২৫০ পদে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬

আইন বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে অনেকেই স্বপ্ন দেখেন বিচার বিভাগে প্রবেশ করার — একজন সহকারী জজ বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দেশের বিচারিক কাঠামোর অংশ হওয়ার। বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন (BJSC) সম্প্রতি এই স্বপ্নপূরণের একটি বড় সুযোগ নিয়ে এসেছে। কমিশন ২৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে ঊনবিংশ (১৯শ) বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, যেখানে প্রবেশ পর্যায়ের সহকারী জজ (সিভিল জজ) পদে মোট ২৫০ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। এই লেখায় বিজ্ঞপ্তির খুঁটিনাটি, যোগ্যতা, পরীক্ষা পদ্ধতি, আবেদন প্রক্রিয়া এবং প্রস্তুতির দিকনির্দেশনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

সূচিপত্র

বিজ্ঞপ্তির সারসংক্ষেপ

বিষয়তথ্য
প্রতিষ্ঠানবাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন (BJSC)
পরীক্ষার নামঊনবিংশ (১৯শ) বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা ২০২৬
পদের নামসহকারী জজ (সিভিল জজ – প্রবেশ পদ)
মোট শূন্যপদ২৫০ জন
শিক্ষাগত যোগ্যতাআইনে স্নাতক (সম্মান)/স্নাতকোত্তর
বয়সসীমাসর্বোচ্চ ৩২ বছর (০১ জুলাই ২০২৬ অনুযায়ী)
আবেদনযোগ্য জেলাবাংলাদেশের সব জেলা
বেতনক্রম৩০,৯৩৫–৬৪,৪৩০ টাকা (বিজেএসসি স্কেল, ২০১৬)
আবেদন ফি১,২০০ টাকা
আবেদন শুরু০৬ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১২:০০টা
আবেদনের শেষ সময়০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:৫৯টা
ফি জমার শেষ সময়০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:৫৯টা
আবেদনের মাধ্যমঅনলাইন, bjsc.gov.bd

বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন সম্পর্কে

বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন হলো একটি সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, যার মূল দায়িত্ব হলো নিম্ন আদালতের বিচারক তথা সহকারী জজ ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা। কমিশনের অধীনে থাকা পরীক্ষা নিয়ামকের দপ্তর প্রতিবছর প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করে থাকে, যাতে বিচার বিভাগে দক্ষ ও যোগ্য জনবল প্রবেশ করতে পারে।

  • অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: www.bjsc.gov.bd
  • কার্যালয়: বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়, ১৫ কলেজ রোড, ঢাকা-১০০০
  • যোগাযোগ নম্বর: ০২-৪১০৫২৩০৫

পদের নাম ও বেতন কাঠামো

এই বিজ্ঞপ্তিতে একটি মাত্র পদের জন্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে — সহকারী জজ, যা বিচার বিভাগে প্রবেশ পর্যায়ের পদ হিসেবে পরিচিত এবং একে সিভিল জজ পদবিতেও উল্লেখ করা হয়। এই পদে সাফল্যের সাথে নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীরা পরবর্তীতে বিভিন্ন পদোন্নতির ধাপ পার করে জেলা জজ পর্যন্ত পদোন্নতি পাওয়ার সুযোগ পান।

পদের নামপদসংখ্যাবেতনস্কেল
সহকারী জজ (সিভিল জজ)২৫০৩০,৯৩৫–৬৪,৪৩০ টাকা (বিজেএসসি স্কেল ২০১৬)

শিক্ষাগত যোগ্যতা

আবেদনের জন্য প্রার্থীর নিম্নোক্ত যেকোনো একটি শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে:

  • বাংলাদেশের কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অথবা আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি।
  • অথবা বিদেশের কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিন বছর মেয়াদি স্নাতকসহ আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি।
  • স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএ থাকতে হবে (শতকরা হিসেবে অন্তত ৮০% মানের সমতুল্য গ্রেডিং স্কেলে)।
  • যেসব প্রার্থীর আইন বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর চূড়ান্ত পরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি কিন্তু পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন (Appeared), তারাও শর্তসাপেক্ষে আবেদন করতে পারবেন — তবে আবেদনের শেষ তারিখের মধ্যে ফলাফল প্রকাশিত হওয়া আবশ্যক।

বয়সসীমা

০১ জুলাই ২০২৬ তারিখ ভিত্তি ধরে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর হতে হবে। বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে একমাত্র মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) বা সমমানের সনদে উল্লেখিত জন্মতারিখ গ্রহণযোগ্য হবে; কোনো এফিডেভিট বা হলফনামা এক্ষেত্রে বিবেচিত হবে না।

জেলাভিত্তিক আবেদনযোগ্যতা

এই নিয়োগে কোনো নির্দিষ্ট জেলার কোটা রাখা হয়নি — বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার যেকোনো যোগ্য প্রার্থীই আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ জন্মস্থান বা স্থায়ী ঠিকানার ভিত্তিতে কেউ আবেদন থেকে বঞ্চিত হবেন না।

পরীক্ষা পদ্ধতি ও নম্বর বণ্টন

বিজেএসসির নিয়োগ প্রক্রিয়া তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়:

১. প্রিলিমিনারি (এমসিকিউ) পরীক্ষা — ১০০ নম্বর

  • মোট ১০০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন থাকবে, সময় বরাদ্দ থাকবে ১ ঘণ্টা।
  • ভুল উত্তরের জন্য প্রতিটিতে ০.২৫ নম্বর কর্তন করা হবে।
  • উত্তীর্ণ হতে ন্যূনতম ৫০ নম্বর পেতে হবে।
  • বিষয়সমূহ: বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, গাণিতিক যুক্তি, সাধারণ বিজ্ঞান, মানসিক দক্ষতা (Intelligence) এবং আইন।
  • প্রিলিমিনারিতে প্রাপ্ত নম্বর চূড়ান্ত মেধাতালিকায় যুক্ত হয় না; এটি শুধু লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করে।

২. লিখিত পরীক্ষা — ১০০০ নম্বর

  • প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই লিখিত পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন।
  • উত্তীর্ণ হতে গড়ে অন্তত ৫০% নম্বর পেতে হবে।
  • কোনো একটি একক বিষয়ে ৩০%-এর কম নম্বর পেলে সামগ্রিক ফলাফল নির্বিশেষে অকৃতকার্য বলে গণ্য হবেন।

৩. মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা — ১০০ নম্বর

  • লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হবে।
  • উত্তীর্ণ হতে ন্যূনতম ৫০ নম্বর প্রয়োজন।
  • ভাইভা বোর্ডে সনদপত্রের মূল কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র, নাগরিকত্ব সনদ ও সদ্য তোলা সত্যায়িত ছবি জমা দিতে হয়।

আবেদন প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে

  1. প্রথমে bjsc.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে E-Application অপশনে যেতে হবে।
  2. সেখান থেকে BJSC Form I নির্বাচন করে আবেদন ফরম পূরণ শুরু করতে হবে।
  3. নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্মতারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ সব তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে।
  4. নির্ধারিত মাপের সাম্প্রতিক রঙিন ছবি ও স্বাক্ষর স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
  5. সব তথ্য পুনরায় যাচাই করে ফরম সাবমিট করে প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ করতে হবে।

ফি জমাদান পদ্ধতি

আবেদন ফি বাবদ মোট ১,২০০ টাকা টেলিটক প্রি-পেইড সিম থেকে দুটি এসএমএসের মাধ্যমে জমা দিতে হয়:

  • প্রথম এসএমএস: BJSC <space> User ID লিখে পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে।
  • দ্বিতীয় এসএমএস: BJSC <space> YES <space> PIN লিখে পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে।

ফি জমা দেওয়ার সঠিক ফরম্যাট আবেদনপত্রের Applicant’s Copy-তে উল্লেখ থাকে, তাই সেটি অনুসরণ করাই নিরাপদ। ফি জমা না হওয়া পর্যন্ত আবেদন সম্পূর্ণ বলে গণ্য হয় না।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ

ঘটনাতারিখ
বিজ্ঞপ্তি জারি২৩ জুলাই ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ (দৈনিক আমার দেশ)২৪ জুলাই ২০২৬
আবেদন শুরু০৬ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১২:০০টা
আবেদনের শেষ তারিখ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:৫৯টা
ফি জমার শেষ সময়০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:৫৯টা
প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়অক্টোবর ২০২৬-এর প্রথম সপ্তাহ

শেষ মুহূর্তের সার্ভার জটিলতা এড়াতে শেষ তারিখের অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

প্রস্তুতির পরামর্শ

  • বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করুন: পূর্ববর্তী বিজেএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে প্রশ্নের ধরন ও কঠিনতার স্তর বুঝে নিন।
  • আইনের মূল বই থেকে পড়ুন: সংবিধান, দণ্ডবিধি, দেওয়ানি কার্যবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি, চুক্তি আইন ও সাক্ষ্য আইনের মূল ধারাগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করুন।
  • নিয়মিত কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স চর্চা করুন: বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কিত অংশে ভালো করতে নিয়মিত পত্রিকা ও নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুসরণ করুন।
  • রচনামূলক লেখার চর্চা করুন: যেহেতু লিখিত পরীক্ষার নম্বর সবচেয়ে বেশি (১০০০), নিয়মিত হাতে লিখে সময় ধরে অনুশীলন করা জরুরি।
  • মক ভাইভা দিন: লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর মৌখিক পরীক্ষার জন্য অভিজ্ঞ শিক্ষক বা সিনিয়রদের সাথে মক ইন্টারভিউর অনুশীলন করুন।
  • সব তথ্য সত্য দিন: আবেদনপত্রে কোনো ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিলে চূড়ান্ত ফলাফলের আগে বা পরে যেকোনো সময় প্রার্থিতা ও নিয়োগ বাতিল হতে পারে, সাথে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
  • কর্মরত প্রার্থীদের সতর্কতা: সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রার্থীদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আবেদন করতে হবে এবং ভাইভা বোর্ডে অনাপত্তিপত্র জমা দিতে হবে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ১৯শ বিজেএস পরীক্ষায় মোট কতজন নিয়োগ পাবেন?
সহকারী জজ পদে মোট ২৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

২. আবেদনের শেষ তারিখ কবে?
আবেদন ফরম পূরণের শেষ সময় ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:৫৯টা এবং ফি জমার শেষ সময় ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

৩. বয়সসীমা কত?
০১ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর হতে হবে।

৪. আবেদন ফি কত?
মোট ১,২০০ টাকা, যা টেলিটক সিমের মাধ্যমে দুটি এসএমএস পাঠিয়ে জমা দিতে হয়।

৫. চূড়ান্ত পরীক্ষায় অবতীর্ণ (Appeared) প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন কি?
হ্যাঁ, শর্ত সাপেক্ষে পারবেন — আবেদনের শেষ তারিখের মধ্যে ফলাফল প্রকাশিত হতে হবে।

৬. প্রিলিমিনারি পরীক্ষা কবে হতে পারে?
সম্ভাব্য সময় হলো অক্টোবর ২০২৬-এর প্রথম সপ্তাহ, তবে চূড়ান্ত সময়সূচি কমিশনের এডমিট কার্ড বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হবে।

৭. কোনো জেলাভিত্তিক কোটা আছে কি?
না, বাংলাদেশের সব জেলার প্রার্থীই সমানভাবে আবেদন করতে পারবেন।


দ্রষ্টব্য: এই তথ্যগুলো ২৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। আবেদনের পূর্বে অবশ্যই বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (bjsc.gov.bd) থেকে মূল বিজ্ঞপ্তিটি যাচাই করে নিন, কেননা যেকোনো তথ্যে পরিবর্তন আসতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top