দিশা এনজিও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ | ৫০০ পদে DISA NGO Job Circular — বেতন, যোগ্যতা ও আবেদন পদ্ধতি

5/5 - (1 vote)

দেশের ক্ষুদ্রঋণ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ডেভেলাপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ ফর সোশাল এডভান্সমেন্ট (দিশা) ২০২৬ সালের জন্য একটি বড় পরিসরের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। মোট ৯টি ক্যাটাগরিতে ৫০০ জন জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে, যেখানে এইচএসসি পাস থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী — সব স্তরের প্রার্থীদের জন্যই সুযোগ রাখা হয়েছে। যারা এনজিও খাতে ক্যারিয়ার গড়তে চান বা মাইক্রোফাইনান্স সেক্টরে অভিজ্ঞতা বাড়াতে চান, তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

এই লেখায় শুধু পদ ও বেতনের তালিকা নয়, বরং আবেদনপত্র কীভাবে লিখবেন, সাক্ষাৎকারে কী প্রশ্ন আসতে পারে, কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত এবং প্রতারণা থেকে নিজেকে কীভাবে রক্ষা করবেন — এসব বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, যাতে আবেদনের আগে-পরে সবদিক থেকেই আপনি প্রস্তুত থাকতে পারেন।

দিশা (DISA) সম্পর্কে বিস্তারিত পরিচিতি

দিশা একটি নিবন্ধিত জাতীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, যার মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) সনদ নম্বর ০১৩০৬-০০৪৮০-০০০২৪। ১৯৯৩ সাল থেকে সংস্থাটি বাংলাদেশের গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচন লক্ষ্যে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রায় তিন দশকের এই যাত্রায় সংস্থাটি বর্তমানে দেশের ১৯টি জেলার ১১১টি শাখা কার্যালয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ, সঞ্চয় সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

মাইক্রোফাইনান্স প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দিশার একটি বিশেষত্ব হলো — এটি শুধু ঋণ কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং কর্মী উন্নয়নেও বিনিয়োগ করে থাকে। দীর্ঘমেয়াদি চাকরির নিরাপত্তা, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও বিভিন্ন কল্যাণমূলক সুবিধা থাকায় এনজিও খাতে ক্যারিয়ার শুরু করতে আগ্রহীদের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান।

দিশা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ — এক নজরে

বিষয়বিবরণ
প্রতিষ্ঠানডেভেলাপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ ফর সোশাল এডভান্সমেন্ট (দিশা)
পদের সংখ্যা৯টি ক্যাটাগরি
মোট জনবল৫০০ জন
ন্যূনতম যোগ্যতাএইচএসসি পাস (সর্বনিম্ন), স্নাতক/স্নাতকোত্তর (উচ্চতর পদের জন্য)
বয়সসীমা২৪ থেকে ৪৫ বছর (পদভেদে)
বেতন সীমা১৬,০০০ থেকে ৫৮,০০৪ টাকা
কর্মস্থল১৯ জেলার ১১১টি শাখায় মাঠ পর্যায়ে
আবেদন মাধ্যমডাকযোগ / কুরিয়ার সার্ভিস (অনলাইন আবেদনের সুযোগ নেই)
নিরাপত্তা জামানত১০,০০০ – ২০,০০০ টাকা (যোগদানের সময়, ফেরতযোগ্য)
আবেদনের শেষ সময়২৫ আগস্ট ২০২৬

পদভিত্তিক যোগ্যতা ও বেতন কাঠামো

দিশার বেতন কাঠামো তিনটি ধাপে বিভক্ত — প্রশিক্ষণকাল, শিক্ষানবীশকাল এবং স্থায়ীকরণ। এই পদ্ধতি অনেক এনজিওতেই অনুসরণ করা হয়, যার অর্থ হলো নিয়োগ পাওয়ার পরপরই সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া যায় না; বরং কর্মদক্ষতা প্রমাণের সাথে সাথে বেতন ধাপে ধাপে বাড়ে। নিচে প্রতিটি পদের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

১. জোনাল ম্যানেজার (পিএম-০৩) — ১০ পদ

সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের এই পদে একাধিক জেলার কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব থাকে। প্রার্থীকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে এবং ঋণ কার্যক্রমে অন্তত ৭ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, যার মধ্যে ২ বছর সংশ্লিষ্ট পদে কাজের অভিজ্ঞতা আবশ্যক। বয়স সর্বোচ্চ ৪৫ বছর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য। বেতন ধাপে ধাপে ৪৮,০০০ থেকে শুরু হয়ে স্থায়ীকরণের পর ৫৮,০০৪ টাকা পর্যন্ত ওঠে — এটি এই সার্কুলারের সর্বোচ্চ বেতনের পদ।

২. এরিয়া ম্যানেজার (এসপিও-০৩) — ২০ পদ

এই পদে একটি নির্দিষ্ট এলাকার একাধিক শাখা তদারকি করতে হয়। স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রিসহ ঋণ কার্যক্রমে মোট ৬ বছরের অভিজ্ঞতা (এর মধ্যে ২ বছর প্রাসঙ্গিক পদে) প্রয়োজন। সর্বোচ্চ বয়স ৪০ বছর। বেতন সীমা ৪০,০০০ থেকে ৪৮,৩৮৬ টাকা।

৩. শাখা ব্যবস্থাপক (পিও-০৩) — ৬০ পদ

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যম-পর্যায়ের পদগুলোর একটি, কারণ শাখা ব্যবস্থাপকই সরাসরি একটি শাখার দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। যেকোনো বিষয়ে স্নাতক/স্নাতকোত্তর, ৫ বছরের অভিজ্ঞতা (২ বছর প্রাসঙ্গিক পদে) ও সর্বোচ্চ ৩৬ বছর বয়স প্রয়োজন। বেতন ৩২,০০০ থেকে ৪৪,০০০ টাকা।

৪. অডিট/মনিটরিং কর্মকর্তা (পিও-০১) — ১০ পদ

আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই পদটি গুরুত্বপূর্ণ। স্বীকৃত মাইক্রোফাইনান্স প্রতিষ্ঠানে অডিট/মনিটরিং কাজে অন্তত ২ বছরসহ মোট ৬ বছরের অভিজ্ঞতা লাগবে। বয়স সর্বোচ্চ ৩৬ বছর। বেতন ৩৬,০০০ থেকে ৪৪,৮৩০ টাকা।

৫. হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (এসসিও-০৩) — ১০০ পদ

সবচেয়ে বেশি শূন্যপদের এই ক্যাটাগরিতে স্নাতক/স্নাতকোত্তর পাস এবং ঋণ কার্যক্রমে ন্যূনতম ২ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষণে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে। বয়স সর্বোচ্চ ৩৫ বছর, বেতন ২২,০০০ থেকে ৩১,০৩২ টাকা।

৬. সিনিয়র ক্রেডিট অফিসার (এসসিও-০৩)

স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের জন্য এই পদ। বয়সসীমা ২৪-৩৫ বছর, বেতন ১৯,০০০ থেকে ২৯,২২০ টাকা। মাঠ পর্যায়ে চলাচলের জন্য সাইকেল বা মোটরসাইকেল চালাতে জানা আবশ্যক।

৭-৯. ক্রেডিট অফিসার (সিও-০১, সিও-০২, সিও-০৩)

এই তিনটি পদ মূলত অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদনযোগ্য এন্ট্রি-লেভেল পজিশন, যা নতুন গ্র্যাজুয়েট ও এইচএসসি পাস প্রার্থীদের জন্য উপযুক্ত।

  • সিও-০১: স্নাতক (সম্মান), বেতন ১৮,০০০-২৮,৪০০ টাকা
  • সিও-০২: স্নাতক/সমমান, বেতন ১৭,০০০-২৭,১৪০ টাকা
  • সিও-০৩: এইচএসসি/সমমান, বেতন ১৬,০০০-২৬,০৬০ টাকা

তিনটি পদেই বয়সসীমা ২৪-৩৫ বছর এবং সাইকেল/মোটরসাইকেল চালানোর দক্ষতা বাধ্যতামূলক।

লক্ষণীয়: ৬ থেকে ৯ নম্বর পদের নির্দিষ্ট শূন্যপদ সংখ্যা মূল সার্কুলারে আলাদাভাবে উল্লেখ নেই — এই পদগুলোর মোট সংখ্যা বাকি ৫টি পদের (১০+২০+৬০+১০+১০০=২০০) বিয়োগফল অনুযায়ী প্রায় ৩০০ জন হতে পারে বলে অনুমান করা যায়। নির্ভুল সংখ্যা জানতে অফিসিয়াল সার্কুলারের ছবি ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত।

যোগ্যতার তুলনামূলক সারণি

পদের নামন্যূনতম যোগ্যতাঅভিজ্ঞতাবয়সসীমা
জোনাল ম্যানেজারস্নাতক/স্নাতকোত্তর৭ বছরসর্বোচ্চ ৪৫
এরিয়া ম্যানেজারস্নাতক/স্নাতকোত্তর৬ বছরসর্বোচ্চ ৪০
শাখা ব্যবস্থাপকস্নাতক/স্নাতকোত্তর৫ বছরসর্বোচ্চ ৩৬
অডিট/মনিটরিং কর্মকর্তাস্নাতক/স্নাতকোত্তর৬ বছরসর্বোচ্চ ৩৬
হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাস্নাতক/স্নাতকোত্তর২ বছরসর্বোচ্চ ৩৫
সিনিয়র ক্রেডিট অফিসারস্নাতকোত্তরনেই২৪-৩৫
ক্রেডিট অফিসার (সিও-০১)স্নাতক সম্মাননেই২৪-৩৫
ক্রেডিট অফিসার (সিও-০২)স্নাতক/সমমাননেই২৪-৩৫
ক্রেডিট অফিসার (সিও-০৩)এইচএসসি/সমমাননেই২৪-৩৫

বেতন কাঠামো কীভাবে কাজ করে — বিস্তারিত ব্যাখ্যা

অনেক প্রার্থী বিভ্রান্ত হন এই ভেবে যে সার্কুলারে উল্লেখিত সর্বোচ্চ বেতনটাই বুঝি শুরুতে পাওয়া যাবে। বাস্তবে দিশার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে তিনটি ধাপ থাকে:

  1. প্রশিক্ষণকাল (Training Period): সাধারণত ৩-৬ মাস, এই সময়ে সর্বনিম্ন বেতন প্রযোজ্য হয় এবং কর্মীকে সংস্থার কার্যপ্রণালী শেখানো হয়।
  2. শিক্ষানবীশকাল (Probation Period): প্রশিক্ষণ শেষে সাধারণত ৬ মাস থেকে ১ বছরের এই সময়ে বেতন কিছুটা বাড়ে, তবে চাকরি এখনও স্থায়ী হয় না।
  3. স্থায়ীকরণ (Confirmation): কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের পর চাকরি স্থায়ী হলে সর্বোচ্চ বেতন কার্যকর হয়, সাথে যুক্ত হয় প্রভিডেন্ট ফান্ড ও অন্যান্য সুবিধা।

এই কাঠামো বোঝা থাকলে প্রার্থী বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা নিয়ে আবেদন করতে পারবেন এবং শুরুর দিকে বেতন কম হলেও হতাশ হবেন না।

বেতনের বাইরে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা

  • স্থায়ীকরণের ৫ বছর পর গ্র্যাচুইটিসহ প্রভিডেন্ট ফান্ড সুবিধা
  • বছরে দুটি উৎসব ভাতা ও একটি বাংলা নববর্ষ ভাতা
  • বার্ষিক ছুটি: ১২ দিন নৈমিত্তিক, ২০ দিন অর্জিত, ১৫ দিন মেডিকেল, ৬ মাস মাতৃত্বকালীন, ৭ দিন পিতৃত্বকালীন
  • স্বাস্থ্য চিকিৎসা ও জীবন বীমা সুবিধা
  • স্বল্প ভাড়ায় একক আবাসন
  • মোটরসাইকেল ঋণ ও জ্বালানি বিল সুবিধা
  • বিবাহভাতা ও লং সার্ভিস বেনিফিট
  • কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে বার্ষিক প্রণোদনা ও পদোন্নতি

মাঠ পর্যায়ের এনজিও চাকরিতে এই ধরনের সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলকভাবে ভালো মানের বলে বিবেচিত হয়, বিশেষত যারা দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়তে চান তাদের জন্য।

আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের চেকলিস্ট

আবেদন পাঠানোর আগে নিচের তালিকা অনুযায়ী কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন যাতে শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করতে না হয়:

  • [ ] হাতে লেখা বা টাইপ করা আবেদনপত্র (মোবাইল নম্বরসহ)
  • [ ] সকল শিক্ষাগত সনদের সত্যায়িত ফটোকপি
  • [ ] জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
  • [ ] সদ্য তোলা ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি
  • [ ] বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপি (প্রযোজ্য পদের ক্ষেত্রে)
  • [ ] অভিজ্ঞতা সনদ (যেসব পদে অভিজ্ঞতা আবশ্যক)
  • [ ] একটি শক্তপোক্ত খাম, যার উপরে পদের নাম স্পষ্টভাবে লেখা

আবেদন করার ধাপে ধাপে পদ্ধতি

  1. প্রথমে নিশ্চিত করুন আপনি যে পদে আবেদন করছেন তার যোগ্যতা ও বয়সসীমা পূরণ করছেন কিনা।
  2. উপরের চেকলিস্ট অনুযায়ী সব কাগজপত্র সংগ্রহ ও সত্যায়িত করে নিন।
  3. আবেদনপত্রে নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আবেদনকৃত পদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।
  4. সব কাগজপত্র একসাথে সংযুক্ত করে খামে ভরুন এবং খামের উপরে পদের নাম বড় অক্ষরে লিখুন।
  5. নিচের ঠিকানায় ডাকযোগে বা কুরিয়ারে পাঠান:
    পরিচালক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন), দিশা, ই/১০, বর্ধিত পল্লবী, মিরপুর সাড়ে এগারো, ঢাকা-১২১৬।
  6. আবেদনপত্র যেন ২৫ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে অফিসে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করুন — ডাকে সাধারণত ২-৩ দিন সময় লাগে, তাই শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করাই ভালো।

আবেদনপত্রের সংক্ষিপ্ত নমুনা কাঠামো

যারা আবেদনপত্র কীভাবে সাজাবেন বুঝতে পারছেন না, তাদের জন্য নিচে একটি সংক্ষিপ্ত কাঠামো দেওয়া হলো:

তারিখ: [তারিখ]

বরাবর,
পরিচালক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন)
দিশা
ই/১০, বর্ধিত পল্লবী, মিরপুর সাড়ে এগারো, ঢাকা-১২১৬

বিষয়: [পদের নাম] পদে চাকরির জন্য আবেদন।

জনাব,
সবিনয় নিবেদন এই যে, পত্রিকায়/অনলাইনে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আমি উপরিউক্ত পদে আবেদন করতে ইচ্ছুক। আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স ও অন্যান্য যোগ্যতা বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী পূরণ করে। প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্রের সত্যায়িত কপি এতদসঙ্গে সংযুক্ত করা হলো।

অতএব, আমাকে উক্ত পদে নিয়োগদানে আপনার একান্ত মর্জি হয়।

বিনীত নিবেদক
নাম: [আপনার নাম]
মোবাইল: [নম্বর]
ঠিকানা: [পূর্ণ ঠিকানা]

সাক্ষাৎকারের জন্য প্রস্তুতি টিপস

মাঠ পর্যায়ের এনজিও চাকরির সাক্ষাৎকারে সাধারণত নিচের বিষয়গুলোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়:

  • যোগাযোগ দক্ষতা: গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সাথে সহজে কথা বলতে ও বোঝাতে পারার সক্ষমতা যাচাই করা হয়।
  • মাঠ কাজের প্রস্তুতি: আপনি নিয়মিত মাঠে গিয়ে কাজ করতে ইচ্ছুক কিনা, বাড়ি থেকে দূরে থাকতে সমস্যা হবে কিনা — এসব প্রশ্ন সাধারণ।
  • মোটরসাইকেল/সাইকেল চালনা: যেসব পদে বাধ্যতামূলক, সেখানে বাস্তবে চালিয়ে দেখানোর জন্য প্রস্তুত থাকুন।
  • হিসাব-নিকাশে সাবলীলতা: ঋণ বিতরণ ও আদায় সংক্রান্ত সাধারণ গাণিতিক প্রশ্ন আসতে পারে।
  • মাইক্রোফাইনান্স সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা: ক্ষুদ্রঋণ কীভাবে কাজ করে, সঞ্চয় ও কিস্তি আদায়ের প্রাথমিক ধারণা রাখা ভালো।
  • দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি: যেহেতু কমপক্ষে ২ বছর চাকরির অঙ্গীকারনামা দিতে হয়, তাই আপনি কেন দীর্ঘমেয়াদে থাকতে চান তা স্পষ্টভাবে বলার প্রস্তুতি রাখুন।

এনজিও ক্যারিয়ারে দিশাকে কেন বিবেচনা করবেন

যারা ব্যাংকিং বা মাইক্রোফাইনান্স সেক্টরে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য ক্রেডিট অফিসার পদ থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে শাখা ব্যবস্থাপক, এরিয়া ম্যানেজার এমনকি জোনাল ম্যানেজার পর্যন্ত পদোন্নতির বাস্তবসম্মত পথ থাকা একটি বড় সুবিধা। তিন দশকের পুরনো প্রতিষ্ঠান হিসেবে দিশার কাঠামোগত স্থিতিশীলতা এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, স্বাস্থ্যবীমার মতো সুবিধা নতুন প্রার্থীদের জন্য আকর্ষণীয়। পাশাপাশি, ১৯টি জেলায় শাখা থাকায় নিজের এলাকার কাছাকাছি কর্মস্থল পাওয়ার সম্ভাবনাও তুলনামূলক বেশি।

সাধারণ যেসব ভুল আবেদনকারীরা করে থাকেন

  • অসম্পূর্ণ কাগজপত্র পাঠানো: সত্যায়িত কপি ছাড়া আবেদন পাঠালে তা বাতিল হতে পারে।
  • খামে পদের নাম না লেখা: এতে আবেদন ভুল বিভাগে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
  • শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা করা: ডাকযোগে সময় লাগে বলে শেষ দিন আবেদন পাঠালে তা নির্ধারিত সময়ের পরে পৌঁছাতে পারে।
  • বয়স ও যোগ্যতা যাচাই না করে আবেদন করা: ভুল পদে আবেদন করলে সাক্ষাৎকারেই বাদ পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • মোটরসাইকেল/সাইকেল চালাতে না জেনে আবেদন করা: যেসব পদে এটি বাধ্যতামূলক, সেখানে এই দক্ষতা ছাড়া আবেদন করা সময়ের অপচয় মাত্র।

প্রতারণা এড়িয়ে চলার উপায়

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেই একশ্রেণির প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে, যারা “চাকরি পাইয়ে দেওয়ার” নামে অগ্রিম টাকা দাবি করে। এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মনে রাখা জরুরি:

  • নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ার আগে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো টাকা দেবেন না।
  • নিরাপত্তা জামানত শুধুমাত্র যোগদানের সময়, সংস্থার অফিসিয়াল প্রক্রিয়ায়, রশিদসহ জমা দেওয়া হয় — কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নয়।
  • কেউ যদি সাক্ষাৎকারের আগে টাকার বিনিময়ে চাকরি নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দেয়, তা সরাসরি প্রতারণা হিসেবে ধরে নিতে হবে।
  • সন্দেহজনক কিছু মনে হলে সরাসরি দিশার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা কার্যালয়ে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়ে নিন।
  • যেকোনো ধরনের লেনদেনের ঝুঁকি সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তির নিজের, প্রতিষ্ঠান বা তৃতীয় কোনো ওয়েবসাইট এর দায় বহন করবে না।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)

১. দিশা নিয়োগে আবেদনের শেষ তারিখ কবে?
আবেদনপত্র ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে ডাকযোগে বা কুরিয়ারে অফিসে পৌঁছাতে হবে।

২. অভিজ্ঞতা ছাড়া কি আবেদন করা যাবে?
হ্যাঁ, ক্রেডিট অফিসার (সিও-০১, সিও-০২, সিও-০৩) পদে অভিজ্ঞতা ছাড়াই এইচএসসি/স্নাতক/স্নাতকোত্তর পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

৩. অনলাইনে আবেদন করা যাবে কি?
না, এই সার্কুলার অনুযায়ী শুধুমাত্র ডাকযোগে বা কুরিয়ারে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে; কোনো অনলাইন আবেদন ফরম নেই।

৪. নিরাপত্তা জামানত কত টাকা এবং কখন দিতে হবে?
পদভেদে ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা, যা যোগদানের সময় জমা দিতে হয় এবং চাকরি শেষে ফেরতযোগ্য।

৫. মোটরসাইকেল বা সাইকেল চালানো কি বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ, মাঠ পর্যায়ের প্রায় সব পদের জন্যই এটি আবশ্যক শর্ত।

৬. নারী প্রার্থীরা কি আবেদন করতে পারবেন?
সার্কুলারে নির্দিষ্টভাবে লিঙ্গভিত্তিক কোনো বাধা উল্লেখ নেই, তবে মাঠ পর্যায়ের কাজ ও ভ্রমণ সংক্রান্ত শর্তগুলো ভালোভাবে যাচাই করে আবেদন করা উচিত।

৭. চাকরিতে কমপক্ষে কতদিন থাকার অঙ্গীকার করতে হয়?
নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অন্তত ২ বছর চাকরি করার অঙ্গীকারনামা দিতে হয়।

৮. আবেদনপত্রের সাথে কী কী কাগজ পাঠাতে হবে?
আবেদনপত্র, সত্যায়িত শিক্ষাগত সনদ, NID ফটোকপি, ২ কপি ছবি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স।

৯. কোন পদে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হবে?
হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (এসসিও-০৩) পদে সর্বোচ্চ ১০০ জন নিয়োগ দেওয়া হবে, যা এই সার্কুলারের সবচেয়ে বড় ক্যাটাগরি।

১০. নিয়োগ পাওয়ার পর কোথায় পোস্টিং হতে পারে?
সংস্থার ১৯টি জেলার ১১১টি শাখার যেকোনো একটিতে পোস্টিং হতে পারে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।

যোগাযোগের ঠিকানা

📍 কার্যালয়: দিশা, ই/১০, বর্ধিত পল্লবী, মিরপুর সাড়ে এগারো, ঢাকা-১২১৬
🌐 ওয়েবসাইট: www.disabd.org

শেষ কথা

দিশার এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এইচএসসি পাস থেকে স্নাতকোত্তর — বিভিন্ন যোগ্যতার প্রার্থীদের জন্য একসাথে সুযোগ নিয়ে এসেছে, যা তুলনামূলকভাবে বিরল। যোগ্যতা মিলে গেলে দেরি না করে আজই কাগজপত্র প্রস্তুত করে আবেদন পাঠানো শুরু করুন, কারণ ডাকযোগে আবেদন পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। আবেদনের আগে অবশ্যই অফিসিয়াল সার্কুলারের ছবি ভালোভাবে পড়ে নিশ্চিত হয়ে নিন, এবং কোনো প্রকার লেনদেনের ফাঁদে পা দেবেন না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

🔥 জনপ্রিয় গ্রুপ

হাজারো মানুষ ইতিমধ্যে যুক্ত আছেন

আমাদের Facebook গ্রুপে জয়েন করুন

নিয়মিত আপডেট, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নোটিফিকেশন সবার আগে পেতে এখনই যুক্ত হোন

Join Now
Scroll to Top