন বিলম্বিত হলে বাস্তব যাত্রার সময় বেশি হতে পারে।
পঞ্চগড় থেকে ঢাকা — ট্রেন নং ৭৯৪
পঞ্চগড় থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফেরার জন্য পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের ট্রেন নম্বর ৭৯৪।
সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনটি পঞ্চগড় থেকে দুপুর ১২:১০ মিনিটে ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রাত ১০:১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।
দীর্ঘ পথের যাত্রা হওয়ায় পঞ্চগড় থেকে ঢাকায় ফেরার ক্ষেত্রে টিকিট আগে থেকে নিশ্চিত করা ভালো।
পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন
পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের কোনো সাপ্তাহিক বন্ধের দিন নেই। অর্থাৎ বর্তমান প্রকাশিত সময়সূচী অনুযায়ী সপ্তাহের সাত দিনই ট্রেনটি চলাচল করে।
তবে বিশেষ পরিস্থিতি, রেলওয়ের পরিচালনাগত সিদ্ধান্ত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বিশেষ কোনো কারণে সাময়িক পরিবর্তন হতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ যাত্রার আগে সর্বশেষ সময়সূচী যাচাই করা উচিত।
পঞ্চগড় এক্সপ্রেস কোথায় কোথায় থামে?
ঢাকা থেকে পঞ্চগড় যাওয়ার পথে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস সব স্টেশনে থামে না। নির্দিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে এর বিরতি রয়েছে।
প্রধান স্টেশনগুলো হলো:
ঢাকা → ঢাকা বিমানবন্দর → নাটোর → সান্তাহার → জয়পুরহাট → পার্বতীপুর → দিনাজপুর → পীরগঞ্জ → ঠাকুরগাঁও রোড → পঞ্চগড়
আপনার গন্তব্য যদি এসব স্টেশনের আশপাশে হয়, তাহলে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস বেশ সুবিধাজনক হতে পারে।
পার্বতীপুরে পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের বিরতি
পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের সময়সূচীতে পার্বতীপুরে তুলনামূলকভাবে বেশি সময়ের বিরতি দেখা যায়।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ট্রেনটি পার্বতীপুরে সকাল ৬:০৫ মিনিটে পৌঁছে ৬:২৫ মিনিটে ছাড়ে।
তবে এই বিরতির সময় ট্রেন থেকে অনেক দূরে যাওয়া উচিত নয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই নিজের আসনে ফিরে আসা নিরাপদ।
পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট ও ভাড়া ২০২৬
পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের টিকিটের ভাড়া আসনের শ্রেণি এবং যাত্রার দূরত্বের ওপর নির্ভর করে। দীর্ঘ পথ হওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণির আসনের ভাড়ার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
২০২৬ সালের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ঢাকা–পঞ্চগড় রুটে বিভিন্ন শ্রেণির ভাড়া নিম্নরূপ পাওয়া যাচ্ছে:
| আসনের শ্রেণি | প্রকাশিত ভাড়া |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৬৩০ টাকা |
| স্নিগ্ধা | ১,২০০ টাকা |
| এসি চেয়ার | ১,৪৪০ টাকা |
| এসি বার্থ | ২,১৫৯ টাকা |
উল্লেখিত ভাড়া অনলাইন প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। টিকিট কেনার সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের সিস্টেমে প্রদর্শিত ভাড়াকে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করুন।
অনলাইন টিকিটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সার্ভিস বা প্রসেসিং চার্জ আলাদাভাবে যুক্ত হতে পারে।
পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের কোন আসন ভালো?
দীর্ঘ প্রায় ১০ ঘণ্টার যাত্রা হওয়ায় আসনের ধরন বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আপনার বাজেট ও আরামের প্রয়োজন অনুযায়ী আসন নির্বাচন করতে পারেন।
শোভন চেয়ার
কম খরচে ঢাকা থেকে পঞ্চগড় যেতে চাইলে শোভন চেয়ার ভালো একটি বাজেট অপশন। যারা খরচ কম রাখতে চান তাদের জন্য এটি উপযোগী।
স্নিগ্ধা
শোভন চেয়ারের তুলনায় কিছুটা বেশি আরাম চান এবং বাজেটও একটু বেশি রাখতে পারেন, তাহলে স্নিগ্ধা বিবেচনা করতে পারেন।
এসি চেয়ার
গরমের সময় দীর্ঘ যাত্রায় তুলনামূলক আরামদায়ক পরিবেশ চাইলে এসি চেয়ার ভালো বিকল্প হতে পারে।
এসি বার্থ
রাতের দীর্ঘ যাত্রায় শুয়ে যেতে চান এমন যাত্রীদের জন্য এসি বার্থ বেশি আরামদায়ক। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এটি বিবেচনা করা যেতে পারে।
পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের অনলাইন টিকিট কাটার নিয়ম
বর্তমানে ট্রেনের টিকিট কেনার অন্যতম সহজ মাধ্যম হলো অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থা। বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম এবং Rail Sheba অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিটের জন্য অনুসন্ধান ও বুকিং করা যায়।
অনলাইনে টিকিট কাটার সাধারণ ধাপগুলো হলো:
১. বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
২. আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। অ্যাকাউন্ট না থাকলে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করুন।
৩. From ঘরে Dhaka এবং To ঘরে Panchagarh নির্বাচন করুন।
৪. আপনার যাত্রার তারিখ নির্বাচন করুন।
৫. ট্রেনের তালিকা থেকে Panchagarh Express নির্বাচন করুন।
৬. উপলব্ধ আসনের শ্রেণি নির্বাচন করুন।
৭. যাত্রীর তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করুন।
৮. নির্ধারিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে টিকিটের মূল্য পরিশোধ করুন।
৯. পেমেন্ট সম্পন্ন হলে ই-টিকিট সংরক্ষণ করুন।
পঞ্চগড় থেকে ঢাকা আসার সময় From হিসেবে Panchagarh এবং To হিসেবে Dhaka নির্বাচন করতে হবে।
টিকিট কাটার আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন
অনলাইনে পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের সময়সূচী খুঁজলে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আলাদা সময় দেখা যেতে পারে। এর অন্যতম কারণ হলো পুরোনো সময়সূচী এখনো অনেক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত থাকা।
উদাহরণস্বরূপ, কিছু পুরোনো তথ্যের মধ্যে ঢাকা থেকে ছাড়ার সময় রাত ১০:৩০ মিনিট বা ১০:৪৫ মিনিট দেখা যায়। আবার সাম্প্রতিক ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী ঢাকা থেকে রাত ১১:৩০ মিনিটে ছাড়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
একইভাবে পঞ্চগড় থেকে ঢাকার সময় নিয়েও অনলাইনে পার্থক্য রয়েছে।
তাই কোনো তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইটের তথ্য দেখে সরাসরি স্টেশনে যাওয়ার পরিবর্তে যাত্রার তারিখে বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ বুকিং তথ্য যাচাই করুন।
পঞ্চগড় এক্সপ্রেসে যাত্রার আগে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস
১. যাত্রার সময় আগে যাচাই করুন
বিশেষ করে রাতের ট্রেন হওয়ায় AM এবং PM নিয়ে ভুল করবেন না। রাত ১১:৩০ মানে ১১:৩০ PM।
২. স্টেশনে আগে পৌঁছান
ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
৩. টিকিটের স্টেশন মিলিয়ে নিন
আপনার টিকিটে ঢাকা নাকি ঢাকা বিমানবন্দর—কোন স্টেশন থেকে ওঠার কথা রয়েছে সেটি ভালোভাবে দেখে নিন।
৪. ই-টিকিট সংরক্ষণ করুন
টিকিটের PDF বা প্রয়োজনীয় তথ্য মোবাইলে সংরক্ষণ করে রাখুন।
৫. মূল্যবান জিনিস নিজের কাছে রাখুন
দীর্ঘ রাতের যাত্রায় মোবাইল, মানিব্যাগ, পরিচয়পত্র ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস সাবধানে রাখুন।
৬. শিশু ও বয়স্কদের জন্য আরামদায়ক আসন বেছে নিন
প্রায় ১০ ঘণ্টার যাত্রা হওয়ায় শিশু বা বয়স্ক যাত্রী থাকলে আসনের ধরন আগে থেকেই বিবেচনা করুন।
৭. মোবাইল চার্জ রাখুন
দীর্ঘ যাত্রায় মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে গেলে যোগাযোগ বা টিকিট দেখানোর ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।
৮. পর্যাপ্ত পানি রাখুন
দীর্ঘ যাত্রার জন্য নিজের সঙ্গে নিরাপদ পানীয় পানি রাখা সুবিধাজনক।
৯. স্টেশনে বিরতির সময় সতর্ক থাকুন
ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে দিতে পারে। তাই বিরতির সময় ট্রেন থেকে অনেক দূরে যাওয়া উচিত নয়।
১০. যাত্রার দিন সর্বশেষ তথ্য দেখুন
ট্রেন বিলম্ব বা সময়সূচীতে পরিবর্তন হলে সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করুন।
পঞ্চগড় এক্সপ্রেস কেন জনপ্রিয়?
পঞ্চগড় বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা। ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় সড়কপথে দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করতে হয়।
পঞ্চগড় এক্সপ্রেস রাতের ট্রেন হওয়ায় অনেক যাত্রী দিনের কাজ শেষ করে রাতে যাত্রা করতে পারেন। ফলে দিনের একটি বড় অংশ ভ্রমণের পেছনে ব্যয় করতে হয় না।
রাতে ট্রেনে ওঠার পর যাত্রীরা বিশ্রাম নিতে পারেন এবং সকালে পঞ্চগড়ে পৌঁছাতে পারেন। এ কারণে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীদের কাছে ট্রেনটি জনপ্রিয়।
ঢাকা থেকে পঞ্চগড় যেতে ট্রেন নাকি বাস?
ঢাকা থেকে পঞ্চগড় যাওয়ার ক্ষেত্রে ট্রেন ও বাস—দুই মাধ্যমেরই সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে।
ট্রেন বেছে নেওয়া সুবিধাজনক হতে পারে যদি:
- রাতে ভ্রমণ করতে চান;
- দীর্ঘ পথ তুলনামূলক আরামে যেতে চান;
- সড়কের যানজট এড়াতে চান;
- পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণ করেন;
- আগে থেকে আসন নিশ্চিত করতে পারেন।
অন্যদিকে আপনার গন্তব্য যদি পঞ্চগড় রেলস্টেশন থেকে অনেক দূরে হয় এবং বাস সরাসরি গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছে দেয়, তাহলে বাস আপনার জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।
পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের সময় নিয়ে কেন বিভ্রান্তি হয়?
অনলাইনে পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের সময়সূচী খুঁজলে একই ট্রেনের জন্য বিভিন্ন সময় দেখতে পাওয়া যায়। এর প্রধান কারণ হলো সময়সূচী পরিবর্তনের পর অনেক ওয়েবসাইট পুরোনো তথ্য আপডেট করে না।
একটি ওয়েবসাইটে পুরোনো সময় থাকলেও অন্য কোনো সাম্প্রতিক উৎসে সংশোধিত সময় থাকতে পারে।
তাই শুধু Google সার্চের প্রথম ফলাফলের ওপর নির্ভর না করে যাত্রার তারিখ অনুযায়ী রেলওয়ের টিকিটিং সিস্টেমে ট্রেনের সময় দেখে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।
পঞ্চগড় এক্সপ্রেস সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন
পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের ট্রেন নম্বর কত?
ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের ট্রেন নম্বর ৭৯৩ এবং পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের নম্বর ৭৯৪।
পঞ্চগড় এক্সপ্রেস সপ্তাহে কয় দিন চলে?
বর্তমান প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের কোনো সাপ্তাহিক বন্ধের দিন নেই। অর্থাৎ সাধারণ সময়সূচী অনুযায়ী সপ্তাহের সাত দিনই চলাচল করে।
ঢাকা থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস কখন ছাড়ে?
সাম্প্রতিক ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী ৭৯৩ নম্বর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে রাত ১১:৩০ মিনিটে ছাড়ে।
পঞ্চগড় এক্সপ্রেস পঞ্চগড়ে কখন পৌঁছায়?
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ঢাকা থেকে ছেড়ে ট্রেনটি সকাল ৯:৫০ মিনিটে পঞ্চগড়ে পৌঁছায়।
পঞ্চগড় থেকে ঢাকা ট্রেন কখন ছাড়ে?
৭৯৪ নম্বর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস পঞ্চগড় থেকে দুপুর ১২:১০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ে।
ঢাকা থেকে পঞ্চগড় যেতে কত সময় লাগে?
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ঢাকা থেকে রাত ১১:৩০ মিনিটে ছেড়ে সকাল ৯:৫০ মিনিটে পঞ্চগড় পৌঁছাতে প্রায় ১০ ঘণ্টা ২০ মিনিট সময় লাগে।
পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের টিকিট অনলাইনে কোথায় কাটব?
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম এবং Rail Sheba অ্যাপের মাধ্যমে টিকিটের জন্য অনুসন্ধান ও বুকিং করা যায়।
পঞ্চগড় এক্সপ্রেসে কোন কোন আসন রয়েছে?
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা, এসি চেয়ার এবং এসি বার্থ শ্রেণির আসনের তথ্য পাওয়া যায়। তবে নির্দিষ্ট দিনে কোন শ্রেণির আসন পাওয়া যাচ্ছে তা বুকিংয়ের সময় যাচাই করতে হবে।
পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের ভাড়া কত?
২০২৬ সালের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ঢাকা–পঞ্চগড় রুটে শোভন চেয়ার ৬৩০ টাকা, স্নিগ্ধা ১,২০০ টাকা, এসি চেয়ার ১,৪৪০ টাকা এবং এসি বার্থ ২,১৫৯ টাকা পর্যন্ত ভাড়ার তথ্য পাওয়া যায়। তবে টিকিট কেনার সময় প্রদর্শিত সর্বশেষ ভাড়াই চূড়ান্ত।
পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের সময়সূচী কি পরিবর্তন হতে পারে?
হ্যাঁ। বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালনাগত সিদ্ধান্ত বা বিশেষ পরিস্থিতির কারণে ট্রেনের সময়সূচী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাত্রার আগে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা উচিত।
শেষ কথা
পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ঢাকা ও পঞ্চগড়ের মধ্যে চলাচলকারী গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তঃনগর ট্রেন। রাতের যাত্রা এবং সকালে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুবিধার কারণে দীর্ঘপথের যাত্রীদের কাছে এটি বেশ কার্যকর।
২০২৬ সালের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী ৭৯৩ নম্বর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে রাত ১১:৩০ মিনিটে ছেড়ে সকাল ৯:৫০ মিনিটে পঞ্চগড়ে পৌঁছায়। আর ৭৯৪ নম্বর ট্রেনটি পঞ্চগড় থেকে দুপুর ১২:১০ মিনিটে ছেড়ে রাত ১০:১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছানোর নির্ধারিত সময় রয়েছে।
তবে অনলাইনে পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের সময়সূচী ও ভাড়ার পুরোনো তথ্য এখনো পাওয়া যেতে পারে। তাই টিকিট কেনার সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
আপনি যদি ঢাকা থেকে পঞ্চগড় যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তাহলে যাত্রার তারিখ অনুযায়ী আগে থেকেই টিকিট সংগ্রহ করুন, ট্রেন নম্বর ৭৯৩/৭৯৪ ভালোভাবে মিলিয়ে নিন এবং ট্রেন ছাড়ার আগে স্টেশনে পৌঁছান। এতে আপনার যাত্রা আরও নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত হবে।


